kalerkantho


একটি স্মার্টফোনের আত্মকাহিনি

মো. সাখাওয়াত হোসেন   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



একটি স্মার্টফোনের আত্মকাহিনি

কোন স্থানে, কী নোংরা দুর্গন্ধময় পরিবেশে আমি বসবাস করছি, আপনারা জীবনেও বুঝতে পারবেন না। মাঝামাঝি স্থান থেকে গল্প বলাটা পেশাদারি পর্যায়ে পড়ে না। শুরু থেকেই শুরু করি। আমার জন্মের পর ঢাকার চমৎকার একটি মোবাইলের শোরুমে স্থান পেলাম। পাশেই ছিল এক চায়নিজ মেয়ে, মানে মেড ইন চায়নার মোবাইল। কী দারুণ দেখতে মেয়েটি, কী দারুণ রেজল্যুশন! তাকে দেখে আমার মাদারবোর্ড ও ফাদারবোর্ড দুটিই নড়ে গেল। প্রেমে পড়ব পড়ব করছি, এ সময় এক ছাগলা তরুণ এসে আমাকে কিনে ফেলল। বুঝলাম, আমার স্ক্রিনে (পড়ুন কপালে) খারাবি আছে। তরুণ আমাকে কিনেই একটা কফিশপে বসে গেল। সঙ্গে সঙ্গে আমাকে অন করে সেলফি। আরে ব্যাটা আগে বাসায় নে, তারপর টানা চার ঘণ্টা চার্জ দে। তা না, সে সেলফি তুলেই ফেসবুকে আপ করে দিল।

ক্যাপশন : ফ্রান্স...নতুন মোবাইলে সেলফি। কেমন লাগছে আমাকে?

আরে রামছাগল! ফ্রান্স তো একটা দেশের নাম। তুই ফ্রেন্ডস না লিখবি। যে দেশে জিনেদিন জিদানের মতো মানুষ আছে, তুই সে দেশকে নিয়ে মশকরা শুরু করছস? কার হাতে পড়লাম আমি! দুঃখে আমার ব্যাটারি লো হয়ে গেল। রামছাগলের টনক নড়ল। সে আমাকে বাসায় নিয়ে চার্জে দিল। চার্জ হতে যা দেরি, বেয়াদবি শুরু করতে দেরি নেই। উঠতে-বসতে, নড়তে-চড়তে, খেতে-পান করতে, হাঁটতে-দৌড়াতে সেলফি। আমাকে দিয়ে যে কথাও বলা যায়, সেটা তারে কে বোঝাবে! কথা না বলতে বলতে আমি কথা বলাও ভুলে গেলাম। এমনও দিন গেছে মনের মতো না হওয়ায়, সে টানা ১২২টি সেলফি তুলছে; যার মধ্যে লোড করছে খালি একটি। গিনেস বুকের লোকগুলা এইটারে এখনো খুঁজে বের করে নাই কেন, কে জানে!

তারপর এলো সেই নির্মম নিষ্ঠুর দিন। কোনো এক সেলিব্রিটি নাকি গোসল করা অবস্থায় মাথায় শ্যাম্পুসহ সেলফি তুলছে, তাই তাকেও তুলতে হবে। আরে তুই কি সেলিব্রিটি নাকি? তুই তো উত্কৃষ্ট রামছাগল। রামছাগল, রামছাগলের মতোই কাজ করছে। সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিতে গেছে। ক্যাপশন শুরু করছে, ফ্রান্স...

এতটুকু লেখার পর আমি ফ্রান্স না ডাইরেক্ট হনুলুলুতে চলে গেলাম। মানে সোজা কমোডে। কোন স্থানে, কী নোংরা দুর্গন্ধময় পরিবেশে আমি বসবাস করছি, আপনারা জীবনেও বুঝতে পারবেন না।


মন্তব্য