kalerkantho

horror-club-banner

হরর ক্লাব : রেইনহ্যাম হলের সেই ছবিটি আসলে কিসের?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৭ ১১:৫৩



হরর ক্লাব : রেইনহ্যাম হলের সেই ছবিটি আসলে কিসের?

বিশ্বের নানা দেশে বিভিন্ন সময় অনেকের ক্যামেরায় উঠে এসেছে ভূতের প্রমাণ, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই। এসব ছবির সত্যাসত্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বহু মানুষেরই শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায় এ ছবি দেখে। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন এক প্রমাণ। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হবে কালের কণ্ঠে। আজ পাচ্ছেন তার অষ্টম পর্ব।

রেইনহ্যাম হলের সেই বাদামি নারী
রেইনহ্যাম হলের সেই ভূত বহু মানুষের কাছেই বাদামি নারী হিসেবে পরিচিত। তিনি সম্ভবত ক্যামেরায় ধারণ করা সবচেয়ে বিখ্যাত ভূত!
ছবিটি তোলা হয়েছে ১৯৩৬ সালে। ইংল্যান্ডের নরফোকে রেনহ্যাম হল এ রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষি। ছবিটি অস্বাভাবিক ছবি হিসেবেই ইতিহাসখ্যাত।
বাদামি জরির পোশাক পরার কারণে তাকে বাদামি নারী ভূত বলা হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, লেডি ডরোথি ওয়ালপোল নামে এক নারী মৃত্যুর পর ভূত হয়ে যান।

তার স্বামীর নাম ছিল চার্লস। তিনি ১৭১৩ সালে রেইনম্যান হলে থাকতেন।
জানা যায়, এ নারী লর্ড হোয়ার্টনের উপপত্নী ছিলেন। এরপর চার্লসকে বিয়ে করেন তিনি। তবে এরপর তার স্বামী সন্দেহ করেন যে তিনি ব্যাভিচার করছেন। এরপর অবশ্য হঠাৎ করেই মারা যান লেডি ডরোথি। তার মৃত্যুর কারণ এখন আর জানা যায় না।
তবে রহস্যময় বিষয় হলো, তার মৃত্যুর ঘটনাটি আগাগোড়াই ছিল রহস্যে ঢাকা। শুধু হঠাৎ করেই তার মৃত্যু ঘোষণা করা হয়েছে, তা নয়। তাকে অন্তেষ্টিক্রিয়া ও সমাধিস্থও করা হয় তাড়াহুড়ো করে। ফলে আসলেই তার মৃত্যু হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ থেকে যায়।
অনেকেই বিশ্বাস করেন, সে সময় মৃত্যু হয়নি লেডি ডরোথির। এ ঘটনার পর থেকে তাকে বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়। আর ঘটনার বহু বছর পর তিনি মারা যান অন্তরালেই।
তবে রহস্য যাই থাকুক না কেন, তিনি যে এলাকায় ছিলেন সেখানে বহু মানুষই তাকে রহস্যময় গান শুনতে পেতেন। এছাড়া বাদামি পোশাক পরা এক নারীর উপস্থিতিও দেখা যেত।
ঘটনার বেশ কয়েক বছর পর সেখানে বাস করতেন মেজর লোফটাস ও তার বন্ধু। তারা একদিন রাতে বাদামি পোশাক পরা এক নারীকে সিঁড়িতে দেখতে পান। তিনি তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে সে নারী অদৃশ্য হয়ে যায়। এর পরদিন ঠিক একই সময়ে কৌতুহলবশত সেখানে গেলে আবার সেই নারীর দেখা পান তিনি। ছবিও তুলে রাখেন । এতে ভয় পেলেও তিনি ভালোভাবে তার মুখ দেখার সুযোগ পান। এ সময় তিনি লক্ষ্য করেন সেই রহস্যময় নারীর চোখের স্থলে রয়েছে দুটি কালো সকেট। এরপর তিনি আর তার দিকে তাকানোর সাহস পাননি। তবে পরবর্তীতে ছবিটি প্রিন্ট করা হলে সেখানে কোনো মানুষের দেহ পাওয়া যায়নি- শুধুই সাদা একটি ছায়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কিন্তু এটি ভূত যদি না হয় তাহলে ছবিটি আসলে কিসের, তা নিয়ে রহস্যের এখনও কেউ সমাধান করতে পারেনি।


মন্তব্য