kalerkantho

প্রথম প্রশ্নেই আটকে গিয়েছিলাম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রথম প্রশ্নেই আটকে গিয়েছিলাম

চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার। অম্লমধুর এক অভিজ্ঞতা। ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম

তিতুমীর সরকারি কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছি। চাকরির পড়াশোনা মূলত স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েই শুরু করেছিলাম। ৩৪তম, ৩৫তম, ৩৬তম বিসিএসসহ ১২টি ভাইভায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। প্রতিটি ভাইভাই আমার কাছে প্রথম ভাইভা মনে হয়েছে।

জীবনের প্রথম চাকরির ভাইভা দিয়েছিলাম বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অফিসার পদে। ভাইভা বোর্ডে যাওয়ার আগে নতুন শার্ট-প্যান্ট বানানো হলো। জুতাও কিনলাম। নিজেকে স্মার্ট ও যোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্য চলল যাবতীয় প্রস্তুতি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না। প্রথম প্রশ্নেই আটকে গিয়েছিলাম। ফলে আত্মবিশ্বাস গেল কমে। বাকি প্রশ্নের কী উত্তর দিয়েছিলাম নিজেই বুঝতে পারিনি! ফলাফল অকৃতকার্য।

১২টি ভাইভার মধ্যে দ্বিতীয়টি সবচেয়ে ভালো হয়েছিল। এটি ছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জুনিয়র শিক্ষক পদে। আমাকে রাখা হয়েছিল প্রায় ২০ মিনিট। মনে হচ্ছিল, আজ আমার দিন। পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় আমাকে আপেক্ষিক তত্ত্ব, আলোর বিক্ষেপণ, আলোর প্রতিসরণ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এ ছাড়া ২১ নভেম্বরের তাত্পর্য, মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ও ইংরেজি বিষয়ের ওপর অনেক প্রশ্ন করেন। প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর পেরেছিলাম। শেষ প্রশ্নটি ছিল, আপনি চাকরি পেলে করবেন কি না? আমি সানন্দে রাজি হয়েছিলাম। চূড়ান্ত ফলাফলে দ্বিতীয় হয়েছিলাম। সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে টানা চার বছর চাকরি করেছি। এই চাকরিটি বর্তমান অবস্থানে আসার পেছনে অনেক অবদান রেখেছে।

এর মধ্যে রূপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, ইসলামী ব্যাংকের অফিসার, বিআরডিবির অফিসার, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপসহকারী পরিচালক, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে সহকারী এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে ভাইভা দিয়েছি। ভাইভা ভালো হয়েছিল। বিসিএসসহ ছয়টি সরকারি চাকরি পেয়েছিলাম। নানা কারণে যোগদান করতে পারিনি।

পিএসসির ভাইভাগুলোতে নিজের সম্পর্কে, উপজেলা, জেলা, পড়াশোনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নের মাধ্যমেই শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন চলমান বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন। তারপর পঠিত বিষয়, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান নিয়েও আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, আলোচিত বিষয়, দেশের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করেছিল কয়েকটি ভাইভা বোর্ডে।

৩৬তম বিসিএসের ভাইভায় আমার বোর্ডের ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে আমি ছিলাম সর্বশেষ। একে একে ১৫ জন বের হয়ে গেল। ততক্ষণে আমার চোখমুখ শুকিয়ে গেছে। প্রথম দিকে সব উত্তর আশানুরূপ হয়নি। যদিও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিয়েছিলাম। হঠাত্ আমাকে বলা হয়, ‘আপনি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান।’ আমি অবাক। সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালাম। বোর্ডের প্রধান বললেন, ‘এবার বলুন আপনার উচ্চতা কত?’ আমি বললাম ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি। স্যার হেসে বললেন, ‘বিএমআই (বডি ম্যাচ ইনডেক্স) ঠিক আছে?’ আমি ‘হ্যাঁ’সূচক উত্তর দিলাম। বোর্ড সদস্যরা তখন নাশতা করছিলেন। আমাকে এক টুকরো পেয়ারা দিয়ে বললেন, ‘এবার চলে যান এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিন।’

সৌভাগ্যের বিষয় যে ৩৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার পেয়েছি। বর্তমানে সিলেট জেলা প্রশাসকের কর্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত আছি। এর আগে ৩৪তম ও ৩৫তম বিসিএসে ভালো ভাইভা দিয়েও ক্যাডার পাইনি। প্রথমবার দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পেয়ে কর পরিদর্শক পদে দেড় বছর চাকরি করি। পরেরবার প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে সহকারী আবহাওয়াবিদ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলাম। নতুনদের উদ্দেশে বলতে চাই, নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। 

মন্তব্য