kalerkantho


শিক্ষকতার পূর্বশর্ত নিবন্ধন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:১৩



শিক্ষকতার পূর্বশর্ত নিবন্ধন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হতে চাইলে নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। ছবি : নাভিদ ইশতিয়াক তরু

বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক হতে নিবন্ধন সনদ থাকা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন পরীক্ষায় ভালো করলেই মিলতে পারে চাকরি। সম্প্রতি নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আবেদনের সময়সীমা ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইয়ামিন মজুমদার

দেশের কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল-কলেজ-মাদরাসা) নিবন্ধন ছাড়া চাকরির সুযোগ নেই। নিবন্ধন সনদই এখন যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি। সম্প্রতি নিবন্ধন পরীক্ষার সার্কুলার দিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। আবেদনের শেষ সময় ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা। আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে http://www.ntrca.gov.bdhttp://ntrca.portal.gov.bd ওয়েবসাইট ও http://bit.ly/2BnOozr লিংকে। অনলাইনে আবেদন করতে হবে http://ntrca.portal.gov.bd ওয়েবসাইট ও http://bit.ly/2RZHXtr লিংকে।

পরীক্ষা পদ্ধতি
বিসিএসের আদলে হচ্ছে নিবন্ধন পরীক্ষা। এনটিআরসিএর সদস্য (যুগ্ম সচিব) হুমায়ূন কবীর জানান, প্রথমে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে, সময় এক ঘণ্টা। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে ২৫টি করে প্রশ্ন থাকবে প্রিলিমিনারিতে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য বরাদ্দ ১ নম্বর, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ০.৫০ নম্বর। পাস করতে হলে কমপক্ষে ৪০ নম্বর পেতে হবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় এপ্রিল ২০১৯।

প্রার্থীর ঐচ্ছিক বিষয়ে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। সময় ৩ ঘণ্টা। এরপর নেওয়া হবে মৌখিক পরীক্ষা। সময়সূচি এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। উত্তীর্ণ হলে মিলবে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ। ওয়েবসাইটে সিলেবাস এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বিগত বছরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও সিলেবাসের আলোকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেন।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে তৈরি করা হবে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় মেধাতালিকা। প্রথমে উপজেলার প্রার্থীরা বিবেচনায় আসবেন। যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে জেলার মেধাতালিকা থেকে নিয়োগ করা হবে। তাতেও প্রার্থী না পাওয়া গেলে বিভাগীয় তালিকা অগ্রাধিকার পাবে।

বাংলা
বিগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আরিফুর রহমান জানান, স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়েই বাংলা ব্যাকরণ অংশে ভাষারীতি ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার, বাগধারা ও বাগবিধি, ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ, অনুবাদ, সন্ধিবিচ্ছেদ, কারক বিভক্তি, সমাস ও প্রত্যয়, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, বাক্য সংকোচন ও লিঙ্গ পরিবর্তন থেকে প্রশ্ন আসে। প্রশ্ন আসে বাংলা সাহিত্য থেকে। স্কুল পর্যায়ের জন্য নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক, বোর্ড প্রণীত ব্যাকরণ ও বাংলা প্রথম পত্র বইটি ভালোভাবে পড়তে হবে। কলেজ পর্যায়ের জন্য নবম-দশমের সঙ্গে দেখতে হবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই। প্রথম পত্র বইয়ের গদ্য ও পদ্যের লেখক পরিচিতি অংশটি ভালোভাবে পড়তে হবে।

ইংরেজি
ইংরেজির সব প্রশ্নই থাকবে গ্রামারের ব্যবহার থেকে। Completing sentences, Translation, Parts of speech, Right forms of verb, Fill in the blanks with appropriate word or appropriate preposition, Transformation of sentences, Synonyms, Antonyms, Idioms and Phrases থেকে প্রশ্ন থাকতে আসে স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়ের প্রশ্নেই। পাশাপাশি কলেজের জন্য Identify appropriate title from story or article, Errors in composition, Uses of article-এর প্রস্তুতি নিতে হবে। গ্রামার বই থেকে উদাহরণগুলো বারবার চর্চা করলে কাজে আসবে। বিগত বছরগুলোর নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্ন ও বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ইংরেজি প্রশ্ন সমাধান করলেও বেশ কাজে দেবে।

গণিত
বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতির সাধারণ ধারণা, বিভিন্ন সূত্র, নিয়মাবলি ও এর প্রয়োগ থেকে প্রশ্ন করা হয়। পাটিগণিতে গড়, লসাগু, গসাগু, ঐকিক নিয়ম, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত-সমানুপাত থেকে প্রশ্ন আসে উভয় পর্যায়ে। বীজগণিতে বর্গ ও ঘনসংবলিত সূত্র ও প্রয়োগ, গসাগু, বাস্তব সমস্যা সমাধানে বীজগাণিতিক সূত্র গঠন ও প্রয়োগ, সূচক ও লগারিদমের সূত্র ও প্রয়োগ পড়তে হবে স্কুল পর্যায়ে। পাশাপাশি উৎপাদক সংবলিত সূত্র ও প্রয়োগ ও অনুপাত-সমানুপাত পড়তে হবে কলেজ পর্যায়ে। জ্যামিতির ক্ষেত্রে রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, ক্ষেত্রফল ও বৃত্ত সম্পর্কিত সাধারণ ধারণা, নিয়ম ও প্রয়োগ থেকে প্রশ্ন আসে স্কুল পর্যায়ে। কলেজ পর্যায়ে পরিমিতি ও ত্রিকোণমিতির সাধারণ ধারণা, নিয়ম ও প্রয়োগ পড়তে হবে। বোর্ড প্রণীত অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির গণিত বইয়ের অঙ্ক সমাধান করলে কাজে দেবে। কলেজ পর্যায়ের জন্য দেখতে হবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বই। জানতে হবে সংক্ষেপে সমাধানের টেকনিক।

সাধারণ জ্ঞান
সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, চলতি ঘটনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ, রোগব্যাধি ও চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে। বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু, ইতিহাস ও সভ্যতা, সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি, বিভিন্ন সম্পদ থেকে প্রশ্ন থাকে।

আন্তর্জাতিক অংশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা, বিভিন্ন দেশ পরিচিতি, মুদ্রা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ, আন্তর্জাতিক দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা, খেলাধুলা থেকে প্রশ্ন থাকে। প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তি, রোগব্যাধি, চিকিৎসা-স্বাস্থ্য ও পরিবেশসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন আসতে পারে।

প্রিলিমিনারিতে টেকার পর
প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে হবে ঢাকা জিপিও বক্স নম্বর-১০৩, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায়। লাগবে অনলাইন আবেদনের হার্ডকপি, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, স্নাতক পর্যায়ের নম্বরপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ সনদ প্রভৃতি কাগজপত্র।

লিখিত পরীক্ষা
১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে অনার্স পর্যায়ে নিজের পড়া বিষয়ে। আগের পড়া বিষয়গুলো বারবার চর্চা করতে হবে। নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মোরশেদুর রহমান জানান, শুরুতেই সিলেবাস দেখতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন দেখলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। একটি সাজেশন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, এমনকি প্রয়োজনে স্নাতক পর্যায়ের বই থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। বেশি বেশি লেখার চর্চা করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি প্রশ্নেরই বিকল্প প্রশ্ন থাকে, ফলে একটি না পারলেও অপরটির উত্তর করা যাবে।

মৌখিক পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সাধারণত ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। ২০ নম্বরের মধ্যে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য ১২ নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর জ্ঞান, প্রকাশ ক্ষমতা ইত্যাদির ওপর বরাদ্দ থাকে ৮ নম্বর। সাধারণত নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সদস্য, অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন ভাইভা বোর্ডে। তবে মৌখিক পরীক্ষায় কত নম্বর থাকবে, কারা ভাইভা বোর্ডে থাকবেন, তা নির্ধারণ করা হয় নির্ধারিত বোর্ডসভার পর। সাধারণত পাঠ্য বিষয়, নিজ জেলা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় ভাইভা বোর্ডে।

যোগাযোগ
পরীক্ষাসংক্রান্ত দরকারি তথ্য জানার জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০২-৪১০৩০১৩২ ও ০২-৪১০৩০১২৮ নম্বরে। প্রবেশপত্র ডাউনলোড ও দরকারি তথ্য জানার জন্য

যেতে হবে এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে (http://www.ntrca.gov.bd)| 



মন্তব্য