kalerkantho

খুশবন্ত সিং জোকস

ভারতের বিখ্যাত রম্য লেখক ও সাংবাদিক খুশবন্ত সিং ১৯১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাবের হাদালিতে জন্মগ্রহণ করেন। মজার মজার জোকস বলার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। ২০ মার্চ তার মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আজ থাকছে তার বলে যাওয়া মজার কিছু জোকস। সংগ্রহ রনী মাহমুদ

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



খুশবন্ত সিং জোকস

♦ ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় এক রাজ্যের নবনিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ইংরেজি জ্ঞান সামান্য। তিনি রাজধানীর সবচেয়ে বড় হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক মন্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটার, জেনারেল ওয়ার্ড ঘুরিয়ে দেখালেন এবং একসময় গেলেন মহিলা ওয়ার্ডে। পরিচালক মন্ত্রীকে ব্যাখ্যা করলেন, ‘স্যার, এটা হচ্ছে লেবার (প্রসূতি) ওয়ার্ড।’ মন্ত্রী সহসা থেমে পড়লেন এবং দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, ‘আমি এই ওয়ার্ড পরিদর্শন করব না। আপনি কি জানেন না যে আমাদের মন্ত্রিসভার একজন লেবার (শ্রম) মিনিস্টার আছেন? তাঁর এলাকায় আমার অনধিকার প্রবেশ করা উচিত নয়।’

♦ পাঁচ বছর বিদেশে কাটিয়ে পুত্র দেশে ফিরেছে। ছেলেকে পরীক্ষা করার জন্য তিনি টেবিলে চারটি জিনিস রাখলেন। টাকা, বাইবেল, মদের বোতল এবং পিস্তল। ভাবলেন, ‘ছেলে যদি টাকা তুলে নেয়, তাহলে ধরে নেব, সে ব্যবসায়ী হবে। যদি বাইবেল হাতে নেয়, তাহলে সে একজন ধার্মিক লোকে পরিণত হবে। মদের বোতল হাতে নিলে বুঝব, সে মাতাল হবে এবং গোল্লায় যাবে। আর যদি পিস্তল তুলে নেয়, তাহলে ধরে নেব সে সন্ত্রাসীতে পরিণত হবে।’ এরপর পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন। পুত্র ঘরে প্রবেশ করার পর টেবিলে রাখা চারটি জিনিসের ওপর তার চোখ পড়ল। সে হুইস্কির বোতল খুলে বড় এক ঢোঁক পান করে টাকাগুলো পকেটে ভরে পিস্তলটি হিপপকেটে রাখল এবং বগল তলায় বাইবেলটি নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল।

পিতা হতভম্ব হয়ে ভাবলেন, ‘সে একজন মন্ত্রী হবে।’

 

 

♦ এক হিন্দু, একজন মুসলমান ও একজন শিখ তাঁদের নিজ নিজ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চিকিত্সার ক্ষেত্রে চমত্কার সাফল্যের বিষয় আলোচনা করছিলেন। হিন্দু বললেন, ‘আমি এক বৈদ্যজিকে জানি, যিনি আয়ুর্বেদিক আঠা লাগিয়ে কাটা হাত জোড়া লাগিয়ে দিয়েছিলেন। জোড়াটা এমন নিখুঁত যে কেউ দেখে বলতেও পারবে না যে কোথায় কাটা গিয়েছিল।’ মুসলমান ভদ্রলোক হিন্দুর চেয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন না। তিনি বললেন, ‘এক হাকিম সাহেব নতুন ধরনের জোড়া লাগানোর মলম আবিষ্কার করেছেন। মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এমন এক লোকের ওপর তিনি সেই মলম প্রয়োগ করেন। এরপর লোকটিকে দেখে আর বলার উপায় ছিল না যে তার গলার কোথায় কেটে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। এবার শিখের পালা। সেই শিখ চিকিত্সার উত্কর্ষ বর্ণনা করতে দৃষ্টান্ত পেশ করলেন। ‘আমরা আরো এগিয়ে গেছি।’ গর্বের সঙ্গে বুকে চাপড় দিয়ে বললেন। ‘আমার এক চাচার পেট বরাবর কেটে দুই টুকরা হয়ে গিয়েছিল। আমাদের শিখ সার্জন দ্রুত একটি বকরি বলি দিয়ে বকরির নিচের অংশ চাচার ওপরের অংশের সঙ্গে জুড়ে দেন। অতএব আমাদের চাচাও আছে, পাশাপাশি দৈনিক দুই লিটার করে দুধও পাচ্ছি।

 

♦ এক ভদ্রলোক ইসলামাবাদ থেকে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে করাচিতে এসেছেন পীড়াদায়ক দাঁতটি তুলে ফেলার জন্য। করাচির ডেন্টিস্ট তাঁকে বললেন, ইসলামাবাদেই তো অনেক ডেন্টিস্ট আছেন। দাঁত তোলার জন্য কষ্ট করে এত দূরে আসার কী প্রয়োজন ছিল?

লোকটির উত্তর, ‘ইসলামাবাদে আমাদের মুখ খোলার অনুমতি নেই।’

 

♦ এক গেঁয়ো শিখ একটি এক্সপ্রেস ট্রেন মাঝপথে থামানোর সিদ্ধান্ত নিল। রেললাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কৃপাণ উঁচিয়ে ধরে অগ্রসরমাণ ট্রেনের উদ্দেশে চিত্কার করতে লাগল। বেশ কিছুসংখ্যক লোক জড়ো হয়ে রুদ্ধশ্বাসে ট্রেনের সঙ্গে তার মোকাবেলার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে অপেক্ষা করতে লাগল। ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ড্রাইভার শিখকে লাইনের মাঝখানে দাঁড়ানো অবস্থায় থাকতে লক্ষ করলেও বুঝতে পারল যে এখন আর তার পক্ষে যথাসময়ে ট্রেন থামানো সম্ভব নয়। দিশাহারার মতো সে হুইসেল বাজাতে শুরু করল। ইঞ্জিন যখন শিখের ঠিক ওপরে আঘাত হানবে, তখনই সে লাফ দিয়ে এক পাশে সরে গেলে ট্রেন তাকে অতিক্রম করল।

 

অপেক্ষমাণ জনতার মধ্য থেকে প্রশ্ন ছুটে এলো, ‘কী হলো সরদারজি, শেষ পর্যন্ত তুমি ভয় পেলে?’

‘কখখনো না।’ শিখ প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিল। ‘তোমরা দেখেছ, ট্রেনকে কিভাবে চিত্কার করতে বাধ্য করেছি? একজন শিখ কখনো এমন কাউকে খুন করে না যে ক্ষমা চেয়ে কাঁদে।’

 

♦ এক বাসায় ডাকাতি হয়েছে। গৃহকর্তাকে বেদম মারধর করে ফেলে রেখেছে ডাকাত দল। ডাকাতরা তার বস্তায় বাসার সব জিনিস ঢোকাচ্ছে, গৃহকর্তা করুণ চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। ডাকাত একসময় একটি ক্রেস্ট তার বস্তায় ঢোকাচ্ছে। এই সময় গৃহকর্তা কোঁকাতে কোঁকাতে বলল, ‘ভাইজান, এই ক্রেস্টটা নিয়েন না... প্লিজ...’

—কেন?

—কারণ ওই ক্রেস্টটা আমি গত বছর কুংফু চ্যাম্পিয়ন হয়ে পেয়েছিলাম।

 

খুশবন্ত সিংয়ের জোকসে একটি বড় অংশ দখল করে আছে সান্তা সিং ও বান্তা সিং। এবার থাকছে তেমনই কিছু জোকস

 

♦ বান্তা সিং বাসে করে কোথাও যাচ্ছে। পাশের সিটে এক মাদ্রাজি সহযাত্রী। কছুক্ষণের মধ্যেই মাদ্রাজি লক্ষ করল, বান্তা সিং কিছুক্ষণ পর পর তার টিফিনের বাটিটি খুলে কিছু দেখছে। মাদ্রাজি কৌতূহলী হয়ে বান্তাকে প্রশ্ন করল।

মাদ্রাজি : কিছুক্ষণ পর পর বাটির মধ্যে তুমি কী দেখছ?

বান্তা : আমি অফিসে যাচ্ছি, না বাসায় ফিরছি, সেটাই দেখছি।

মাদ্রাজি অবাক হয়ে, ‘টিফিনের বাটির সঙ্গে অফিসে যাওয়ার কী সম্পর্ক?’

বান্তা : আরে ভাই, এইটা বুঝলে না, বাটি খালি থাকলে আমি বাসায় ফিরছি, আর ভরা থাকলে অফিসে যাচ্ছি। এটা তো সহজ ব্যাপার।

বান্তা বিজ্ঞের মতো উত্তর দিল।

 

♦ বান্তা সিং একবার রাশিয়া ভ্রমণে গিয়েছিল। সেখানে বিমান ভ্রমণের সময় তার সঙ্গে দেখা হলো গ্যারি কাসপারভের। সময় কাটানোর জন্য কাসপারভ বান্তাকে দাবা খেলার প্রস্তাব করল। কাসপারভের প্রস্তাবে বান্তা বলল, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কাসপারভ, তুমি ভেবেছ আমি তোমাকে চিনিনি? আমি কিভাবে তোমার সঙ্গে দাবায় পারব?’

এ কথা বলার পর কাসপারভ চুপ হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর বান্তা নিজেই প্রস্তাব দিল, ‘ঠিক আছে। তুমি যদি বাম হাতে খেল তাহলে আমি তোমার সঙ্গে দাবা খেলতে পারি।’

এরপর যথারীতি অল্প কয়েক চালের মাথায় কাসপারভের সঙ্গে গেমে হেরে গেল বান্তা সিং। আর এই হেরে যাওয়ার দুঃখে সফরের বাকি সময়টাতে বান্তা সিংয়ের মন খুব খারাপ হয়ে থাকল।

এরপর দেশে ফিরেই দিল্লি এয়ারপোর্টে নেমেই দেখা হলো বন্ধু সান্তা সিংয়ের সঙ্গে। সান্তা তাকে দেখেই তার মন খারাপের কারণ জানতে চাইল। বান্তা তাকে আদ্যোপান্ত সব জানাল। শুনে সান্তা বলল, ‘আরে, উল্লু কা পাঁঠা! কাসপারভ তো তোমাকে বিরাট বোকা বানিয়েছে। তুমি কি জানো না কাসপারভ বাঁ হাতি!’

 

♦ এক দরজি গ্রাহকদের কোনো কিছু না জানিয়ে স্থান ত্যাগ করায় তার গ্রাহকরা আফসোস করছিল।

‘সে আমার প্যান্টের কাপড় মেরে দিয়েছে’— রাম লালের অভিযোগ।

‘আমার স্যুটের কাপড় নিয়ে সে চলে গেছে’— এলাহি বক্সের অভিযোগ।

বান্তা সিংয়ের অভিযোগ আরো গুরুতর, ‘সে আমার মাপ নিয়ে ভেগেছে।’

 

♦ এক তরুণ বান্তা সিংয়ের কাছে গিয়ে তার কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল। বান্তা জানত যে তরুণ একজন বেকার ও প্রতারক। সে বলল, ‘আমি চাই না আমার কন্যা সারাটা জীবন একটা গাধার সঙ্গে কাটাক।’

তরুণ বলল, ‘আমি জানি, সেই জন্যই তো ওকে আমি বিয়ে করে তাড়াতাড়ি ঘরে তুলতে চাই।’

 

♦ বান্তা সিং তার বন্ধুর কাছে গল্প করছিল আগের দিন রাতে তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার ব্যাপারে।

বন্ধু : কী করে তোমার বউয়ের সঙ্গে ঝগড়াটা মিটল?

বান্তা সিং : শেষ পর্যন্ত তাকে হাঁটু মুড়ে বসতে হয়েছিল।

বন্ধু : তাই! তা সে হাঁটু মুড়ে বসে কী বলল?

বান্তা সিং : সে হাঁটু গেড়ে বসে মাথা ঝুঁকিয়ে বলল, ‘তুমি যদি পুরুষ হয়ে থাকো, তাহলে খাটের নিচে না লুকিয়ে বেরিয়ে এসে আমার সঙ্গে লড়াই করো।’

 

মন্তব্য