kalerkantho


‘বড় চাকরি পেলে চলে যাবেন কি না?’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:৩৬



‘বড় চাকরি পেলে চলে যাবেন কি না?’

চাকরির জন্য সাক্ষাত্কার। অম্লমধুর এক অভিজ্ঞতা। এম এম মুজাহিদ উদ্দীনকে ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন ৩৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ মো. গোলাম রব্বানী সরদার

জীবনের প্রথম চাকরির সাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম ট্রাস্ট ব্যাংকে। সবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স শেষ করেছি। অভিজ্ঞতার ঝুলি ছিল শূন্য। কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। ফরমাল পোশাকে পরিপাটি হয়ে গিয়েছিলাম। ভাইভা বোর্ডে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘বেতন অনেক কম, পোস্টিং হবে ঢাকার বাইরে। আপনি কি চাকরিটা করবেন?’ আমি উত্তর দিয়েছিলাম, ‘ঢাকার বাইরে হলে যেতে পারব না।’ এ চাকরিটা হয়নি। এরপর সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষক পদে ভাইভা দিই আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ভাইভা দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় নার্ভাসনেস কিছুটা কেটে গিয়েছিল। বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। বোর্ডে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘আপনার শিক্ষাজীবনের বর্ণনা ইংরেজিতে বলুন?’ জড়তা ছাড়াই ইংরেজিতে উত্তর দিয়েছিলাম। ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা বেশ খুশি হয়েছিলেন। আরেকটা প্রশ্ন ছিল, ‘বড় চাকরি পেলে চলে যাবেন কি না?’ আমার উত্তর ছিল, ‘যত দিন এখানে জব করব, তত দিন সর্বোচ্চ মনোনিবেশ করব। তবে এর চেয়ে ভালো অপশন পেলে অনুমতি পেলে চলে যেতে পারি।’ সব প্রশ্নের উত্তরই বেশ সাবলীলভাবে দিয়েছিলাম। এই চাকরিটা আমি পেয়ে যাই।

আমার জীবনের তৃতীয় ভাইভা ছিল ক্যাডেট কলেজে প্রভাষক পদে। এখানে প্রথমে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের মুখোমুখি হই। জানতে চেয়েছিলেন, ‘ভারতীয় একজন রাজনৈতিক নেতার আদর্শের সঙ্গে ইংরেজ লেখক টি এস এলিয়টের সাহিত্যের মিল আছে, তিনি কে?’ সঠিক উত্তরটি ছিল মহাত্মা গান্ধী, আমি অবশ্য এটি পরে জেনেছিলাম। জানতে চেয়েছিলেন, ‘প্রফেসরস অব ইংলিশ ও লেকচারার ইন ইংলিশের মধ্যে পার্থক্য কী’, ‘কেন অব এবং ইন হলো?’ একের পর এক প্রশ্নে জর্জরিত করছিলেন ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা। সব প্রশ্নের উত্তরই ইংরেজিতে বেশ সাবলীলভাবে দিয়েছিলাম। এই ভাইভায় ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে সিলেট ক্যাডেট কলেজের জন্য নির্বাচিত হই।

পিএসসির নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে আমার বরাবরই দুর্বলতা ছিল। মনে মনে ভাবতাম, কবে একটা পিএসসির চাকরি পাব। ২০১৫ সালে থানা সহকারী শিক্ষা অফিসার পদের জন্য ভাইভার মুখোমুখি হই। এখানে আমাকে একটি মজার প্রশ্ন করা হয়েছিল। জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘বিয়ে তো করেননি, তাই না? সরকারি চাকরি করে বিয়ের বাজারে দাম বাড়াতে চান?’ এই প্রশ্নে ভাইভা বোর্ডের বাকি সব সদস্য হেসে দিয়েছিলেন। সর্বশেষ ভাইভার মুখোমুখি হই ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষার। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। এটি আমার জীবনের দীর্ঘকায় ভাইভা ছিল। দীর্ঘ আধাঘণ্টা বোর্ড আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছে। জানতে চাওয়া হয়েছিল, ‘নিজেকে দক্ষ প্রশাসক বানাবেন কিভাবে?’ ‘আপনার বিষয়ের সঙ্গে কি প্রশাসনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে?’, ‘চিরদিন ক্ষমতায় থাকার অভিপ্রায়ে কি বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করেছিলেন?’ আমি বলেছিলাম, ‘বঙ্গবন্ধুর ক্ষমতার লোভ কখনোই ছিল না। তিনি এর মাধ্যমে ভঙ্গুর একটা দেশকে একসুতোয় বেঁধে উন্নয়ন করার পরিকল্পনা করেছিলেন।’

নতুনদের উদ্দেশে বলব, যত বেশি ভাইভার মুখোমুখি হওয়া যায় ততই ভালো। এতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের অনেক উন্নয়ন ঘটে এবং নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়। দুর্বল বিষয়ে বেশি জোর দিতে হবে। নিজের পঠিত বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখাটা জরুরি। ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলার চর্চা করতে হবে। 



মন্তব্য