kalerkantho


উদ্যোক্তা

করপোরেট নারীদের নেতৃত্বের পথ দেখিয়েছেন ইন্দ্রা

বাণিজ্য ডেস্ক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



করপোরেট নারীদের নেতৃত্বের পথ দেখিয়েছেন ইন্দ্রা

ইন্দ্রা নুয়ি, সিইও, পেপসিকো

দীর্ঘ এক যুগ পেপসিকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আগামী ৩ অক্টোবর ওই পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইন্দ্রা নুয়ি। তবে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কম্পানির চেয়ারউইমেন হিসেবে দায়িত্বে থাকছেন ৬২ বছর বয়সী এ নারী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্দ্রা নুয়ির এ বিদায়ের মধ্য দিয়ে একটি সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে। ২০০৬ সালে ইন্দ্রা নুয়ি যখন সিইও হিসেবে পেপসিকোর দায়িত্ব নেন তখনো ভারতের কোনো নারী এ দায়িত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি। এমনকি আমেরিকার বড় কম্পানিগুলোর মধ্যে তখন নারী সিইও ছিলেন মাত্র ১১ জন। ফলে বৈশ্বিক পর্যায়েও করপোরেট নারীদের অন্যতম পথপ্রদর্শক ইন্দ্রা নুয়ি।

প্রধান নির্বাহী হিসেবে একটি কম্পানিকে কতটুকু উচ্চতায় নেওয়া যায় তার সফল উদাহরণ তিনি। ২০০৬ সালে নুয়ি যখন পেপসিতে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তখন বিশ্বে চলছিল ভয়াবহ মন্দা। কম্পানিকে সেই সংকট থেকে কাটিয়ে ওঠান তিনি। সেই সঙ্গে চিনিমুক্ত সোডাজাতীয় পানীয়র পক্ষে তুমুল প্রচারণা চলছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবসা সম্প্রসারণে তিনি উদ্যোগী হন। তিনি কম্পানির পণ্যকে ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পানীয়তে নিয়ে গেছেন। সেই সঙ্গে স্ন্যাকস বাজারে প্রবেশ করেছেন। তখন অনেকেই বলেছিল, তাঁর এ সিদ্ধান্ত ভুল। অথচ বর্তমানে কম্পানির রাজস্বের অর্ধেক আসে স্বাস্থ্যকর পানীয় ও স্ন্যাকস পণ্য থেকে। রাজস্বও ২০০৬ সাল থেকে বেড়েছে ৩৮ শতাংশ।

২০০৬ সালে তিনি প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর পেপসির আয় বছরে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি ডলারের ওপরে। সে সময় থেকে পুঁজিবাজারে পেপসির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ।

নুয়ি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়া আসলে কোনো চাকরির মতো করে করা উচিত নয়। এটা কোনো কাজের প্রতি অন্তরে অনুভূত হওয়া এক ধরনের আহ্বান। আর সেই আহ্বানে সাড়া দিতে আপনি মাথা, হূদয় এবং হাত নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আপনি যা করছেন তা আপনাকে ভালোবাসতে হবে, আর সেটি আপনাকে একেবারে গ্রাস করে নেবে।

ইন্দ্রা নুয়ি প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠেন ভোর ৪টায়। তারপর পত্রিকা পড়ে মেইল চেক করেন। এরপর সকাল ৭টায় অফিসের কাজে যোগ দেন। তিনি পেপসিকোতে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টাও সময় দেন দিনে। এমনকি কখনো কখনো পুরো সাত দিনই অফিসে সময় দেন।

তিনি বলেন, শীর্ষপদে নারী থাকলে সবাই আপনার কাজ খেয়াল করবে। আপনি এখন একজন রোল মডেল। ফলে সবাই তখন আপনার কাজ দেখছে, এবং এসব কাজ খুবই কঠিন। কারণ এ জন্য আপনাকে খুবই সতর্ক থাকতে হবে সব সময়, ২০১১ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছিলেন নুয়ি।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের বাড়তি সুবিধা কিংবা সাজপোশাক—এগুলো কখনো মাথায় জায়গা দেবেন না। নিজের পা সব সময় মাটিতেই যেন থাকে, আর নিজের পদের দায়িত্ব পালনে পুরোটা মনোযোগ দেওয়া। এটুকুই করি আমি। দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া নুয়ির পরিবারই তার মধ্যে বড় মানুষ হওয়ায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। মা প্রতি রাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ গল্প শোনাতেন তাঁকে। আর দাদা ছিলেন একজন বিচারক, যিনি নুয়ি ও তাঁর ভাই-বোনকে অঙ্ক শেখাতেন। স্কুলে ভালো রেজাল্ট করার জন্য দাদাই গাইডলাইন দিতেন।

মাদ্রাজ ক্রিস্টিয়ান কলেজ থেকে পাস করে নুয়ি পড়তে যান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট বা আইআইটিতে। এরপর ১৯৭৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে পড়তে যান। পড়াশোনা শেষে মটোরোলাসহ বিভিন্ন বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর অভিজ্ঞতা অর্জন করে ১৯৯৪ সালে পেপসিতে যোগ দেন। ২০০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নির্বাচিত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে নুয়ির দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তিনি ২০১৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, নারীর সন্তান ধারণের সময় আর ক্যারিয়ারে উন্নতি করার সময় প্রায় একই সময়ে হওয়ায় সেটি খুবই বিপরীতমুখী। অর্থাৎ একটিতে ভালো করতে গেলে অন্যটিতে কিছুতেই ভালো করা যায় না। বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমস।

 



মন্তব্য