kalerkantho

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অফলাইন

অনুষ্ঠানে

বিরাট নিরাপত্তার বহর নিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে প্রধান অতিথি দেখলেন, কেউ নেই! পুরো মিলনায়তন ফাঁকা! দু-চারজন আয়োজক মুখ কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

‘কী ব্যাপার? লোকজন কই সব?’

‘ইয়ে মানে...আপনি এখানে আসবেন বলে রাস্তায় যে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে, এখনো সবাই সেই জটে আটকা পড়ে আছে।’

সাইফুল্লাহ রিয়াদ

 

 

সম্ভব-অসম্ভব

অনন্ত জলিল নয়, অসম্ভবকে সম্ভব করতে চাইলে টেলিভিশনের রন্ধনশিল্পীদের দেখে শিখুন। এরা চাইলে গরুর মাংস দিয়ে কচুর শাকও রেঁধে খাওয়াতে পারে!

ইমন চৌধুরী

প্রেসক্রিপশন

রোগী বলল, ডাক্তার সাহেব আপনি প্রেসক্রিপশনের পেছন দিকে যে দুইটা ওষুধ লিখেছিলেন, সেটা সারা শহরে খুঁজে পেলাম না।

ডাক্তার প্রেসক্রিপশন দেখে বলল, হায় হায় করেছেন কী, আমি তো কলমটা লেখে কি না টেস্ট করার জন্য দাগ দিছিলাম পেছনে!

চঞ্চল কুমার ভৌমিক

 

সহকারী চাই

ফেসবুকের সামাজিকতা রক্ষা করার জন্য একজন ব্যক্তিগত সহকারী নিয়োগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ফেবু বন্ধুদের যাদের জন্মদিন, রাত ১২টা ১ মিনিটে তাদের উইশ করতে হয়। তখন উইশ করতে না পারলে দিনের যেকোনো একটা সময়ে অন্তত উইশ করতে হয়। সবচেয়ে ভালো হয়, ছবিসহ প্রশংসাবাক্যযুক্ত উইশ করতে পারলে।

এ ছাড়া বিভিন্ন বন্ধুর বিয়ে, বিয়েবার্ষিকী, প্রমোশনের মতো যাবতীয় খুশির সংবাদের পোস্টে ‘লাভ’ রিঅ্যাক্ট দিতে হয়, দুঃখের পোস্টে দিতে হয় অশ্রুসজল ইমো। সমাজ পরিবর্তনে বিশেষজ্ঞ মতামত থাকে যেসব পোস্টে, সেখানে ‘সহমত’ও লিখতে হয়। চোখ বন্ধ করে সব পোস্টে লাইক দিতে গিয়ে আবার যেন বিরোধী মতের কারো পোস্টে লাইক না পড়ে যায়, সেদিকেও মনোযোগ রাখতে হয়।

এই কাজগুলো ঠিকমতো করতে না পারায় অনেকেই অভিযোগ করেছেন এর আগে। মনে মনে রাগও পুষে রেখেছেন কেউ কেউ। আমার এহেন বিপদের দিনে যদি কোনো ভাই-বোন আমার হয়ে কাজগুলো করে দিতে রাজি হন, অতিসত্বর যোগাযোগ করুন।

দাউদ হোসাইন রনি

 

অফার

ভবিষ্যতে ভোটকেন্দ্রে ভোটার আনার জন্য এমন অফার দেওয়া যেতে পারে—ভোটকেন্দ্রে এলেই মগ ফ্রি! আর লটারির মাধ্যমে একজন ভাগ্যবান ভোটারের জন্য থাকবে বিশ লিটারের একটি বালতি!

রোহিত হাসান কিছলু

আমার স্লিম হওয়া

জয়া আহসান মাত্র তিন দিনে পাঁচ কিলোগ্রাম ওজন ঝরানোর সহজ কিছু টিপস্ দিয়েছেন একটা পত্রিকায়। আমি মহাখুশি। ডায়েট চার্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সামগ্রী আব্বুকে দিয়ে আনালাম।

হিসাবে বলে, তিন দিনে পাঁচ কেজি মানে ছয় দিনে দশ কেজি! ওহ্ নো! মাত্র এক সপ্তাহে আমি বলিউডি স্লিমনেস পাব, ভাবতেই শিহরিত হচ্ছি। তখন অনেক ছেলে আমার পেছনে লাইন দেবে, প্রপোজ করবে, কোলে তুলে বৃষ্টিতে ভিজে নাচতেও পারবে! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলাম, এই শুক্রবার থেকেই আমার মিশন শুরু করব।

বলে রাখা ভালো, আমি কিন্তু খুব মোটা নই। জাস্ট একটু বেশি কিউট আর কি! না, মানে গুলুমুলু স্বাস্থ্য যাকে বলে। যা-ই হোক, শুক্রবার সকালে নিজের হাতে গ্রিন টি বানিয়ে খেয়ে মিশনের প্রথম ধাপ শেষ করলাম। দুপুর নাগাদ রান্নাঘরে ম ম করা ঘ্রাণ আর হাঁড়ি-চামচের টুংটাং শব্দে গিয়ে দেখি, এলাহি কাণ্ড! বড় ভাইয়া কলিগদের নিয়ে আসবে, তাই বিশাল আয়োজন। কলিগদের একজন আবার ফ্রেঞ্চ, একজন কোরিয়ান আর দুজন বাংলাদেশি। ফলে রান্নার আইটেম হয়ে গেছে প্রায় পনেরো-ষোলোটা।

দুপুরে জয়া আহসানের মেন্যু দেখে মনটা চিলিক চিলিক করতে লাগল। এখন শুধু এক কাপ ভাত, প্রচুর সবজি আর শুধু শসা! এদিকে ঘরে আছে খাসির কাবাব, চিকেন রোস্ট, দোপিঁয়াজা, ইলিশের ফিশফ্রাই, খাসির কালিয়া, চায়নিজ সবজি, রুইয়ের মাথা দিয়ে রান্না করা আমার প্রিয় মাষকলাই ডাল...আরো কত কী!

সিদ্ধান্ত পাল্টালাম, রবিবার থেকে মিশন শুরু হবে। আজকের দিনটা খেয়ে নিই। কাল খাসির মাংসটা খেয়ে পরশু থেকে শুরু করব।

এদিকে আব্বু, আম্মু, ভাবি হেসে কুটিকুটি। আমার দ্বারা নাকি ডায়েট-ফায়েট হবে না। কিন্তু আমি মোটেও রাগ করছি না। আরে আমি তো দেখিয়ে দেবোই! জাস্ট রবিবার থেকে। ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ।

কিন্তু হায়! রবিবারে বড় আপার শ্বশুরবাড়ি থেকে মেহমান এলো। আমার মিশন আবারও পিছিয়ে গেল। এবার পেছাল সাত দিন। কারণ আপারা এত পরিমাণ মিষ্টি-রসমালাই এনেছে যে অধম আমার এগুলো শেষ করতে কয়েক দিন লেগে যাবে।

যাকগে, পরের রবিবার সকালে চা বানানোর সময় বান্ধবী রুনা হাজির। আরে! আমি তো বলেছিই, নিশির বার্থডেতে আমি যাব না, আমার জরুরি কাজ আছে। তা-ও রুনা টানতে টানতে নিয়ে গেল। মনে মনে ভাবলাম, আগামী শুক্রবার থেকে আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না।

কিন্তু পরের শুক্রবার সকালে আম্মু বলল, ‘পাগলামি করিস না, মা। কাল থেকে তোর সেমিস্টার ফাইনাল। পরীক্ষার পর যত খুশি ছাগলামি করিস।’

এই যা, ছাগল! এভাবেই আমি ব্যর্থ হলাম স্লিম হতে গিয়ে।

সুলতানা ক্যামেলিয়া

 

ইঁদুর-বিড়াল

ইঁদুর যখন বিড়াল দেখে হাসে,

বুঝতে হবে, গর্ত তার আশপাশে।

সজীব সাগর

 

প্রপোজ ডে

পাগলি, তুই আমার কেরোসিন হবি? তোকে দিয়ে আমার বংশের প্রদীপ জ্বালাব।

মঈন

 

পরামর্শ

একজন লিখল : ঝযববঃ লধু হধ শবহড় াধরুধ?

আমি লিখলাম : রোজ সকালে ইসবগুলের ভুসি খান। চলে যাবে!

খায়রুল বাবুই

 

স্টেশনে

স্টেশনে এক ভদ্রলোক তাঁর স্ত্রীকে রিসিভ করে প্ল্যাটফর্মে হাঁটছিলেন। স্বামী গম্ভীর। স্ত্রী জিজ্ঞেস করল, ‘এত দিন পর দেখা হলো, একটু হেসে কথা বলো। দেখছ না পাশের কাপলটা কেমন ইনজয় করছে, দেখে শেখো।’

স্বামী গম্ভীর হয়ে উত্তর দিল, ‘আমি রিসিভ করতে এসেছি। আর ও এসেছে বউকে তুলে দিতে।

বাবা মঈন

আপনার লেখা মজার স্ট্যাটাস অফলাইন পাতায় ছাপাতে চাইলে নাম-ঠিকানাসহ স্ট্যাটাসটি মেইল করুন ghorardim@kalerkantho.com-এই ঠিকানায়

 

মন্তব্য