kalerkantho

horror-club-banner

আমাদের লোকজ সংস্কৃতিতে ভূত-প্রেত-জীন আখ্যান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ এপ্রিল, ২০১৭ ২১:৪২



আমাদের লোকজ সংস্কৃতিতে ভূত-প্রেত-জীন আখ্যান

১৯১২ সালে লাল বিহারী দে’র আঁকা ছবি। এতে দেখানো হয়েছে এক ব্রাহ্মণকে দুষ্ট ভূতদের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে এক ব্রহ্মদৈত্য

বাংলাদেশ তথা বাংলা লোকসাহিত্যে জীন-ভূত-পেত্নী-দৈত্য-দানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলার পুরনো আর নতুন উভয় যুগের রূপকথায় তথা গল্প-গাথায় প্রায়ই ভূতের ধারণা ব্যবহার করা হয়। আধুনিক বাংলা সাহিত্য, টেলি-সিরিয়ালেও ভূত নির্ভর গল্প ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ঠাকুরমার ঝুলিতে আছে ভূতের নানান ভূতিয়ালি গল্প। এতদাঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয় আরব্যোপন্যাস আলিফ লায়লায় দেখা যায় জীন-পরী (জিনের স্ত্রী লিঙ্গ) আর দৈত্য-দানোর অনেক ভীতিকর তেলেসমাতি কাণ্ড কারখানা। বাংলা লোকসাহিত্যে রাক্ষস-খোক্কসের দাপটও কম নয়।

এদিকে, বাংলার সনাতনী ধর্মমতে বিশ্বাস করা হয়, ভূত হল সেই সব অশরীরি আত্মা যারা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে শান্তি খুঁজে পায়নি (যাদের অতৃপ্ত আত্মাও বলা হয়ে থাকে) বা পৃথিবীতে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে (যেমন খুন, আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা)। এছাড়াও বিশ্বাস করা হয়, অন্যান্য জীবজন্তু বা প্রাণীও তাদের মৃত্যুর পরে ভূতে পরিণত হতে পারে। বাংলায় ভূতকে  প্রেতাত্মা (সংস্কৃত) হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।  

প্রেতাত্মার নারীবাচক শব্দকে পেত্নী হিসেবে এবং পুরুষবাচক শব্দকে প্রেত বলা হয়ে থাকে। আর মুসলমান ধর্মমতে যত ধরনের অদৃশ্য অস্তিত্ব বিভিন্ন সময়ে ভীতিকর, আজগুবি বা অলৌকিক  নানান কর্মকাণ্ড ঘটায় তারা আসলে জিন জাতির সদস্য।

এরা ধোঁয়াহীন আগুনের শিখা থেকে তৈরি আপাত অদৃশ্য অস্তিত্ব, তবে বিভিন্ন আকার-আকৃতি ধরতে পারে।  

এখানে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও সাহিত্যে ব্যবহৃত, লোকাচারে অহরহ উচ্চারিত বিভিন্ন অশরীরি চরিত্রগুলোর কিছু পরিচিতি তুলে ধরা হলো 

জীন: জীন জাতি হচ্ছে ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থ কোরানে বর্ণিত একটি জীব বা সৃষ্টি। মুসলমানদের কাছে অশরীরি যাবতীয় ভীতিকর কাণ্ড-কীর্তি জীন-শয়তানের কাজ। আরবি জীন শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কোনো কিছু যা গুপ্ত, অদৃশ্য, অন্তরালে বসবাসকারী বা পর্দার আড়ালে থাকা অনেক দূরবর্তী কিছু। কোরানে জীন ও ইনসান (মানুষ) এই দুই জাতির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। বৈজ্ঞানিকেরা এখনও জীনের অস্তিত্বের প্রমাণ আবিষ্কারে সক্ষম হননি। তবে বিভিন্ন মুসলমান সমাজে কিছু কিছু মানুষ কর্তৃক জীন বশীভূত করা বা জীনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রচলিত আছে। বাঙালি মুসলমান সমাজও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই বাঙালি মুসলমানের সাহিত্য, সিনেমায়ও উঠে আসে জিন-পরী-দৈত্যের উপাখ্যান।  

পরী: জীনের নারী রূপ হচ্ছে পরী। সুদর্শন পুরুষদের ওপর পরীর আসর হওয়ার গল্প-গাথা হামেশা শোনা যায়। অর্থাৎ রূপবান পুরুষদের নারী জীনেরা ভালোবেসে ফেলে অনেক সময়। নিয়ে যেতে চায় পরীস্থান নামক কথিত পরীদের রাজ্যে। এ নিয়ে বাঙালি মুসলমান সমাজে অনেক ভীতিকর কাহিনী প্রচলিত আছে।  

জীন-শয়তান: মুসলিম মতে, জীন আর শয়তান একই জিনিস। দুষ্ট জিনদের প্রধান ইবলিশ শয়তান। তবে শয়তানের বংশধর জিনদের মধ্যে অনেক ধার্মিক জীনও রয়েছে, তাদের মধ্যেও আছে বিভিন্ন ধর্মানুসারী। ইবলিশ তথা শয়তান প্রকৃতপক্ষে জিন জাতির একজন ছিল। সে এক সময় আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা, শ্র্রেষ্ঠ ফেরেশতাদের দলভুক্ত ছিল। কিন্তু আল্লাহ যখন হযরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করলেন, তখন হিংসা ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে ইবলিশ আল্লাহর হুকুম অমান্য করে, সে আদমকে প্রণতি জানাতে অস্বীকার করে। এ কারণে ইবলিশকে বেহেশত থেকে বিতাড়িত করা হয়। মুসলিম ধর্মবেত্তাদের মতে, জীন-শয়তানই মানুষের ক্ষতি সাধনে সম্ভব সব ধরনের  পন্থা অবরম্বন করে, এ জন্য তারা রূপ বদলায়, নানান বেশ ধরে।  

খবিস: খবিস নামের জীন পায়খানাসহ নোংরা স্থানে থাকে এবং মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। বাঙালি সমাজে অনেক ক্ষেত্রে নোংরা, বেশরম, অসভ্য ব্যক্তিকে ‘খবিস’ নামে ডাকা হয়।

মুসলিম মতে আরও কিছু প্রজাতির জীনের নাম পাওয়া যায়, যেমন ক্বারিন (মানুষের মনে পাপ চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়)। তবে এই ধরনের নামগুলো বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ততটা পরিচিতি পায়নি।  

পেত্নী: সনাতনী ধর্মমতে পেত্নী হলো নারী ভূত। এরা বেঁচে থাকতে এদের মনে কিছু অতৃপ্ত আশা ছিল এবং অবিবাহিতভাবে এরা মৃত্যুবরণ করেছে। পেত্নী শব্দটি সংস্কৃত ‘প্রেত্নী’ থেকে এসেছে (পুরুষবাচক শব্দ প্রেত)। এসব ভূত সাধারণত যে কোন আকৃতি ধারণ করতে পারে, এমনকি পুরুষের রূপও ধারণ করতে পারে। এসব ভূত সাধারনত বেঁচে থাকতে কোনো অপরাধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে এবং মৃত্যুর পর অভিশপ্ত হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করে। পেত্নীরা সাধারনত ভীষণ বদমেজাজী হয়ে থাকে এবং কাউকে আক্রমণের পূর্ব পর্যন্ত স্পষ্টতই মানুষের আকৃতিতে থাকে। পেত্নীদের আকৃতিতে একটিই সমস্যা রয়েছে, তা হলো তাদের পাগুলো পেছনের দিকে ঘোরানো।

শাকচুন্নি: শাকচুন্নি শব্দটি সংস্কৃত শব্দ ‘শাকচুরনী’ থেকে এসেছে। এটা হলো বিবাহিত সনাতন ধর্মবিশ্বাসী নারীদের ভূত যারা বাঙালি ধাঁচের শুভ্র পোশাক ছাড়াও হাতে শঙ্খ বা শাঁখা পরিধান করে। শাঁখা হলো বাঙালি হিন্দু বিবাহিত মহিলাদের প্রতীক। শাকচুন্নিরা সাধারণত ধনী বিবাহিত নারীদের ভেতর ভর করে বা আক্রমণ করে যাতে করে তারা নিজেরা সেই নারীর মতো জীবনযাপন করতে পারে ও বিবাহিত জীবন উপভোগ করতে পারে। লোকগাঁথা অনুসারে তারা এমনিতে আম গাছে বসবাস করে।

চোরাচুন্নি: হিন্দু মতে চোরাচুন্নি অত্যন্ত দুষ্ট ভূত। এরা মানুষের অনিষ্ট করে থাকে। সাধারণত কোনো চোর মৃত্যুবরণ করলে চোরাচুন্নিতে পরিণত হয়। পূর্ণিমা রাতে এরা বের হয় এবং মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে অনিষ্ট সাধন করে। এদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়িতে গঙ্গাজলের (সনাতনী সংস্কৃতিতে গঙ্গা জলকে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়) ব্যবস্থা করা হয়।

পেঁচাপেঁচি: এ ধরনের ভূত সচরাচর দেখা যায় না। পেঁচাপেঁচি ভূত ধারনাটি পেঁচা থেকে এসছে এর স্ত্রী বাচক হলো পেঁচি। এরা জোড়া ধরে শিকার করে থাকে। বাংলার বিভিন্ন জঙ্গলে এদের দেখা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। এরা সাধারণত জঙ্গলে পথহারানো বা দুর্ভাগা ভ্রমণকারীদের পিছু নেয় এবং সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় ভ্রমণকারীকে আক্রমণ করে মেরে ফেলে ও এরা বাদুরের রূপ ধরে শিকারের দেহ ছিড়ে ছিড়ে খায়।

লাল বিহারী দে’র আঁকা ভয়ঙ্কর রূপের অশরীরী

মেছোভূত: এ ধরনের ভূতেরা মাছ খেতে পছন্দ করে। মেছো শব্দটি বাংলা ‘মাছ’ থেকে এসেছে। মেছো ভূত সাধারণত গ্রামের কোনো পুকুর পাড়ে বা লেকের ধারে যেখানে বেশি মাছ পাওয়া যায় সেখানে বসবাস করে। মাঝে মাঝে তারা রান্নাঘর বা জেলেদের নৌকা থেকেও মাছ চুরি করে খায়। বাজার থেকে কেউ মাছ কিনে গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে ফিরলে এটি তার পিছু নেয় এবং নির্জন বাঁশঝাঁড়ে বা বিলের ধারে ভয় দেখিয়ে আক্রমণ করে মাছ ছিনিয়ে নেয়।

দেও: এধরনের ভূত নদীতে বা লেকে বসবাস করে। এরা লোকজনকে পানিতে ফেলে ডুবিয়ে মারে বলে বিশ্বাস করা হয়।

নিশি: ভূতদের মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর হলো নিশি। অন্যান্য ভূত সাধারণত নির্জন এলাকায় মানুষকে একা পেলে আক্রমণ করে, কিন্তু নিশি গভীর রাতে শিকারকে তার প্রিয় মানুষের গলায় নাম ধরে ডাকে এবং বাড়ি-ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে যায়। নিশির ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ সম্মোহিত হয়ে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে, আর কখনো ফিরে না। মনে করা হয় তারা নিজেরাও নিশিতে পরিণত হয়। কেউ কেউ ধারণা করেন, কিছু কিছু তান্ত্রিক শত্রু দমনে বা অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নিশি পুষে থাকে। তবে লোককাহিনী অনুসারে এটাও মনে করা হয়- নিশিরা কোনো মানুষকে দুবারের বেশি ডাকতে পারে না, তাই কারো উচিত রাতের বেলা কেউ কমপক্ষে তিনবার ডাকলে তবেই বের হওয়া উচিৎ। কারণ, তিনবার ডাকের অর্থ- ডাকনেওয়ালা নিশি নয়।  

মামদো ভূত: হিন্দু বিশ্বাস মতে, মামদো ভূত হচ্ছে মৃত মুসলমানের আত্মা।

গেছোভূত: গেছো ভূত গাছে বসবাস করে। গেছো শব্দটি ‘গাছ’ (বৃক্ষ) থেকে এসেছে।

ব্রহ্মদৈত্য: এ ধরনের ভূত সনাতনী ধারায় বলা যায় খুবই জনপ্রিয়। ধারণা করা হয়, এরা সাধারণত কারো ক্ষতি করে না। এ ধরনের ভূতরা হলো ব্রাহ্মণ ভূত। অর্থাৎ উচ্চবর্ণের মৃত হিন্দুদের কেউ কেউ ব্রহ্মদৈত্যে পরিণত হয়। গল্পকথার বয়ান মতে- এরা ধূতি ও পৈতা পরিহিত অবস্থায় বিচরণ করে। এদেরকে পবিত্র ভূত হিসেবে গণ্য করা হয়। অত্যন্ত দয়ালু ও মানুষের অনেক উপকার করে থাকে এই শ্রেণির ভূত। বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রে এ ধরনের বেশ কিছু চরিত্র উপস্থিাপিত হয়েছে।

আলেয়া: রাতের অন্ধকারে জলাভূমিতে বা খোলা প্রান্তরে আলেয়া দেখা যায়। মাটি হতে একটু উঁচুতে আগুনের শিখা জ্বলতে থাকে। লোককথায় একে ভৌতিক আখ্যা দেওয়া হলেও এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। এই ব্যাখ্যা মতে- গাছপালা পচনের ফলে যে মার্শ গ্যাসের সৃষ্টি হয় তা থেকে আলেয়ার উৎপত্তি। অন্ধকারে এই গ্যাস আলোর মতো জ্বলতে থাকে এবং হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে চলাচল করে। পচা জ্বলা, ডোবা বা অনেক সময়ে ক্ষেত-খামারেও আলেয়ার আলো দেখা যায়। আগের দিনে গভীর রাতে আলোয়ার ‘ভৈৗতিক’ আলোয় ভয় পেয়ে অনেক জেলে বা রাতে চলাচলকারী ব্যক্তিই মৃত্যুবরণ করতো, এখনও এমন ঘটনা বিরল নয়।

শিল্পীর চোখে শাকচুন্নি গোবর পানি ছিটিয়ে ধোঁকাবাজী সৃষ্টির চেষ্টা করছে

বেঘোভূত: এরা হলো সেইসব মানুষের আত্মা যারা বাঘের আক্রমণে মৃত্যুবরণ করেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সাধারণত সুন্দরবন এলাকায় এ ধরনের ভূতের কথা বেশি প্রচলিত। কারণ, বাঘের অভয়াশ্রম হলো সুন্দরবন। এসব ভূতেরা জঙ্গলে মধু আহরণে আগত মৌয়ালদের ভয় দেখায়অ কখনো কখনো বিভ্রান্ত করে কাছাকাছি থাকা বাঘের কাছে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। মাঝে মাঝে এরা গ্রামবাসীদের ভয় দেখানোর জন্য বাঘের স্বরে কেঁদেও উঠে।

স্কন্ধকাটা/কন্ধকাটা/গলাকাটা/ কবন্ধ/সাঁইয়া: এই ভূতেরা মাথাবিহীন হয়ে থাকে। সচরাচর এরা হলো সেইসব লোকের আত্মা যাদের মৃত্যু হয়েছে মাথা কাটা পড়ার কারণে। যেমন, ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়া মানুষ। এ শ্রেণির ভূতেরা সবসময় তাদের হারানো মাথা খুঁজে বেড়ায় এবং অন্য মানুষকে আক্রমণ করে তাদের দাসে পরিণত করে ও তার মাথা খোঁজার কাজে নিয়োগ করে।

কানাভুলো/কানাওলা: এ শ্রেণির ভূতেরা পথিকের গন্তব্য ভুলিয়ে দিয়ে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয় এবং অচেনা স্থানে নিয়ে আসে। এদের কবলে পড়েলে মাঝে মাঝে মানুষ একই রাস্তায় বারবার ঘুরপাক খেতে থাকে। এই ভূতরা পছন্দমতো গন্তব্যে পৌঁছার পর তার শিকারকে হত্যার চেষ্টা করে। অনেক সময়ে সুনসান এলাকায় শিকার প্রচণ্ড ভয় পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এধরনের ভূতদের রাতে গ্রামের মাঠের ধারে, পথের মাঝে দেখা যায়।  

ডাইনী: ডাইনী মূলত কোনো আত্মা নয়, এরা জীবিত নারী। বাংলা লোকসাহিত্যে সাধারণত বৃদ্ধ নারী যারা কালো জাদু বা ডাকিনীবিদ্যাতে পারদর্শী তাদেরকেই ডাইনি বলা হয়ে থাকে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, ডাইনীরা গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ধরে নিয়ে তাদের হত্যা করে এবং তাদের রক্ত খেয়ে দীর্ঘজীবী হওয়ার অপচেষ্টা করে থাকে।

বুকে চোখ: এ ধরনের প্রেতাত্মাদের মাথা থাকে না এবং বুকে একটিমাত্র বিশাল চোখ থাকে। এরা মানুষকে স্বপ্নে ও রাতের একাকি মুহূর্তে বয় দেখায়।

দুধচোরা: এরা স্বামী-স্ত্রী দুজন এক সঙ্গে থাকে। এরা মানুষখোকো অর্থাৎ শিশুভক্ষণকারী ভয়াবহ অশরীরি। সদ্যপ্রসূত শিশুকে চুরি করে নিয়ে যায় এরা। পুরনো ঢাকায় এ ধরনের অশরীরির গল্প প্রচলিত আছে। নবজাতক আছে এমন ঘরের দরজা রাতের বেলা ভুলক্রমে যদি খোলা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে মানুষ, তখন  এদের একজন ওই ঘরে ঢুকে পড়ে। অপরজন বাইরে দাঁড়িয় থাকে। এরপর বাচ্চাটিকে দরজার বাইরে দাঁড়ানো সঙ্গীর কাছে দিয়ে নিজে ফিরে এসে ওই বাচ্চার রূপ ধরে শুয়ে থাকে মায়ের পাশে। পরদিন দেখা যায় বাচ্চাটি অসুস্থ। এরপর ধীরে ধীরে শিশুটির অসুখের মাত্রা বাড়ে এবং সবধরনের চিকিৎসাকে ব্যর্থ করে একপর্যায়ে মারা যায়। এটা আসলে ওই অশরীরির এক ধরনের ভান। শোকের সাগরে ভেসে স্বজনরা শিশুর মৃতদেহবৎ ‘দুধচোরাটিকে’ কবর দিয়ে আসে। পরে সেখানে থেকে সে স্বরূপে চলে যায় দুর্গম এলাকায় তার সঙ্গীর কাছে যেখানে সে বাচ্চাটিকে নিয়ে অপেক্ষা করছে। এরপর অবোধ শিশুটিকে নির্দয়ভাবে খেয়ে ফেলে তারা। প্রচলিত গল্প-গাথা মতে, দেড়বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত শিশুরা এদের টার্গেটে থাকে। মানুষকে ধোঁকায় রাখার জন্য এই কায়দায় তারা বাচ্চা চুরি করে বলে গল্পবাজরা বিশ্বাস করে। তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, ঘোস্টস্টোরিজ, বিভিন্ন লোককথা   


মন্তব্য