kalerkantho

বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি

কুড়িগ্রামে ফুলের বাণিজ্যিক চাষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রামে ফুলের বাণিজ্যিক চাষ

কুড়িগ্রামে নিজের নার্সারিতে রাজারহাট উপজেলার ফুলচাষি মরিয়ম বেগম। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে ফুলের চাষ। এসব ফুল স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণের যৌথ উদ্যোগে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কৃষকদের ফুল চাষে উৎসাহ দিতে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাসহ দিচ্ছে নানা সহায়তা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ফুল চাষ জেলার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে নার্সারি পর্যায়ে স্বল্প পরিসরে কিছু ফুল চাষ ও চারা উৎপাদন হলেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয় এবারই প্রথম। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাসহ, রাজারহাট, ফুলবাড়ী এবং নাগেশ্বরী উপজেলায় কয়েকজন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে এ ফুল চাষ শুরু করেছে। এতে করে অন্যান্য ফসলের চেয়ে অল্প সময়ে বেশি মুনাফাও পেয়েছে তারা।

ফুল চাষি রফিকুল জানান, যশোর থেকে আনা রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, চন্দ্র মল্লিকা, ক্যাবেজ, গোলাপের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত গাঁদা, প্রজাপতিসহ বিভিন্ন জাতের উন্নত মানের ফুল চাষ হচ্ছে কুড়িগ্রামে।

রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের কৃষক মরিয়ম বেগম জানান, জেলা প্রশাসক ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় চার মাস আগে ১৬ শতক জমিতে ফুল চাষ শুরু করেন। তাঁর বাগানে আট জাতের গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদাসহ নানা জাতের ফুল উৎপাদন শুরু হয়েছে। কুড়িগ্রাম শহরের চালেমী পুষ্পঘর, মা ফুল ঘরসহ বিভিন্ন ফুল বিক্রেতা তার নার্সারি থেকে ফুল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকরাও সরাসরি কিনছেন ফুল। এ পর্যন্ত ১২ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের তালুককালোয়া গ্রামের কৃষক মো. শাহজাহান ২০ শতক জমিতে ফুল চাষ করেছেন।

রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বুলু জানান, পরীক্ষামূলকভাবে তাঁর ইউনিয়নের ছিনাই গ্রামে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বাণিজ্যিকভিত্তিতে ফুল চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রণোদনাসহ মাঠ দিবসের মাধ্যমে উৎসাহী করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান জানান, ধান, গম, পাট ও সবজি জাতীয় ফসলের পাশাপাশি জেলায় ফুল চাষ ছড়িয়ে দিতে পারলে একদিকে যেমন লাভবান হবেন কৃষক অন্যদিকে কৃষি অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা।

জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া ফুল চাষের উপযোগী হওয়ায় অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কৃষকরা ব্যাপক হারে ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছে। বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ফুল চাষ জেলার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে তিনি মনে করেন।

 

 

মন্তব্য