kalerkantho


২১১৮ সালে একদিন

গাছপালা কাটার কারণে পরিবেশ যেভাবে চেঞ্জ হচ্ছে, তাতে ১০০ বছর পর এমন ঘটনা ঘটতেও পারে। লিখেছেন ফারজানা নিপা

১০ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



২১১৮ সালে একদিন

আপনি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন?

সরি, মর্জিনা। আমি আপনাকে শুনতে পাচ্ছি না; কিন্তু আপনার কথা শুনতে পাচ্ছি।

 

বৃষ্টি আসার সর্বশেষ খবর আমাদের জানান।

মর্জিনা, আমি তো এখনো বৃষ্টির খবর জানতে পারিনি। ঠিক আছে। আমাকে বলতে দিন। আপনি জানেন যে আবহাওয়া অফিসের একজন কর্মকর্তা আজ সকালে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজ বিকেলে বৃষ্টি আসবে।’ সে খবর শুনে দুপুরের পর থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা আগারগাঁওয়ে জড়ো হতে শুরু করেছেন। এখানে এখন সাংবাদিকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।

 

আমি বৃষ্টি আসার খবর জানতে চেয়েছিলাম।

সেটাই বলছি। কবি বলেছেন, ‘তুমি এলে, অনেক দিন পর আজ বৃষ্টি এলো।’ হ্যাঁ, আজ আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, সেই বহু প্রত্যাশিত বৃষ্টি। যার মুখের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ বৃষ্টিতে স্নাত হওয়ার গৌরব অর্জন করবে।

 

কিন্তু মতিন, বৃষ্টি আসার কোনো লক্ষণ কি আপনি দেখতে পাচ্ছেন? আকাশে কি কোনো মেঘ জমেছে?

আমি এই মুহূর্তে মাথার ওপরের আকাশ বাদে আর কোনো আকাশ দেখতে পাচ্ছি না। চারদিকে শুধু উঁচু উঁচু দালান। তবে একটু উঁকি মেরে চেষ্টা করা যায়। আমি আমাদের ক্যামেরাম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ক্যামেরাটা একটু ওই কোণের দিকে ঘোরান। হ্যাঁ, ওই কোণে হালকা মেঘ দেখা যাচ্ছে। ওই কোণটা কি ঈশান কোণ?

 

ঈশান কোণ আবার কী?

এই মুহূর্তে ঠিক বলতে পারছি না। আমরা এটা জানার জন্য এর পরে কোনো একজন ভাষাবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।

 

এ মুহূর্তে আগারগাঁওয়ের পরিস্থিতি কী?

পরিস্থিতি ভয়াবহ। সব সংবাদকর্মী ভিজে গেছেন। না, বৃষ্টিতে নয়, ঘামে। তবু তাঁরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন, কখন বৃষ্টি আসবে জানার জন্য। বৃষ্টি এলে খরায় কাতর লোকজনের অনুভূতি জানতে চাইব। অনুভূতি জানতে চাইব তপ্ত রাজপথের, শুকনো গাছপালার। মর্জিনা, আমরা দেখতে পাচ্ছি, আবহাওয়া অফিসের সেই কর্মকর্তা বের হয়ে আসছেন। তিনি আমাদের জানাবেন সর্বশেষ খবর।

কর্মকর্তা : নতুন কোনো খবর নেই। আরো দু-তিন দিন খরা অব্যাহত থাকবে। আপনারা সরে দাঁড়ান। আমাকে যেতে দেন। আমি এয়ারপোর্টে যাব। আমার মেয়ে বৃষ্টি আজ আসবে আমেরিকা থেকে।

 


মন্তব্য