kalerkantho

পুরুষদেরই কেন মশারি টাঙাতে হয়

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মশারির চার কোনা কেন হয়? তিন বা পাঁচ কোনা কেন হয় না? আপনারা কখনো এমন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন? আমি পড়েছি। এক বড় ভাই হঠাত্ প্রশ্নটা করে বসলেন। তিনি অবশ্য উত্তরও দিয়ে দিয়েছিলেন। উত্তর একটু পরে বলছি। তার আগে এই গল্পটা বলা জরুরি—

বছরখানেক আগে এক বড় ভাইকে ফোন দিয়েছিলাম। কী করছেন জিজ্ঞেস করতেই ভাই বললেন : কাপড় ধুচ্ছি।

আমি বললাম—ভাই,  এই বয়সে কাপড় ধোয়ার বিষয়টা কেমন যেন দেখায়। দ্রুত বিয়ে করেন। আপনাকে আর কাপড় ধুতে হবে না।

বড় ভাই বিয়ে করলেন। আমার ধারণা, তাঁর দিন সুখেই কাটছিল। কারণ, বিপদে পড়লে পরামর্শের জন্য আমাকে ফোন দেন। তিন-চার মাস হয়ে গেল, ফোন দেন না। ভাই কতটা সুখে আছেন জানার জন্য আমিই ফোন দিয়ে বললাম, ‘ভাই, কী করছেন?’

ভাই গলার স্বর একটু নামিয়ে বললেন, ‘এই তো, কাপড় ধুচ্ছি।’

‘সেকি, বিয়ের পরেও আপনার কোনো পরিবর্তন হয়নি?’

‘হয়েছে। আগে একজনের কাপড় ধুতাম। এখন দুজনেরটা ধুতে হয়।’

আরেক বড় ভাইকে দেখেছি, সাত-আট বছর সংসার করছেন। স্বামী-স্ত্রীতে কখনো ঝগড়া হয়নি। সুখের গোপন রহস্য জানতে চাইলে রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল, অ্যাডজাস্টমেন্ট রে ভাই, অ্যাডজাস্টমেন্ট।

আমরা সবাই সুখী হতে চাই। জানা দরকার। ভাইকে চেপে ধরলাম, ‘কী অ্যাডজাস্টমেন্ট? কিভাবে করলেন, আমাদের শেখান। একদিন আপনি মশারি টাঙান, আরেক দিন ভাবি?’

বড় ভাই বললেন, ‘আসলে আমরা খুবই হেল্পফুল। আমি তার রান্নার কাজে হেল্প করি, সে আমার কাপড় ধোয়ায় হেল্প করে।’

‘কী রকম?’

‘রান্নার সময় আমি তার মসলাপাতি এগিয়ে দিই। কাপড় ধোয়ার সময় সে সব কাপড় এগিয়ে দেয়।’

মশারি পুরুষদের কেন টানাতে হয়, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তার পরও এক ভদ্রলোককে প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তরে বললেন : তুমি কি জানো, মানুষের রক্ত খায় শুধু স্ত্রী মশা? এক স্ত্রীর (মশা) হাত থেকে পুরুষকে আরেক স্ত্রী (ঘরের স্ত্রী) কেন রক্ষা করবে? স্ত্রীদের হাত থেকে সুরক্ষার উপায় তাই পুরুষদেরই নিতে হয়।

তবে কবে থেকে মশারি টাঙানোর প্রথা পুরুষদের ঘাড়ে চাপানো হলো ,তা নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে। গবেষণা শুরুর আগে আরেকটি ঘটনা জানা দরকার। এক লোক স্ত্রীর সঙ্গে তুমুল ঝগড়া করছে। সে একাই কেন মশারি টানাবে। এ নিয়ে চুক্তি হওয়া উচিত। চুক্তিপত্র নির্মাণ কমিটির একমাত্র সদস্য স্ত্রী নিজেই। চুক্তিপত্র হাতে নিয়ে স্বামীর চোখ কপালে। তাতে লেখা ছিল, ‘এক দিন তুমি মশারি টাঙাবে, আমি ঘুমাব, পরদিন আমি ঘুমাব তুমি মশারি টাঙাবে।’

শুরুর গল্পে ফেরা দরকার। কথা বলছিলাম মশারির কোনা নিয়ে। মশারি চার কোনা কেন হয়, প্রশ্নের উত্তরে অবিবাহিত সেই বড় ভাই বলেছিলেন, মশারির কোনা জোড় সংখ্যায় হয়। যাতে দুই কোনা স্বামী, আর বাকি দুই কোনা স্ত্রী টাঙাতে পারে।

এই বাণী দেওয়ার কিছুদিন পর বড় ভাই বিয়ে করেন। বিয়ের পর একদিন দেখা। জানতে চাইলাম, ‘ভাই, খবর কী?’

তিনি বললেন, ‘জীবনে যা শিখলাম সব ভুল রে। মশারির চারটা কেন, ৪০০ কোনা হলেও তা স্বামীকেই টাঙাতে হতো।’

আমি বললাম, ‘তার মানে মশারি আপনাকে টাঙাতে হয়? এ তো অন্যায়। এমন অন্যায় মেনে নিলেন?’

ভাই বললেন, ‘শুরুতে মানিনি। নালিশ নিয়ে আব্বুর কাছে গিয়েছিলাম। দরজার বাইরে থেকে আব্বুকে বললাম, একটু বাইরে আসো। জরুরি কথা আছে। আব্বু বললেন, তুমি সোফায় বসো, মশারিটা টাঙিয়েই আসছি।’

মন্তব্য