kalerkantho


বদনামের পরিণাম

জাহাঙ্গীর আলম

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বদনামের পরিণাম

জরুরি একটা কাজে আমাকে বাইরে যেতে হবে, তাই জলদি করে দুপুরের খাবার খেতে বসলাম! মাহি মানে আমার স্ত্রী আর আমি, সব সময় একসঙ্গে খেতে বসি। আজ আমার তাড়া দেখে মাহি বলল, ‘তুমি খেয়ে নাও, আমি পরে খাব। আমার হাতে এখনো কিছু কাজ বাকি আছে!’

অগত্যা একাই খেতে শুরু করলাম। মুরগির মাংসটা দারুণ হয়েছে। ঠিক যেন মায়ের হাতের রান্না। মুখে দিতেই মনে হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে সুস্বাদু খাবার খাচ্ছি।

খাওয়া শেষ হতেই মাহি এসে পাশে দাঁড়াল। মাথায় তখন একটা দুষ্টু বুদ্ধি এলো। ভাবলাম, এত মজাদার রান্নার জন্য ওকে একটু রাগিয়ে দেওয়া যাক। তাই আমি মুখ গোমড়া করে বললাম, ‘কী রান্না করেছ! জঘন্য স্বাদ। এগুলো মাংস নাকি অন্য কিছু? তোমার মা রান্না করা শিখিয়ে দেয়নি? আমার এখন জরুরি কাজে যেতে হবে বলে এই বাজে রান্না খেতে হলো, নয়তো হোটেল থেকে খাবার এনে খেতাম।’

মাহি কিছু বলতে চেয়েছিল; কিন্তু আমি সে সুযোগ না দিয়ে হরহর করে বেরিয়ে এলাম।

রাতে বাসায় ফিরে দেখি, মাহি টিভি দেখছে। আমি কাছে গিয়ে বসলাম; কিন্তু কোনো কথা বলল না। জিজ্ঞেস করলাম, ‘রাতে কী রান্না করবে?’

মাহি রেগে বলল, ‘আমার মাথা রান্না করব!’

এই বলে সেখান থেকে উঠে চলে গেল। বুঝতে পারলাম, সে এখনো রেগে আছে। আমিও কিছু না বলে রুমে গিয়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়লাম।

প্রায় এক ঘণ্টা পর মাহি আমার রুমে এলো। হাসিমুখে বলল, ‘খাবার রেডি, খেতে আসো।’

আমি ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলের সামনে এসে অবাক হয়ে গেলাম। অনেক রকমের খাবার রান্না করেছে! হয়তো দুপুরে তার রান্নার বদনাম করছিলাম, এ জন্য এখন এত কিছু! মনে মনে ভাবলাম, বেচারি কষ্ট করে এত রান্না করছে শুধু আমার জন্য।

এর মধ্যে মাহি বলল, ‘কী হয়েছে, এভাবে তাকিয়ে আছ কেন? খাওয়া শুরু করো।’

আমি আর কোনো কথা না বলে খাওয়া শুরু করলাম। সে জিজ্ঞেস করল, ‘কেমন হলো রান্না?’

খাবারে মোটেও স্বাদ ছিল না। এর চেয়ে দুপুরের খাবার অনেক ভালো ছিল; কিন্তু তার রাগ কমানোর জন্য মিথ্যা বললাম, ‘অনেক ভালো হয়েছে। ফ্যান্টাস্টিক! সুপার! মনে হচ্ছে, পৃথিবীর সবচেয়ে সুস্বাদু জিনিস খাচ্ছি।’

খেতে খেতে আরো অনেক মিথ্যা তারিফ করলাম। খাওয়া শেষ করে ড্রয়িংরুমে এসে বসতেই মাহি বলল—‘এই, শুনছ!’

হ্যাঁ, শুনছি, বলো!

এখন থেকে মানিব্যাগে সব সময় বাড়তি টাকা রাখবে।

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বাড়তি টাকা রাখতে হবে কেন?’

যাতে হোটেল থেকে সুস্বাদু খাবার এনে তোমাকে খাওয়াতে পারি!

এই, থামো থামো, এতক্ষণ যে খাবার খেলাম, সেগুলো কি হোটেল থেকে এনেছ?

আমার কথা শুনে সে হাসতে লাগল। আমি তাড়াতাড়ি উঠে মানিব্যাক চেক করলাম। পাঁচ হাজার টাকার মতো ছিল, এখন দেখি একটা টাকাও নেই, একেবারে শূন্য!

মানিব্যাগের টাকাগুলো গেল কোথায়?

একটু আগে যে খাবারগুলো খেয়েছ, সেই খাবারগুলো মানিব্যাগের টাকা দ্বারা এসেছে!

পাঁচ হাজার টাকার মতো ছিল, এই সামান্য খাবারের দাম এত টাকা?

জনাব, আসলে তা নয়। পাঁচ দিনের জন্য খাবারের অর্ডার করে দিয়েছি। এখন থেকে রোজ দুপুরে আর রাতে হোটেল থেকে খাবার পৌঁছে যাবে বাসায়!

আরে তুমি কি পাগল হয়ে গেলে, এমন কেন করলে!

দুপুরে আমায় বলছিলে আমি রান্না করতে পারি না। আমার হাতের রান্না ভালো হয় না। আমার মা আমাকে রান্না করা শিখিয়ে দেয়নি। তাই এখন থেকে আমি আর রান্না করব না। হোটেল থেকে খাবার এনে তোমাকে খাওয়াব। তাই এখন থেকে মানিব্যাগে সব সময় বাড়তি টাকা রাখবে, যাতে করে খাবারের বিল পরিশোধ করতে পারি!

তার কথা শুনে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম। মনে মনে ভাবলাম, ‘এ কেমন বউরে বাবা! সামান্য একটু রান্নার বদনাম করলাম, তাতে আমার মানিব্যাগ শূন্য! এখন থেকে রান্না যেমনই হোক, প্রশংসা করেই খাব।’



মন্তব্য