kalerkantho

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



অফলাইন

পত্নীর আবদার

পত্নী—বুঝলে, আজ রাত্রে আমি রান্না করছি না, হোটেলে খাব।

পতিদেব—কোনো ব্যাপার না। হ্যাঁ, তো কোথায় খাবে ভাবছ? একটা মাঝামাঝি রেস্টুরেন্টে গেলেই হবে, কী বলো?

পত্নী—মোটেই না। আজ ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করব, রয়াল প্যালেস হোটেলে যাব।

পতিদেব—(একটুক্ষণ চুপ থাকার পর) ও, আচ্ছা। ঠিক আছে তবে....। সন্ধ্যা ৭টায় যাব তো? তৈরি থেকো।

পত্নী—ংঁত্ব.

সন্ধ্যা ৬:৩০ কারে করে যেতে যেতে ...

পতিদেব—আজকাল ফুচকাওয়ালার সংখ্যা এ রাস্তায় বেশ বেড়েছে। জানো তো, একবার আমি বন্ধুদের সঙ্গে বাজি রেখে ৩০টা ফুচকা খেয়েছিলাম, আর বাজি জিতে গেছিলাম!

পত্নী—এ আর এমন কী বাহাদুরি!

পতিদেব—বাহাদুরিই! আমাকে আজ অবধি ফুচকা খাওয়ায় কেউ হারাতে পারেনি।

পত্নী—ছাড়ো তো! ফুচকা খাওয়ায় তোমাকে আমি গুনে গুনে হারাতে পারি।

পতিদেব—তুমি! হাসালে বন্ধু! আমি ভালোমতোই জানি, তুমি গো-হারা হারবে। গোটা বিশেক বড়জোর, তারপরই হা হা হা...।

পত্নী—হয়ে যাক চ্যালেঞ্জ। দাঁড় করাও গাড়ি, এক্ষুনি—

পতিদেব ৩০টা ফুচকা খেয়ে কৃত্রিম ঢেকুর তুলে খাওয়া বন্ধ করে দিল। পেট তো শ্রীমতীরও ভরে গেছিল, তবু আরো একটা ফুচকা খেয়ে নিয়েই শ্রীমতী খুশিতে, আনন্দে চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘জিতে গেছি, জিতে গেছি।’

পতি স্মিত হেসে হার স্বীকার করে নিলেন। বিল এসেছিল ১২০ টাকা আর পত্নী যখন ঘরে ফিরেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন জেতার আনন্দে ডগোমগো।

গড়ত্ধষ : ম্যানেজমেন্টের মুখ্য উদ্দেশ্য এটাই, মিনিমাম বিনিয়োগের মাধ্যমে ম্যাক্সিমাম আউটপুট এবং কর্মচারীদের সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি।

বাবা মঈন

বইমেলা

বইমেলার আগে এক মেয়ে আগ্রহী হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনার বই বইমেলায় পাওয়া যাবে?’

মেলা শুরু হওয়ার পর সেই মেয়ে আগ্রহী হয়ে আবার জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনার বই অনলাইনে কবে পাওয়া যাবে?’

আজ তিনি জিজ্ঞেস করেছেন, ‘আপনার বইয়ের পিডিএফ কবে পাওয়া যাবে?’

আমি কনফিউজড। মেয়েটা আসলে কী চাচ্ছে?

দেব জ্যোতি ভক্ত

 

পার্থক্য

মেয়েরা যদি স্ট্যাটাস দেয় ‘মন ভালো’, তাহলে সবাই আবেগী হয়ে এর কারণ খুঁজতে থাকবে। আর আমি যদি দিই, তাহলে সবার কমন কমেন্ট থাকবে, ‘বউ কি প্যাদানি দিচ্ছে?’

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

অনুবাদ

I love u too-এর বাংলা অনুবাদ কী?

সৎ-উত্তর : আমিও তোমাকে ভালোবাসি।

অসৎ-উত্তর : আমি তোমাকেও ভালোবাসি!

খায়রুল বাবুই

 

পরামর্শ

গাড়িতে করে কোথাও যাওয়া-আসার সময় অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার গাড়িতে বসে খাবেন না। বাসায় নিয়ে গিয়ে খাবেন। ভালো ঘুম হবে।

নিয়াজ মোর্শেদ

 

প্রশ্ন ফাঁস

প্রশ্ন ফাঁসের কথা বাদ দিন। ফাঁসকৃত প্রশ্ন গরিব ছাত্ররা যাতে সহনীয় মূল্যে পায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অনেক গরিব ছাত্র টাকার অভাবে ফাঁসকৃত প্রশ্ন পায় না।

মতিন মাহমুদ

 

ছবি

আমরাই শেষ প্রজন্ম, যাদের ছোটবেলার ছবি মোবাইলে তোলা নয়।

আনোয়ারুল আলম সজল

 

বিচিত্র দেশ

যেই দেশে ৩০০ টাকার এনার্জি বাল্ব ১০০ টাকায় পাওয়া যায়, সেই দেশে ‘আমার মতো আর কাউকে পাবা না’—এই ডায়ালগ দিয়ো না!

ওয়াজেদুর রহমান

 

 

জাস্ট ফ্রেন্ড

প্রেমিকার জাস্ট ফ্রেন্ড সতীনের চেয়েও ডেঞ্জারাস!

সামিউল আজিজ সিয়াম

 

চুল

চুল আঁচড়াইতে চিরুনির আগে চুল লাগে।

কামার উদ্দিন আরমান

 

 

 

শিক্ষা

টিভি সিরিয়ালগুলো থেকে শেখার কিছু নেই—ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। শেখার মতো বিষয় অবশ্যই আছে। এই সিরিয়ালগুলো আমাদের নারীদের ধৈর্যশীল হতে শেখায়। তারা দুই মিনিটের কাহিনি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা ধরে বিস্ময়কর ধৈর্য নিয়ে দেখেন!

ইমন চৌধুরী

 

রিকশাওয়ালা

আব্বু কথা রেখেছেন। তিনবার ইন্টারমিডিয়েট ফেল করার পর আমার বোনের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন রিকশাওয়ালার সঙ্গে। সব বাবাই যদিও এ রকম কথা রাগ করে বলেন; কিন্তু আমার আব্বু এককথার মানুষ। বলেছেন এবং দিয়েছেন।

আমার রিকশাওয়ালা দুলাভাইকে নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত। যখন-তখন আমার সঙ্গে এসে শালী শালী বলে ঢং করে, এত লোকের মধ্যে এটা আমার খুবই বিরক্ত লাগে।

ভয়ে ভয়ে আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করছি। আমি ফেল করতে চাই না। আমি রিকশাওয়ালা বিয়ে করতে আগ্রহী নই।

দুলাভাইয়ের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড আমরা জানতাম না। আব্বু একদিন ওনার রিকশায় বাজার করে ফিরছিলেন। তখন উনি আব্বুর সব বাজার নিজে হাতে করে বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেছেন দেখে আব্বু মুগ্ধ হয়েছেন। যার ফলস্বরূপ ওনার সঙ্গে আমার বোনের বিয়ে। কিন্তু ওনার ফ্যামিলির সঙ্গে আমাদের এখনো দেখা হয়নি। দুলাভাই সারা দিন রিকশা চালিয়ে বাসায় এসে ঘাম মুছতে মুছতে ডাকেন, ‘ও বউ, ও শালী! পানি দেও।’

মনের দুঃখে আমার বোন কয়েকবার আত্মহত্যা করতে গেছে। প্রতিবারই আব্বুর কাছে জোরসে থাপ্পড় খেয়েছে। দুলাভাইকে আমার বোন দেখতে পারে না। রাতে আমার ঘরে এসে থাকে আর সারা রাত কাঁদে, ‘লাবণ্য, এ আমার কী হয়ে গেল রে! আমার বয়ফ্রেন্ড ছিল সরকারি অফিসার আর আমার বিয়ে হয়ে গেল একটা রিকশাওয়ালার সাথে রে!’

আপুকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই। সামনে আমারও রেজাল্ট, আমি খুবই আতঙ্কে আছি। হয়তো আমার বর হবে এক অটোওয়ালা। তারপর দুই ভায়রা-ভাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকালে একজন অটো নিয়ে বের হবে আর একজন রিকশা। এদিকে আমরা দুই বোন প্রাইভেট কার ছাড়া কোথাও যাই না। কী একটা অবস্থা!

দুশ্চিন্তায় শিউরে উঠে আমার আর সেই রাতে ঘুম হয় না।

আমার বিদেশ থাকা ফুফি বাসায় এসেই চিল্লাচিল্লি শুরু করেছেন! আব্বুকে বলছেন, ‘এইটা তুমি কী করলা? এত বড় ক্ষতি কেউ নিজের মেয়ের করে? এর চেয়ে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতা, আমি কি মরে গেছিলাম?’

এসব বলতে বলতে দুলাভাইয়ের কাছে গিয়ে রাগী গলায় বললেন, ‘you scoundrel! How dare you? I will sue you!’

দুলাভাই বললেন, ‘You can’t, bcz she is my legal wife. And whatever, ও have no mistakes actually...’

আমরা সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি দেখে দুলাভাই আবার বললেন, ‘আমিও ভালো ঘরের সন্তান। আমিও ইন্টার ফেইল। ইংরেজিতে ভালোই ছিলাম, অঙ্কে ধরা খাইছি। এ জন্য আমার আব্বুও আমাকে রিকশা কিনে দিছে!’

ফারহান তানভীর দ্বীপ

মন্তব্য