kalerkantho

horror-club-banner

হরর ক্লাব : অপার্থিব নিপীড়ক...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫২



হরর ক্লাব : অপার্থিব নিপীড়ক...

ডরিসের ঘটনা নিয়ে তৈরি দ্যা এন্টাইটি ছবির দৃশ্য

সময়কাল ১৯৭৪। ডরিস বিথার-সিঙ্গেল মাদার। সে তার ৪ সন্তানকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার কাল্ভার সিটিতে ছোট্ট একটি বাসায় বাস করে। সিঙ্গেল মাদারদের এমনিতেই অনেক সংগ্রাম করতে হয় জীবনধারণের জন্য, কিন্তু ডরিস যে ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল, তা ছিল অকল্পনীয়। 

কী ঘটেছিল ডরিসের জীবনে? ডরিস ধর্ষণের স্বীকার হয়েছিল, আর ধর্ষকটি ছিল একটা অশীরীরি- একটা ভূত। জ্বী, আপনি ঠিক পড়েছেন। ডরিস বিথার একটা ভূতের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিল- এমন কথাই অনেকে বিশ্বাস করেন। এমন বিশ্বাসের ভিত্তি সত্য না মিথ্যায় ভর করা তা নিয়ে তর্কে  না গিয়ে আসুন এর পটভূমি জেনে নেই।

২২ আগস্ট। ১৯৭৪। ড. ব্যারি টাফ এবং তার সহযোগী কেরি গেনর ডরিসের অনুরোধে তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া ভৌতিক ঘটনা তদন্ত করতে রাজী হন। এখানে বলে রাখা ভাল যে, ড. ব্যারি টাফ হচ্ছেন একজন প্যারাসাইকোলজিস্ট এবং তিনি এর পূর্বে একাধিক আধিভৌতিক কেসের তদন্ত করেছিলেন। ডরিস তাদের জানান যে, তিনি এবং তার সন্তানরা তাদের বাসায় কতিপয় ভূত দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে- দু’টো ছোট ভূত তাকে চেপে ধরে এবং একটা বড় ভূত তাকে ধর্ষণ করে। 

এই ভূতগুলো তাদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলেছে। 

তারা যখন ডরিসের বাসায় পৌঁছান, দেখেন- বাসাটির ওপর তখন আক্ষরিক অর্থেই টর্নেডো বয়ে গিয়েছে। অথচ আশেপাশের সব বাড়ি অক্ষত ছিল। ডরিসের সব সন্তানই দাবী করছিল যে তারা এমন কিছু দেখেছে যা আসলে দেখাই যায় না। 

যাই হোক, বাসার ভেতরে আগত তদন্তকারী দলটি তাদের কানে অদ্ভুত চাপ অনুভব করতে লাগল। বাসাটিতে ঢুকেই অস্বস্তি বোধ করা সত্ত্বেও ‘বাসাটি ভুত দ্বারা আক্রান্ত’- এই কথাটি এবং বিশেষ করে ভুত দ্বারা ধর্ষিত হওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করতে লাগল। এর মাঝে তদন্তকারী দলটি আবিষ্কার করল ছোটবেলায় ডরিস পিতামাতার হাতে নিপীড়নের স্বীকার হয়েছিল এবং তার একাধিক প্রেমিক তাকে নানাভাবে নিপীড়ন করত। তাছাড়া তার মাদক গ্রহণেরও প্রবণতা ছিল। 

তবে ডরিসের উরুতে আঘাতের চিহ্ন এবং তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত দেখে তারা প্রথমতঃ মেনে নিল যে বাসাটি হন্টেড (ভূতুরে)।

তদন্তকারী দলটি প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করবে মর্মে মনস্থির করে। একটি ঘরে তারা সকল প্রয়োজনীয় উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি (৮০-এর দশকের তুলনায়)  স্থাপন করে। তার বেশ কয়েকজন প্যারানরম্যাল বিশেষজ্ঞকেও আমন্ত্রণ জানায়। সকল যন্ত্রপাতি স্থাপনের পর তারা ডরিসকে রুমে ঢুকতে বলে। তাদের নির্দেশ মতো ডরিস রুমে প্রবেশ করে ভুতদের গালাগালি এবং অভিশাপ দিতে থাকে। 

তদন্তকারী দলটি চাচ্ছিল ভুতগুলো যেন প্ররোচিত হয়ে দেখা দেয়। তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা অদ্ভুত বলয় সারা ঘরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এরপর এক অদ্ভুত সবুজাভ কুয়াশা ডরিসকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। তদন্তকারী দলটি সেই সবুজাভ কুয়াশার মাঝে এক পূর্ণবয়স্ক পুরুষের ধড় দেখতে পায়। এটা দেখে একজন বিশেষজ্ঞ আতংকে অজ্ঞান হয়ে যায়।  

বিশেষজ্ঞরা নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। এতবছর ধরে তারা এ ক্ষেত্রে গবেষণা করে আসছিল, কিন্তু এরকম অভিজ্ঞতা পূর্বে কখনো হয়নি। তারা ভেবেছিল ভুতকে এবার তারা তাদের আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরায় বন্দি করতে পেরেছে। এবার প্রমাণ করা যাবে, ভুত বলে সত্যি কিছু আছে।

কিন্তু এত আধুনিক ক্যামেরাও ভুতের কোন ছবি তুলতে পারল না। তদন্তকারী দলটি এর কোনো ব্যাখ্যা পেল না। তবে তারা একেবারেই ব্যর্থ হয়নি, ঘরের ভেতর সৃষ্টি হওয়া অদ্ভুত বলয়ের কয়েকটি ছবি তোলা সম্ভব হয়েছিল। এই ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর ডরিসের বড় ছেলে ড. টাফকে জানায় যে, যখনই সে বাসায় কিছু নির্দিষ্ট গান যেমন ব্ল্যাক সাবাথ শুনে, তখনই ঘরে অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। 

ড. টাফ ব্যাপারটি নিজে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তার উপস্থিতিতে যখন গানটি প্লেয়ারে বাজানো হল, তখন সারা ঘর অদ্ভুত বলয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। 

পরবর্তী মাসে ড. টাফ এবং তার সহকর্মীরা আরো কয়েকটি ব্যাখ্যাতীত ঘটনার সম্মুখীন হন। কিন্তু অদ্ভুত ঘটনাগুলো আস্তে আস্তে কমে আসতে থাকে।  এবং এক সময় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ড. টাফ ধারণা করলেন যে, ভুতগুলো হয়তো তাদের কর্মকাণ্ডে ভয় পেয়ে এসব বন্ধ করে দিয়েছে।

অনেক প্যারানরম্যাল বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, এসব কিছুর মুলে ডরিস। কিন্তু না, সে কোনো কাল্পনিক গল্প ফাঁদেনি। তারা মনে করে ডরিসের একটা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা আছে, যার সাহায্যে ঋণাত্মক শক্তির উদ্ভব হয় এবং খারাপ আত্মারা শক্তি পায়। 

ডরিস বিথারের জীবন নিয়ে ফ্র্যাঙ্ক দো ফেলিট্টা ‘দ্যা এন্টাইটি’ নামে একটি উপন্যাস লিখেন যার চলচ্চিত্রায়ন হয় ১৯৮২ সালে একই নামে। উপন্যাসে ডরিস বিথারের স্থলে কারলা মোরান নাম ব্যবহার করা হয়। কারলা মোরান চরিত্রে অভিনয় করেন বারবারা হার্শে।

মুহাম্মদ শাফকাত নাওয়াজঘাটাইল, টাঙ্গাইল থেকে



মন্তব্য