kalerkantho


উদ্যোক্তা

পণ্য পরিবহন খরচ কমিয়ে দিচ্ছে ‘এম্পটি ট্রিপস’

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



পণ্য পরিবহন খরচ কমিয়ে দিচ্ছে ‘এম্পটি ট্রিপস’

বেনজি কোয়েটজি, সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা, এম্পটি ট্রিপস

একটি আইডিয়া বদলে দিচ্ছে আফ্রিকার পণ্য পরিবহন খাত, অর্থ সাশ্রয়ে স্বস্তি দিয়েছে ব্যবসায়ীদের। উদ্ভাবনী স্টার্টআপ ‘এম্পটি ট্রিপস’ আফ্রিকার প্রথম অনলাইন পরিবহন মার্কেটপ্লেস। পণ্যের প্রেরক ও পণ্যবাহীর মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানো এ প্রতিষ্ঠানের কাজ। এতে একদিকে উদ্যোক্তাদের অর্থ সাশ্রয়, অন্যদিকে পণ্যবাহী গাড়ির সক্ষমতার অপচয় হ্রাস। চমৎকার এ আইডিয়ার মাধ্যমে আফ্রিকার পরিবন খাতে ডিজিটাইজেশন ঘটিয়েছেন এম্পটি ট্রিপসের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা বেনজি কোয়েটজি।

এম্পটি ট্রিপসের কাজ কী? পণ্য পরিবহনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পণ্যবোঝাই ট্রাক বা গাড়ি নিয়ে গন্তব্যে গেলে তাদের শূন্য গাড়ি নিয়েই ফেরত আসতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়। এম্পটি ট্রিপসের কাজ হচ্ছে, পণ্য পরিবহনকারী যাতে গন্তব্য থেকে খালি ফেলত আসতে না হয় তার জন্য আরেকটি ট্রিপের ব্যবস্থা করে দেওয়া। এর পাশাপাশি একটি পণ্যবাহী গাড়ির যতটুকু সক্ষমতা আছে, ততটুকু মালপত্র নিয়ে যাতে যেতে পারে, সে ব্যবস্থাও করা। উদাহরণ দিয়ে দেখা যাক, একজন ব্যক্তি ছয় টন পণ্য একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠাবেন; কিন্তু ট্রাকের ধারণক্ষমতা ১২ টন। ফলে ছয় টন মালের জায়গা খালি যাচ্ছে। অথচ পণ্যের প্রেরককে পুরো টাকাই দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে এম্পটি ট্রিপস পণ্যের আরো এক বা একাধিক প্রেরককে যুক্ত করে দেয়, যাতে গাড়ি পুরোপুরি লোড হয়েই রওনা করে। এতে পরিবহন প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের প্রেরক উভয়েরই অর্থ সাশ্রয় হয়। যার প্রভাব পড়ে পণ্য বাজরেও।

এ প্রতিষ্ঠান গড়ার চিন্তা কোথা থেকে এলো—এমন প্রশ্নের জবাবে বেনজি কোয়েটজি বলেন, “কনসালটিং প্রতিষ্ঠান ‘সিডপিচ’-এ কাজ করার সময় আমার গ্রাহকরা প্রায়ই অভিযোগ করত অতিরিক্ত পরিবহন খরচ তাদের মুনাফা খেয়ে ফেলছে। তখন ভাবতাম কী করে তাদের খরচ কমিয়ে আনা যায়। সেই থেকে চিন্তা এলো যদি পণ্য আনা-নেওয়া উভয় ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা যায় তবে খরচ কমে আসবে। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম একটি স্মার্ট মার্কেটপ্লেস করব, যাতে পণ্য পরিবহন ব্যয় কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হবে আমার সহায়ক। সিডপিচ থেকে জমানো এক লাখ ৪৮ হাজার ডলার দিয়েই আমি গত বছর এম্পটি ট্রিপস গড়ে তুলি।” তিনি বলেন, ‘এ লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানে আমাদের জন্য বড় বাধা শিক্ষার অভাব। মানুষকে বোঝানো একটু কঠিন যে প্রযুক্তির সহায়তায় কিভাবে তাদের খালি গাড়ি পূর্ণ হবে এবং পণ্য পরিবহন খরচ কমে আসবে। তার পরও আমরা হতাশ নই। কারণ আমরা জানি, এটাই ভবিষ্যত্। লজিস্টিকস শিল্প পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী হলেও পণ্য পরিবহন ব্যবসায় আমরা যেহেতু প্রথম আমাদেরই পথপ্রদর্শক হয়ে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে আমরা আফ্রিকায় ব্যবসা পরিচালনা করি। ক্রমান্বয়ে বৈশ্বিক বাজারেও এগিয়ে যাব।’

বেনজি কোয়েটজি বলেন, ‘বর্তমানে আফ্রিকায় পণ্য পরিবহনে ৩০-৪০ শতাংশ স্পেস অপচয় হয়। অর্থাত্ আসতে বা যেতে খালি থাকে। পরিবহন খরচও অনেক বেশি। আমরা যদি স্পেস অপচয় অর্ধেকেও নামিয়ে আনতে পারি এটি অর্থনীতিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। এতে পণ্য পরিবহন সাশ্রয় হবে এবং মূল্যস্ফীতি কমে আসবে।’ ফোবর্স ম্যাগাজিন, আইটি নিউজ আফ্রিকা।



মন্তব্য