kalerkantho

horror-club-banner

হরর ক্লাব : ওয়েভারলি হিলস স্বাস্থ্যনিবাসের সেই নার্স

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মার্চ, ২০১৭ ১২:৫৬



হরর ক্লাব : ওয়েভারলি হিলস স্বাস্থ্যনিবাসের সেই নার্স

বিভিন্ন সময় অনেকের ক্যামেরায় উঠে এসেছে ভূতের প্রমাণ, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই। এসব ছবির সত্যাসত্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বহু মানুষেরই শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায় এ ছবি দেখে।

এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন এক প্রমাণ। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হবে কালের কণ্ঠে। আজ পাচ্ছেন তার ষষ্ঠ পর্ব।

ওয়েভারলি হিলস স্বাস্থ্যনিবাসের সেই নার্স
অতীতে যখন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়নি তখন যক্ষ্মা রোগে বহু মানুষ মারা যেত। সে সময়ই যক্ষ্মার চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি রাজ্যে ওয়েভারলি হিলস স্বাস্থ্যনিবাস ব্যবহৃত হতো। তবে রোগীদের চিকিৎসাব্যবস্থা বলতে এখানে যা ছিল, তা একেবারেই ভয়ংকর।

যক্ষ্মার চিকিৎসা ছিল না। তাই হাসপাতালটি সয়লাব ছিল ভয়ংকর যক্ষ্মা রোগীদের কাশি আর রক্তে। অতিরিক্ত রোগীর ভারে জর্জরিত হাসপাতালটিতে স্টাফ ছিল অল্প কয়েকজন। এখানে উদ্ভট উপায়ে চিকিৎসা করা হতো যার পরিণামে অধিকাংশ রোগীই মারা যেত।

অ্যান্টিবায়োটিক তখনও আবিষ্কৃত না হওয়ায় রোগীদের সূর্যের আলো ও পরিষ্কার বায়ু দিয়ে চিকিৎসার চেষ্টা করা হতো। আর এ কারণে হাসপাতালটিতে মাত্র পাঁচ শতাংশ রোগী আরোগ্য লাভ করত। বাকিদের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হতো। এভাবে শুধু এই হাসপাতালেই আট হাজার রোগী মারা গিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের মৃতদেহ আর ফেরত দেওয়া হতো না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলের মাধ্যমে তা সরিয়ে ফেলত। আর এটি করা হতো রোগ যেন না ছড়ায় সেই অজুহাতে।

এভাবে বিনা চিকিৎসায় অসংখ্য রোগীর মৃত্যুর পর সে হাসপাতাল যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। আর বহু রোগীর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সাক্ষী হিসেবে থেকে যায় এ হাসপাতালের কক্ষগুলো।

পরবর্তীতে অবশ্য অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়। যক্ষ্মা রোগীদেরও সেভাবে মরতে হয় না। হাসপাতালের সে চিকিৎসাপদ্ধতির আর প্রয়োজন হয় না। ফলে ওয়েভারলি হিলস স্বাস্থ্যনিবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার পরেও এখানে বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া রোগীদের আত্মাদের ঘোরাঘুরি করতে দেখেন বহু মানুষ। ফলে হাসপাতালটি রীতিমতো ভূতুড়ে হাসপাতালে রূপ নেয়।

আর এ হাসপাতালেল আরেকটি বিপজ্জনক বিষয় হয়ে ওঠে এক নার্সের মৃত্যু। তাকে হাসপাতাল চালু অবস্থাতেই ৫০২ নম্বর রুমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। অনেকেই তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে এ আত্মাদেরই দায়ী করেন।

পরবর্তীতে অবশ্য হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তোলা এক ছবিতে মানুষের মতো অবয়ব দেখা যায়। যারা সেই নার্সকে চিনতেন, তারা বলেন এটি তারই প্রতিচ্ছবি। সর্বদা তিনি যেন কোনো এক যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের করিডোরে ঘুরে বেড়াতেন।


মন্তব্য