kalerkantho


একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ডিম কাহিনি

উম্মে বুশরা সুমনা

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ডিম কাহিনি

‘ছেলে তো নয় যেন সোনার ডিম পাড়া হাঁস, মাসে সিক্স ডিজিটে ইনকাম করে, কম কথা?’

মামির একটু বাড়িয়ে বলার অভ্যাস আছে। তার কথা শুনে ভেতরের ঘরে হাসির ফোয়ারা শোনা গেল। একদল শ্যালিকা এসে পাশে বসে খুঁচিয়ে দিল, ‘কী, নতুন দুলামিয়া! এ পর্যন্ত কয়টা সোনার ডিম পেড়েছেন? না, মানে চাকরির কয় মাস চলছে জানতে চাচ্ছিলাম আর কি!’

শফিক এমনিতেই ভীতুর ডিম। ভয়ে বিয়েই করতে চাচ্ছিল না। তার ওপর বিয়ের আসরে শ্যালিকাদের এহেন অত্যাচারে সে আরো ভয় পেয়ে গেল। শ্যালিকাগুলো যদি এমন হয়, তাহলে বউ না জানি কেমন!

বাসরঘরে ডিম লাইটের আলোয় ভয়ে ভয়ে বউকে দেখল। না, দেখতে মন্দ নয়। কিন্তু কথা বলতে বলতে একসময় খেয়াল করল যে নতুন বউ কুসুমের ‘ঘোড়ার ডিম’ বলার মুদ্রাদোষ আছে। পরের দিন বিকেলে কুসুমের হাতের ডিমের চার পদের নতুন রেসিপির নাশতা খেয়ে বাড়ির সবাই নতুন বউয়ের প্রশংসা করতে লাগল। দিন গড়াল। কুসুম তার প্রতিভা উদ্ঘাটন করতে লাগল। সে একজন রন্ধনশিল্পী। কেকা আপাকে টপকে যাবে বলে দাবি করে। ‘হাজার পদের ডিমের রেসিপি’ নামে তার একখানা বই আগামী বইমেলায় বের হতে যাচ্ছে। প্রতিদিন বিকেলে সে ডিমের নতুন আইটেম বানিয়ে খাওয়ায়। একদিন বিকেলে সেমাই উইথ এগ নামের উদ্ভট নাশতা পর্যন্ত গলাধঃকরণ করিয়ে ছাড়ল। শফিক এহেন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেল।

এভাবে ডিম খেতে খেতে এক বছর পার হয়ে গেল। শুকনা শফিক এখন ডিম্ববাবু চেহারা ধারণ করেছে। আড়ালে তাকে সবাই এই নামেই ডাকে।

আজ তাদের প্রথম অ্যানিভার্সারি। শফিক জুয়েলার্সের দোকানে গেল। একটা লকেট কিনে খুশি মনে বাসায় ফিরল। রাতে ডায়মন্ডের লকেটটি বের করে বউয়ের হাতে দিল। বউ সেটি হাতে নিয়ে নাক সিঁটকাল, ‘মানুষ প্রিয়জনকে হার্ট শেপের লকেট গিফট করে আর তুমি করলে কিনা একটা ওভাল মানে ডিম্ব শেপের লকেট!’

আসলে শফিক কেনার সময় এত কিছু খেয়াল করেনি।

এবার কুসুম চমৎকার একটা গিফটের প্যাকেট বের করে শফিকের হাতে দিল। হাসতে হাসতে বলল, গিফট খোলার পর এক বছর আমার সঙ্গে কেমন কাটল তা জানাতে হবে।

প্যাকেট খুলে শফিক চমকে উঠল। দুইটা হাঁস, সঙ্গে চারটা সোনালি ডিমের শোপিস। শফিক বলল, ‘বিয়া করলে নাকি মানুষের জীবন হয় ত্যানা ত্যানা আর আমার জীবনটা হলো ডিমা ডিমা।’



মন্তব্য