kalerkantho

horror-club-banner

মুভি-সিরিয়াল নিয়ন্ত্রিত আমাদের আটপৌরে ভয়ের জগৎ

আহ্‌সান কবীর   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫১



মুভি-সিরিয়াল নিয়ন্ত্রিত আমাদের আটপৌরে ভয়ের জগৎ

অনেক পুরনো গল্প এটি। ‘গভীর রাতে আজানের ধ্বনি শুনে পুরনো ঢাকার এক নামাজি ঘুম ছেড়ে মসজিদে রওনা করলেন।

তবে অন্যান্য দিন ফজরের ওয়াক্তে যেমন পথে দু’চারজন মুসল্লির সঙ্গে দেখা হয়, আজ তেমন হল না। মসজিদে ঢুকেও একটু কেমন কেমন যেন লাগছিল। লোকজন কম। মানুষগুলোও আজ অচেনা অচেনা লাগছে; এখন পর্যন্ত পরিচিত কোনও মুখই দেখা গেল না। ঘুম জড়ানো চোখে তার একবার খেয়াল হলো নামাজীদের পাগুলোও কেমন যেন অস্বাভাবিক। মনে হচ্ছে উল্টোদিকে ঘোরানো। যেহেতু তাকে নিশিতে পেয়েছে, তাই এক্ষেত্রে স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধি কাজ করছিল না। তবে বিষয়টা তার অবচেতন মনকে ঠিকই সচকিত করে তোলে। তিনি ওজুখানার দিকে রওনা করলেন। ওজু করতে করতে পাশের লোকটিকে বললেন, ‘ভাইসাব! বুঝলাম না হালায়, আইজকা ঘটনাটা কি হইল?

: কেলা? কি হইছে আবার?

মানে নামাজীগো সব কিমুন জানি অন্য রহম (রকম) লাগবার লাগছে।

: অন্য রহম! মানে কি রহম?

ওই যে, বেকতের (সবার) পাওগুলি কিমুন জানি উল্টা উল্টা লাগবার লাগছে?

: তাই নাকি!

হহ্! নজরে পড়ে নাই আপনের?

: কি জানি, অইবারও পারে। তয় আমার পাওটা ভি এইবার একটু দেহেন তো হালায় ? এই রহম না তো?
তিনি সঙ্গীর পায়ের দিকে চেয়ে যা দেখলেন, সে দৃশ্য আর হজম করতে পারলেন না। প্রচণ্ড ভয় আর আতংকে দাঁত কপাটি লেগে পড়ে গেলেন সেখানেই। পাশের ভদলোকের পা দুটোও ছিল অন্যদের মতই। সময়টা ফজরের ওয়াক্ত ছিল না। গভীর রাতের ওই সময়টায় মসজিদে জিন জাতির সদস্যরা নামাজ পড়তে আসে। তিনি তাদের আজানই শুনেছিলেন। ’

এটি পুরান ঢাকায় বহুল প্রচলিত ভৌতিক বা অশরীরি গল্পগুলোর অন্যতম একটি। আগের দিনে পুরনো ঢাকার বড়রা ছোটদের কাছে বিশেষ করে আষাঢ়ে গল্পের আসরে এ ধরনের কাহিনী পরিবেশন করে আপাত স্বাভাবিক পরিবেশকেও রীতিমত গা ছমছমে ভয়াবহ করে তুলতেন।

আমি পুরনো ঢাকার ছেলে। সে সুবাদে শৈশবে শোনা এই গল্পের ভীতিকর আবেশ আমাকেও দীর্ঘদিন তাড়িয়ে ফিরেছে।

কিশোর বয়সে প্রায়ই রাতে পথ চলতে গিয়ে বা পড়তে বসে চকিতে পাশের জনের পায়ের দিকে তাকিয়ে এক পলক দেখে নিয়েছি। উদ্দেশ্য, সঙ্গে চলা লোকটি সত্যি মানুষই তো, কিংবা পাশে বসা বড় ভাইটি আসলেই বড় ভাই নাকি তার ছদ্মবেশে অন্য কেউ (সত্য-মিথ্যা জানি না, মুরব্বিদের কাছে শোনা কথা: জিন বা ভূতদের পা থাকে উল্টোদিকে ঘোরানো)। আরও বড় হয়ে দেখেছি এ ধরনের এক বা একাধিক গল্পের ছড়াছড়ি রয়েছে দেশের এমনকি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে। কোথাও রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার, কোথাও ড্রাকুলা, কোথাও জিন্দালাশ, কোথাও আন-ডেড বা জোম্বি।

শরীরি ভয়ে (মৃদু চড়-থাপড়) যখন দূরন্ত শিশুকে শাসনে রাখা যায় না, তখন সব দেশের মায়েরাই এ ধরনের নানান পদের অশরীরির গল্প ফেঁদে তাকে আঁচলবন্দি করতেন একটা সময়ে।  
   
কিশোর বয়সে যখন সেভেন এইটে পড়ি তখন আমার ভয়ের রাজ্যে বা ভয় দেখানোর অনুষঙ্গে আরো একটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি হয়: তাহলো ‘জিন্দালাশ’। এই জিন্দালাশটা আবার কি?

সরল অর্থে যে লাশ জীবিত বা যে মুর্দার জীবন আছে কিংবা আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে একটা নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষ করে রাতের বেলা যে লাশ জ্যান্ত হয়ে ওঠে।

ভয়ে ভয়ে এর ওর কাছে খোঁজ-খবর করে জানা গেল- অমাবস্যার রাতে জিন্দালাশ কবর থেকে উঠে এসে ঘাড় মটকে খায় মানুষের। পিস্তল-বন্দুক এমনকি মেশিনগানের গুলিতেও তাকে ধ্বংস তো দূরের কথা, কোনও ক্ষতিই করা যায় না। ঘুটঘুটে অমাবস্যার রাতে জিন্দালাশ যখন চড়চড় শব্দে কবর ফেড়ে বেরিয়ে আসে, তখন ভয়ে ষাট বছরের বৃদ্ধেরও সর্বাঙ্গের রোম সর সর করে দাঁড়িয়ে যায়। অনেকেই নাকি সংজ্ঞা হারায়, হার্টফেলও করে। ভয়াল সেই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে দুই হাতে মুখ-চোখ ঢেকেও ফেলে অনেকে। আর অকুস্থলেই স্থান-কাল-পাত্র বিস্মৃত হয়ে অনেক জবরদস্ত সাহসী আদমীরও নাকি ‘হাগু-মুতু’ করে দেওয়ার ঘটনা অনেক ঘটেছে।

চরম ভীতিকর এ বর্ণনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে চিরকেলে গোয়েন্দা মন এ প্রশ্নও করে, তাহলে জিন্দালাশ যখন কবর ছেড়ে বেড়িয়ে আসে তখন কি অনেক লোক কবরস্থানে উপস্থিত থাকে এটি সরেজমিনে চাক্ষুষ করার জন্য? তখনি জানা গেল কবরস্থানে নয়, সিনেমা হলে থাকতে হয় এই দৃশ্য দেখার জন্য। কারণ জিন্দালাশ একটি হরর মুভির নাম।

ও..., সিনেমা! এই রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মহাপ্রতাপশালী এবং অবশ্যই ভয়ংকর জিন্দালাশ সাহেবের ইমেজে একটু হাল্কা অবজ্ঞার প্রলেপ লাগিয়ে বিষয়টাকে নিক্ষেপ করি  মনের ভাড়ার ঘরে। কিন্তু বাস্তবে জিন্দালাশ আমাকে স্বাভাবিকভাবে জিন্দা থাকতে দেয় না। জিন্দালাশ আমাকে দেখতেই হবে।

আবাহনী-মোহামেডানের স্বাসরুদ্ধকর ম্যাচও বাদ দেওয়া যাবে (ওই সময়ের বিবেচনায় যখন এদেশের ক্রীড়াপ্রিয় মানুষ স্বভাবতই আবাহনী-মোহামেডান দুই গ্রুপে বিভক্ত ছিল), এমনকি টিউটরিয়াল পরীক্ষায় ফেল করার ঝুঁকিও হজমযোগ্য, মাগার জিন্দালাশ দেখতেই হবে। কিন্তু জানতে পারলাম, সাধারণত বাংলাদশের সিনেমা হলে জিন্দালাশ চলে না। এর মধ্যে আরেক তথ্য পেয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত হলাম। জিন্দালাশ আসলে দুই খান, একটি ভারতীয় অন্যটি পাকিস্তানি। অর্থাৎ এই ভয়-ভীতির রাজত্বেও ভারত-পাকিস্তান দ্বন্ধ। ওদিকে আমার কিশোর মনে একটু কষ্টের প্রলেপ লাগলো, বাংলাদেশি কোনও জিন্দালাশ নেই বলে। এনিয়ে বছর কয়েক আগে এদেশীয় এক নাটক নির্মাতাকে প্রশ্ন করেছিলাম। তার জবাব ছিল, হরর মুভি বা নাটক বানাতে খরচ বেশি আর প্রচুর টেকনিক্যাল ফ্যাসিলিটি লাগে যা আমাদের নেই। তাই এ লাইনে আমাদের তেমন কিছু নেই।

কিন্তু যদ্দুর জানি, সিংহভাগ হরর মুভিই দেখা গেছে কম পয়সায় মচমচে ভাজা টাইপ প্রডাকশন, যা প্রায় ক্ষেত্রেই প্রযোজককে এক টাকার বিনিময়ে হাজার টাকার বেশি ফায়দা এনে দিয়েছে। এসবের পেছনে থাকে প্রচুর মেধা আর কৌশলের প্রয়োগ। এখন পর্যন্ত কম টাকায় বানানো সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনকারী সিনেমাটিও ভয়ের সিনেমা (ব্লেয়ার উইচ প্রজেক্ট)। তবে বাস্তব যাই হোক, আমাদের দেশে হরর নাটক-সিনেমা তেমন একটা হয় না। এর ফলে আমাদের প্রেক্ষাগৃহে আর ড্রয়িংরুমে টিভি-ডিভিডিতে ভয় দেখিয়ে পকেট গরম করার কাজটাও অন্য অনেক কিছুর মতই বিদেশীদের হাতেই রয়ে গেছে। যদিও মাঝেমধ্যেই স্যাঁকরার মত কিছু ঠুকঠাক প্রচেষ্টা আমাদের নির্মাতাদের কারো কারো মাঝে দেখা যায়। তবে তা দানা পাকনোর আগেই মিলিয়ে যায় বিস্তৃতিতে, অন্যদের আর এগিয়ে না আসার কারণে। আর তাই ভয়ের জগতেও আমাদের নির্মাতা-কাহিনীকারদের পক্ষ থেকে কামারের এক ঘা আর কখনোই মারা হয় না।


 
যাহোক, জিন্দালাশ নিয়ে ভীতি জাগানিয়া তথ্য আরো ছিল। ‘পেকে গেছে’ টাইপ ছেলেদের দেওয়া তথ্য ছিল, সিনেমা হলে এই ছবি শুরু হয় সাধারণত রাত বারোটার পরে এবং চল্লিশ বছর বয়সের কম বয়েসি কাউকে হলে ঢুকতে দেওয়া হয় না। জিন্দালাশ যখন পর্দায় আবির্ভুত হয় তখন সীমাহীন ভয়-আতংকে দর্শকদের সবার পা উঠে যায় সিটের ওপরে। এছাড়া সিনেমা দেখে গভীর রাতে একা একা বাড়ি ফেরাও নাকি রিস্কি। পরে অবশ্য বুঝতে পারি এই কথাগুলোর প্রায় সবই ছিল ড্রিম মার্চেন্টদের (চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী) সিনেমা চালানোর কৌশলী প্রপাগান্ডা। তখনকার সীমিত প্রচার ব্যবস্থা আর কাঠামোর আবহে কায়দাটা বেশ কাজেও দিত।

এর মাধ্যমে নাগরিক মানুষকে ভয় দেখানোর দায় বা দায়িত্বটা চলচ্চিত্র কিভাবে দখল করে নিয়েছে, তা ওই বয়সেও কিছুটা টের পাওয়া শুরু করি। কারণ এরপর আমার দেখা সিনেমাগুলোর বেশ বড় একটা অংশ জুড়ে আছে হরর মুভি। এসবের মধ্যে আছে আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু বি বর্ন, দি এক্সরসিস্ট, অ্যামিটিভিল হরর, এভিল ডেথ, ফ্রাইডে দি থার্টিন্থ, অমেন (সেবা থেকে গ্রন্থাকারে বাংলায় রূপান্তরিত ‘অশুভ সংকেত’), পুরানা মন্দির, ভিরানা, গেহেরাই, রাজ এবং সর্বজনাব ড্রাকুলাসহ অনেক ছবি আর সিরিয়াল। আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু বি বর্ন-এ দেখা যায়, শয়তানের প্রভাব কবলিত একটি শিশু  জন্মকালেই নার্স-ডাক্তারদের খামচি দিয়ে রক্তাক্ত করে দেয়। এরপর দিন কয়েকের মধ্যেই একে একে তার বাবা-মা ও অন্যদের হত্যা করে নৃশংস কায়দায়। এই সিনেমার চরম ভীতিকর আবহ সঙ্গীতের আবেশ এখনো সচকিত করে অনেককে।

তবে কম পয়সায় বানানো সিনেমার ছাপ্পর বেশিদিন বয়ে বেড়াতে হয়নি হরর মুভিকে। লাভের পাল্লাটা ভারি দেখে অনেকে নামী-দামী নির্মাতাও নেমে পড়েন ভয় বাণিজ্যে। এই কাতারে আছেন স্টিফেন স্পিলবার্গও। এই বিশ্বখ্যাত কুশলি নির্মাতা তার সৃষ্টিগুলিতে নিত্য-নতুন কৌশল আর ধারণার প্রয়োগের জন্য আলোচিত। শুনেছি দি এক্সরসিস্ট সিনেমায় শয়তানের হাসির শব্দ নিয়ে কোনওমতেই সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না পরিচালক। বিভিন্ন ধরনের শব্দ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অসন্তুষ্ট হয়ে একপর্যায়ে ছুটে যান কসাইখানায়। সেখানে শুয়োর জবাইয়ের সময় রক্ত বের হওয়ার ঘরঘর আর খসঘস শব্দটি রেকর্ড করে নিয়ে আসেন স্টুডিওতে। মুভিতে শয়তানের আসর করা ছোটো মেয়েটির মুখে ওই শয়তানি হাসি দেখে দর্শকদের প্রায় সবাই-ই শিউরে উঠেছেন এক অজানা ভয়ের অনুভূতিতে।
      
সত্তর-আশির দশকে এদেশে ভিসিআর/ভিসিপিতে সিনেমা দেখার জোয়ারে আমার জিন্দালাশ দেখার মিশন আংশিক সফলতা লাভ করে। প্রথম সুযোগেই দেখে ফেলি জিন্দালাশের হিন্দি ভার্সন ‘জানি দুশমন’। কিন্তু আমাকে তেমন ভয় পাওয়াতে পারেনি জানের দুশমন। তবে অনেক পরে দেখা হিন্দি হরর ছবি গেহেরাই দেখার সময়ে রীতিমত ভয় ভয় আবহে আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিলাম। সাম্প্রতিক হিন্দি হরর মুভি রাজের নির্মাণও বেশ ভাল। অন্যদিকে পাকিস্তানি জিন্দালাশ আমার আজতক দেখা  হয়ে ওঠেনি। শুনেছি তাতে আছে কবর ফেড়ে লাশ বেড়িয়ে আসার সেই ভয়াল দৃশ্য (সেই সময়কার হিসেবে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারি বিষয় অবশ্যই)।

স্যাটেলাইটের বদৌলতে জী হররর মুভি আর সিরিয়ালে এক সময় মেতে উঠেছিলেন সিরিয়াল ভক্ত আমাদের গৃহীনিরাও। তবে জী হররের কাহিনী আর মান তেমন ভাল না হওয়ায় শিক্ষিত মহলে আবেদন সৃষ্টি করতে পারেনি। উৎকট মেকাপ, গোঁজামিলের কাহিনী আর দূর্বল নির্মাণের জী হররের স্থলে সনির ‘আহাত’ কিংবা স্টার প্লাসের ‘শস্স্ কোই হ্যায়’ সিরিয়ালগুলো সুনির্মিত এবং গল্পেও ছিল নতুনত্বের ছোঁয়া।

এতদঞ্চলের টিভি জগতে হররের সূচনাকারি জী অবশ্য পরবর্তীতে এই ধারার বেশ কিছু হরর সিরিয়াল উপহার দেয়। তবে সবগুলো চ্যানেলকেই দর্শককে ভয় দেখাতে গিয়ে প্রায় ক্ষেত্রেই ভালগার হয়ে উঠতেও দেখা গেছে। তবে এত কিছুর পরেও, এখনও স্টার প্লাস, স্টার ওয়ান আর সনিতে যে সব সিরিয়াল চলে, বিশেষ করে হরর সিরিয়ালগুলো দেখার জন্য পিক আওয়ারে আমাদের চ্যানেলগুলোর সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সংবাদ বাদ দিয়েও গৃহিণীরা তাতে মনোনিবেশ করে থাকেন। তাদের অনুসরণ করেন ছেলে-বুড়োরাও। কারণ মানুষ ভয় পেতে পছন্দও করে বৈকি। অন্তত সরাক্ষণই সে ভয় সম্পর্কে জানতে চায়।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে ইন্টারনেট সার্চে মানুষ যেসব বিষয় জানতে চায় তার শীর্ষে রয়েছে ভয় (Fear). অর্থাৎ দিন বদলের যাত্রায় সমাজ সভ্যতা যোজন যোজন এগিয়ে গেলেও ভয় তার পিছ তো ছাড়েইনি, উল্টো সিন্দাবাদের ভূতের মত অনেকটাই চেপে বসেছে ঘাড়ে। আর তাই নিশিডাক শুনে রাতে ঘরের বার হয়ে নানান ভৌতিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার যে গল্প আগে বড়রা সরবরাহ করতেন ছোটদের, এখন সিনেমাওয়ালারা তথা কাহিনীকার-চিত্রনাট্যকার আর প্রযোজক-পরিচালকরা তার দায়িত্ব নিয়েছেন। আর তাই গ্রামে গঞ্জে এখন আর নয়া কোনো ভূতের গল্প তৈরি হয় না, শিশুরা স্বপ্নে দেখেনা স্কন্ধকাটা মোঙ্গল বা গলাকাটা সাইয়ার ভয়াবহ রূপ।

ahsan.akraza@gmail.com


মন্তব্য