kalerkantho


দুর্গে ভেসে বেড়ায় তরুণ রাজার আতঙ্কিত আত্মার চিৎকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২০:০৫



দুর্গে ভেসে বেড়ায় তরুণ রাজার আতঙ্কিত আত্মার চিৎকার

এই সেই দুর্গ, এর ভেতর থেকেই তরুণ রাজার বাঁচার আকুতি ভেসে আসে

নতুন চাঁদ ওঠার প্রতিটা রাতেই ভারতের একটা দুর্গে যেন আত্মা ভর করে। আশপাশের মানুষরা চরম আতঙ্কে রাতটা কাটানোর চেষ্টা করেন। এখানে পুনের শানিওয়ারওয়াদা ফোর্টের কথা বলা হচ্ছে। কথিত আছে, এই দুর্গে ঘুরে বেড়ায় আত্মা, এক তরুণ রাজার আত্মা। যে রাতে নতুন চাঁদ উঁকি দেয় আকাশে, ওই রাতেই দুর্গের ভেতর থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে আসে, অনেকটা আর্তচিৎকার সেই কণ্ঠে থাকে বাঁচার আকুতি 'চাচা আমাকে বাঁচাও (হিন্দিতে বলা হয় কথাটি)'। কেউ একজন তার জীবনের শেষ কথাগুলো এখনও বলে যান। কালের কণ্ঠের পাঠকদের জন্যে ইতিহাস জড়িয়ে থাকা সেই ভুতূড়ে কাণ্ডের কথা এখানে তুলে ধরা হলো।

ইতিহাসটা সবাই জানেন। ভারতের সর্বকালের সেরা অশ্বারোহী বাহিনীর জেনারেল বাজি রাও প্রথম এমন এক বাসভবনের স্বপ্ন দেখতেন যেটা কেবল তার উচ্চাকাঙ্ক্ষাই মেটাবে না, সেই ভবনের পাথুরে দেয়াল পেশওয়া'র সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল হয়ে থাকবে। ১৭৩০ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে সেই স্বপ্নের বাসভবন ও দুর্গ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। এটা নির্মাণে সেই সময়কার বিখ্যাত সব স্থপতিদের আনা হয়েছিল। বাজি রাও চিন্তা করেছিলেন, তিনি নিজে যেমন অটল, তেমনি করে গড়ে তোলা হবে এই দুর্গ। ভিত্তিসহ দুর্গের প্রতিটি ইঞ্চি তাই নিরেট পাথরে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন তিনি। তবে ভিত্তিমূল স্থাপনের পর রাজা শিবাজী জেনারেল রাওকে নির্দেশ দেন বাকি অংশ ইঁট দিয়ে গড়ে তুলতে। কারণ, সম্পূর্ণে পাথরে নির্মিত এমন এক দুর্গ কেবল রাজারই থাকতে পারে। এটা গড়ে তোলার ৯০ বছর পর যখন ব্রিটিশ বাহিনীর ভারী আক্রমণে দুর্গটি ধসে পড়ে, তখন কেবল পাথরে নির্মিত অংশই টিকেছিল। ১৭৩২ সালে ৭তলা বিশিষ্ট দুর্গ ও বাসভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। খরচ হয়েছিল ১৬ হাজার ১১০ রুপি। সেই সময়কার জন্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ। জানুয়ারির ২২ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় দুর্গটাকে। 

আরো পড়ুন অন্ধকার চোখের সেই ভয়ংকর বালক!

কিন্তু এই ঐহিহাসিক দুর্গে ভুতুড়ে কর্মকাণ্ডের পেছনে এক হত্যাকাণ্ডকে দায়ী করা হয়। স্থানীয় মানুষদের তা-ই বিশ্বাস। হত্যার পেছনে রয়েছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বিশ্বাসঘাতকতা। বাজি রাও প্রথমের মৃত্যুর পর তার ছেলে বালাজি বাজি রাও বা নানাসাহেব মারাঠির অধিকর্তা হন। মাধবরাও, বিশ্বাসরাও এবং নারায়ণরাও ছিলেন পেশওয়া নানাসাহেবের তিন পুত্র। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে নানাসাহেবের মৃত্যুর পর পেশওয়া'র শাসনে আসেন মাধবরাও। পানিপথের ওই যুদ্ধে বিশ্বাসরাও মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ভা্য়ইর মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে পড়েছিলেন মাধবরাও। হৃদয়ভাঙার যন্ত্রণা নিয়ে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তখন নারায়ণরাওয়ের বয়স মাত্র ১৬। এত কম বয়সে পেশওয়া'র শাসক বনে যান তিনি। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার তার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করতেন তার চাচা রঘুনাথরাও। 

আরো পড়ুন এয়ারপোর্ট রোড: গভীর রাতের অশরীরি নারী!

এই চাচার স্ত্রী অর্থাৎ নারায়ণরাওয়ের চাচী আনন্দিবাই হিংসা করতেন শাসককে। এই জীবনে তিনি পেশওয়া'র কর্তৃ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি শুরু করেন ষড়যন্ত্র। নারায়ণরাও তার বিরুদ্ধে সব ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার চেষ্টায় সচেষ্ট ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি রঘুনাথরাওয়ের ক্ষমতায় নিয়ন্ত্রণ এনে তাকে গৃহবন্দি করেন। নানাসাহেবের ছোট ছেলের সঙ্গে গার্দিদের সম্পর্ক তিক্ত ছিল। ওরা ছিল শিকারী গোত্র। চাচী এই দ্বন্দ্বের সুযোগ নেন। তিনি সিল করা একটি চিঠি পাঠান গার্দিদের প্রধান সুমার সিং গার্দির কাছে। এটা লিখিয়ে নেন রঘুনাথরাওয়ের কাছ থেকে। সেই চিঠিতে চাচা তার ভাতিজাকে আটকের নির্দেশনা দিয়েছিলেন গার্দিদের। কিন্তু চাচী সেই চিঠির একটি শব্দ বদলে দেন। এতেই নারায়ণরাওকে হত্যার নির্দেশনা চলে যায় গার্দিদের কাছে। 

একদল খুনী পাঠানো হয় নারায়ণরাওকে হত্যার জন্যে। রাতের অন্ধকারে তারা ঘুমন্ত শাসকের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে। ঘুম ভেঙে যায় তার। বুঝতে পারেন এরা তাকে খুন করতেই এসেছে। তিনি উঠেই দৌড় দেন চাচার কক্ষের দিকে। চিৎকার করতে থাকেন 'চাচা আমাকে বাঁচাও'। কিন্তু খুনীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি তিনি। তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। তাকে টুকরা টুকরা করে দেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন: ভয় আর আতঙ্কের ভানগড় দুর্গ- আসলে কী আছে সেখানে?

কথিত আছে, সেই থাকে নারায়ণরাওয়ের দেহটা মরে গেছে, কিন্তু তার প্রতিশোধপরায়ণ আত্মা ঠিকই রয়ে গেছে নিজের স্থানে। তার সেই যন্ত্রণাকাতর আত্মা হয়তো এখনও প্রতিশোধের নেশায় ঘুরছে। আর নতুন চাঁদ ওঠার প্রতিরাতে মৃত্যুর আগের শেষ চিৎকার তার ভেসে আসে দুর্গ থেকে। স্থানীয়রা এই রাতগুলোতে কান পেতে শোনে তাদার পুরনো শাসনকর্তার আত্মার কণ্ঠ, চিৎকার। 

সূত্র : ইন্টারনেট 



মন্তব্য