kalerkantho


চুয়াডাঙ্গায় বিষমুক্ত বেগুন চাষে উৎসাহী অনেকেই

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



চুয়াডাঙ্গায় বিষমুক্ত বেগুন চাষে উৎসাহী অনেকেই

চুয়াডাঙ্গায় বিষমুক্ত সবজি বাগান। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেগুনে সবচেয়ে বেশি বিষ দিতে হয়। সেই ধারণা বদলে যাচ্ছে। পুরোপুরি বিষমুক্ত বেগুন চাষ শুরু হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের কৃষক আজিজুল হক তাঁর ক্ষেত নেট দিয়ে ঘিরে পুরোপুরি বিষমুক্ত বেগুন চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভালো। এতে উৎসাহী হয়েছেন গ্রামের অন্য কৃষকরা। তাঁরা বলছেন, ভবিষ্যতে তাঁরাও বিষমুক্ত বেগুনের আবাদ করবেন।

নেট দিয়ে ঘিরে বেগুন চাষের ব্যাপারে কৃষক আজিজুল হককে উৎসাহী করেছে আন্তর্জাতিক সার উন্নয়ন কেন্দ্র (আইএফডিসি)। ওয়ালমার্ট ফাউন্ডেশনের সবজি উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ (এভিপিআই) প্রকল্পের আওতায় নেটঘেরা ঘরে সবজি উৎপাদনের পদ্ধতি শেখানো হয়। সুবদিয়া গ্রামের মাঠে নেটঘেরা এবং নেট ছাড়া দুটি ক্ষেত তৈরি করা হয়। দুটি ক্ষেতেই একই সঙ্গে বেগুনের আবাদ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দুটি ক্ষেত থেকেই বেগুন তুলে কৃষকদের দেখানো হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পদ্মবিলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের।

অতিথি ছিলেন আইএফডিসির মাঠ সমন্বয়কারী কৃষিবিদ মীর আব্দুল মান্নান, আইএফডিসির ফিল্ড মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ আলমগীর রশিদ ও সদর উপজেলার খেজুরা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কৃষক আজিজুল হক, ইউনুস আলী ও কিষানি রুমি খাতুন। কৃষক-কৃষাণিরা বলেন, পলিনেটে থাকা বেগুন তরতাজা, সতেজ ও বিষমুক্ত। পলিনেটের বাইরের বেগুন অতটা তরতাজা নয়, বিষমুক্তও নয়।

আয়োজকরা জানান, এখন চুয়াডাঙ্গা জেলার মাঠে মাঠে শীতের সবজি। এই পদ্ধতিতে শুধু বেগুন নয়, অন্যান্য সবজিও চাষাবাদ করা যাবে। বিষমুক্ত ও তরতাজা সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে পলিনেট ব্যবহারের সুবিধা হাতে-কলমে দেখানোর জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ উদ্যোগ কৃষকদের আকৃষ্ট করেছে।

এ আয়োজনে কৃষক-কৃষাণিদের হাতে লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদনের কৌশল দেখানো হয়। মাঠে হাতে-কলমের কাজ শেষে আলোচনা সভায় কৃষক-কৃষাণিরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

তাঁরা বলেন, ‘পলিনেট ব্যবহারের উপকারিতা আমরা বুঝতে পেরেছি। পলিনেট ব্যবহার করা না করার পার্থক্য মাঠে গিয়ে নিজেরা দেখে বুঝেছি। আমরা জেনেছি, সবজি চাষাবাদে পলিনেট ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই পাওয়া যাবে বিষমুক্ত সবজি।’ চাষাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা কৃষক-কৃষাণিরা বলেন, পলিনেটের বাইরের ক্ষেতে বিষ ও সেচ খরচ বেশি হয়েছে। পলিনেট ঘেরা ক্ষেতে বিষ দিতে হয়নি। সেচ দিতে হয়েছে কম।



মন্তব্য