kalerkantho

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অফলাইন

বিরতির পর

একজন ফেসবুক গবেষক জানাল, “ভাই, জুকারবার্গ শালা তো ফেসবুকের ‘রিচ’ কমিয়ে দিয়েছে। যে কারণে লাইক কমে যাচ্ছে প্রতিদিন। সে চায় মানুষ পেজ করুক। বুস্ট করুক। তার ব্যবসা বাড়ুক।”

আমি তার সহমত ভাই হিসেবে বললাম, ‘তাই তো বলি, এই ঘটনা?’

আমরা যারা ৮০০ বা হাজার লাইক পেয়ে সমাজে একটা সেলিব্রিটি ভাব নিয়ে চলতাম, তাদের তো পুরা শোয়াইয়া দিল। এখন ২০০-৩০০ পাই।

লাইক কমে আসায় রাস্তায় আগের মতো ভাব নিয়ে চলতে পারি না। বিভিন্ন জায়গায় গেলে যারা চিনত, সালাম দিত, চেয়ার ছেড়ে দিয়ে দাঁড়াত, তারা এখন স্নেহসুলভ দৃষ্টিতে তাকায়।

এক চেয়ারে বসে আরেক চেয়ার দেখিয়ে দেয়, টেনে বসেন।

শুনে সে আরো রেগে গেল। আমার তো আরো খারাপ অবস্থা ভাই, অনেক কষ্টে লাইক দেড় শ তুলেছিলাম। এখন আশির ওপরে উঠছে না।

আমি বললাম, এটা কী তোলার জিনিস?

সে কিছুটা থতমত খেয়ে বলল, তা অবশ্য না। তবে নানা পেজ থেকে কোনো মজার লেখা এনে আগে আগে পোস্ট করতাম। নানা খবর পাওয়ামাত্রই টাইমলাইনে দিতাম। কোনো বিখ্যাত লোক মরে গেলে ‘ইন্নালি...’ পড়ার আগে ফেসুবকে ‘ওপারে ভালো থাকবেন’ বলে পোস্ট দিতাম। আগে দিলে বেশি লাইক।

আমি তার দিকে তাকিয়ে চাপা নিঃশ্বাস বের করে বললাম, এত কষ্ট করতে হয় লাইকের জন্য, এত সময় দিতে হয় ফেসবুকের জন্য?

সে জানাল, ভার্সিটিতে বন্ধুরা এসব নিয়ে কথা বলে, কার কেমন লাইক হলো তা নিয়ে আলোচনা হয়। ফলোয়ার বাড়ানোর প্রতিযোগিতা হয়।

আমি তার সমব্যথী হিসেবে জানতে চাইলাম, তা এখন তোমার করণীয় কী?

মেজাজ খুব খারাপ, ভাই।

আমি বললাম, আমারও তো শুনে মেজাজ খারাপ হচ্ছে। তোমার জন্য আরো বেশি হচ্ছে। কী একটা অবস্থা! জুকারবার্গ এটা একটা কাজ করল? এই জন্য মানুষরে বেশি দাম দিতে নাই।

সে বলল, ভাই, আপনার কাছে কোনো উপায় আছে?

আমি বললাম, অবশ্যই। জুকারবার্গকে শিক্ষা দেওয়ার কোনো বিকল্প নাই। দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। সে যেন মাস্ট দাঁতের ডাক্তার দেখাতে বাধ্য হয়।

বেশ বিপ্লবী কণ্ঠ নিয়ে বলল—কিন্তু কিভাবে দেব?

আইডি বন্ধ করে দাও।

সে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে গেল, এটা কী বলেন? কার আইডি?

আমি বললাম, অবশ্যই তোমার। প্রকৃতিকে শীতল করতে বৃষ্টির একটা ফোঁটারও অবদান আছে। সেই এক ফোঁটাই হোক তোমার আইডি। তোমার দেখাদেখি একদিন বৃষ্টি হবে। সেই বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে জুকারবার্গের সব ব্যাবসায়িক প্ল্যান।

সে সব বুঝল, কিন্তু আইডি বন্ধ করাতে আগ্রহী বলে মনে হলো না।

বলল, দেখি ভাই কী করা যায়।

আমিও দেখো বলে চলে এলাম, জানি সে ফেসবুক ছাড়া থাকতে পারবে না। ঘণ্টায় তিনটি স্ট্যাটাস না দিতে পারলে সে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাবে। এমন অনেকেই আছে।

একজনকে জানি, একদিন সকালে একজন আমাকে ফোন করে বলল, ভাই ফেসবুকের কী অবস্থা?

আমি বললাম, ফেসবুকের কী অবস্থা মানে কী?

বলে, আমি তো ফেসবুকে নাই। আপাতত দূরে আছি।

দ্বিধা নিয়ে জানতে চাইলাম, কবে থেকে?

বিজয়ীর ভাব নিয়ে বলল, গতকাল সন্ধ্যা থেকে।

আমি অবাক হওয়ার ভাব নিয়ে বললাম, একটা ভালো কাজ করেছেন। আর আইসেন না।

সে-ও বলেছিল, দেখি।

আমি তার প্রোফাইলে ঢুকে লাস্ট পোস্ট কখন দিয়েছে দেখতে গিয়ে বের হতে হতে দেখি তার নতুন পোস্ট, বিরতির পর ফিরে এলাম...

ইশতিয়াক আহমেদ

টুথপিক

ভাগ্নিকে টুথপিক দিতে বললাম।

একটু পর সে এত্তগুলা ‘দাঁতের ছবি’

দিয়ে গেল আমায়!

আরকানুল ইসলাম

 

 

হাতে তিল

হাতে তিল থাকলে নাকি রান্না ভালো হয়। এত ভালো হয় জানতাম না। আব্বুকে লাউ রান্না করে দিছি, আব্বু বলে পেঁপেটা ভালো হইছে।

নিতু শেখ

 

পেটে কথা

কে বলে মেয়েদের পেটে কথা থাকে না?

জিজ্ঞেস করে দেখেন, কোন ক্রিম ব্যবহার করে ফরসা হয়েছে। জীবনেও বলবে না!

ফজলুল হক

 

ব্যাকআপ

ওরে মনু...ইধপশঁঢ় না রেখে কেউ ইত্বধশঁঢ় করে না।

অপ্সরা তাবাসসুম তৃশি

 

একটা জিনিস খেয়াল করছি, মেয়েরা যখন ফ্রেন্ড থাকে, তখন বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে বলে, দশ বছরের আগে বিয়ে করব না! কিন্তু বান্ধবী থেকে যখন প্রেমের সম্পর্ক হয়ে যায়, তখন প্রতিদিনই বলে—বিয়ে করবা কবে? আমার জন্য ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, টাকলু বিয়ের প্রস্তাব আসতাছে, এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে না করলে আরেকজনের গলায় ঝুলে গেলাম।

 

সোহানূর রহমান অনন্ত

প্রেমের ট্যাক্স

 

যখন আমরা স্টুডেন্ট তখন চাই, ৪০ দিনে এক মাস হলে ভালো হতো। আর যখন আমরা চাকরিজীবী, তখন চাই ২০ দিনে কেন যে এক মাস হলো না।                                          ইমা পল সাহা

রিমোটের ব্যাটারি

 

বাঙালির টিভির রিমোট ব্যাটারিতে চলে দুই মাস, আর থাপ্পড়ে চলে আরো তিন মাস।

মুকুল আহমেদ

আগে-এখন

আগে মেয়েরা রাগ করলে খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিত। আর এখন মেয়েরা রাগ করলে অনলাইনে আসা বন্ধ করে দেয়!

সাকি

ধুরন্ধর কসাই

 

টেকনিকে কোপ মারে; মাংসের একটা অংশ উড়ে গিয়ে তার সিক্রেট ব্যাগে ঢোকে, আরেকটি অংশ উড়ে গিয়ে তার লুঙ্গির ভাঁজে ঢোকে। আর সবচেয়ে ছোট অংশটা সে আমার গামলায় রাখছে।

অনেক্ষণ থেকে এ রকম চলছে। চাপাতি তার হাতে আছে দেখে এখন কিছু বলছি না। কাজ শেষ কর, চাপাতি জমা দে, তারপর আমি তোর সিক্রেট ব্যাগ আর বাটিক প্রিন্টের লুঙ্গি নিয়ে সোজা বাসায় হাঁটা দেব।

তোর যেমন কাজেকর্মে আর্ট আছে, আমারও আছে।

আরিফ আর হোসাইন

 

 

আপনার লেখা মজার স্ট্যাটাস অফলাইন পাতায় ছাপাতে চাইলে নাম-ঠিকানাসহ স্ট্যাটাসটি মেইল করুন ghorardim—kalerkantho.com-এই ঠিকানায়



মন্তব্য