kalerkantho


ফেসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

৩০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফেসবুক অফলাইন

গরুর দাম

হাট থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনে বাবা আর ছেলে বাড়ি যাচ্ছিল। গরুর দাম শুনে অনেক পথচারীই দাম বেশি নিয়েছে বা ঠকা হয়েছে বলে মন্তব্য করছিল। অগত্যা ছেলে একটা বুদ্ধি বের করল। কেউ দাম জানতে চাইলে ছেলে বলে ১০ হাজার টাকা।

বাবা : এত কম বলছিস কেন?

ছেলে : গরুর দাম যা-ই হোক না কেন। ওরা তো জ্বলে-পুড়ে মরুক।

আবদুস সালাম

 

কম্পিউটারের কল্যাণে আজকাল যে কেউ যেকোনো সময় চাইলেই

অফিসে কাজ করতে পারে।

আমি মাইক্রোসফট অফিসের কথা বলছিলাম।

অনামিকা মণ্ডল

 

আমার অবস্থা

শুনলাম, এলাকার (পাশের জেলার) যে মেয়েটা আমারে পচ্ছন্দ করত, তার নাকি সামনের মাসে বিয়ে।

আর আমি ডিপার্টমেন্টের যে মেয়েকে পচ্ছন্দ করতাম, তারও নাকি সামনের মাসে বিয়ে।

দুজনের বিয়ে তাদের বিএফের সঙ্গে। আর আমি মিডটার্মের লাইগা শিট ফটোকপি করি।

সাদিয়াল হুসাইন সৌহার্দ্য

 

ডিগ্রি

একজন ডাক্তারের পরিচিতি দেখে অবাক হইলাম। সাত লাইন ডিগ্রি তাহার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হইতে বিএসসি কমপ্লিট করিয়াছেন, তাহাও উল্লেখ করিয়াছেন। শিশু ও স্ত্রীরোগ সারাতে তিনি যে দক্ষ, এইটা লিখতে দুই লাইন খরচ করিলেন। অবশ্য এসএসসি, এইচএসসি কোথা হইতে কমপ্লিট করিয়াছেন, তাহা উল্লেখ করিলে আরো দুই লাইন বাড়িত। এ দেশে এখনো অনেক রোগীর কাছে পাঁচ বছরের এমবিবিএস থেকে ছয় মাসের এলএমএএফ কোর্সই বড়! আজিব ব্যাপার!

সঞ্জয় দেবনাথ

 

আমরা সাধারণ মানুষ বড় বড় অফিসে ঢুকতে পারি না। সেখানে ঢুকতে পারমিশন লাগে। একদিন আমি দুই সন্তানের পিতা হব। ছেলের নাম রাখব মতি। মেয়ের নাম রাখব অনু। তারপর সেখানে ‘অনুমতি’ নিয়ে প্রবেশ করব।

আল নাহিয়ান

 

হারিয়ে যাই

ছোটবেলায় মেলায় গিয়ে প্রায়ই হারিয়ে যেতাম। মায়ের হাত ধরে থাকতাম, হঠাৎ দেখতাম অন্য কোনো মহিলার হাত ধরে হাঁটছি। বুড়া হয়েও হারানোর অভ্যাস যায়নি। সহকর্মীদের সঙ্গে মেলায় এসেছি। তারা আরো ঘুরছে, আর আমি ২ নম্বর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি ঢাকা বাণিজ্য মেলায়। গেটে থাকলে হারানোর ভয় নাই—একজন বলল।

চঞ্চল ভৌমিক

আনন্দ

লেখালেখির আনন্দ তিনবার—

প্রথম—যখন সুন্দর একটা লেখা শেষ হবে। এরপর যখন সেটি ছাপা হবে। আর সব শেষে যখন বাসায় চেক আসবে।

আহমেদ বায়েজিদ

 

ভাই

দেশটা ‘ভাই’-তে ভরে গেছে এবং ‘ভাইগুলো’ সব জনপ্রিয়। জাতীয় ডায়ালগ—‘আমি ভাইয়ের লোক’।

হিমেল সরকার

 

পরমাণু

সায়েন্স পড়ে উপলব্ধি। পরমাণু ক্লাস ৯-১০ পর্যন্ত ভাঙা যাইত না। ইন্টারে উঠলে পরমাণু ভাঙা যায়।

আন্ নাসের নাবিল

 

বাবার কোমরে সমস্যা হওয়ায় জীবনের প্রথম বাজারে যাচ্ছি, তা-ও মাছ বাজারে, আবার সেই রকম ভাব নিয়ে। মাছের মধ্যে শুধু ইলিশ, পুঁটি আর কাচকি মাছ চিনি। বাজারে গিয়ে দেখি, এ তিনটা মাছের কোনো অস্তিত্ব নেই। যা-ই হোক, একটা বড় রুই মাছ বেশ সস্তায় কিনে ফেললাম। বাসায় আসার পর শুনি, এইটা নাকি পাঙ্গাশ। মারলে সমস্যা ছিল না, গালি খাইলে আত্মসম্মানে লাগে। একটা গালিও মাটিতে পড়ে নাই। মানুষ ভুল করে ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, আমিও শিক্ষা নিয়েছি। পাঙ্গাশ মাছে কাঁটা সবচেয়ে কম।

রাহমাম চৌধুরী

 

হ্যাপিনেস

হ্যাপিনেস ইজ : এই শীতে বিয়ের জন্য ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশের ৯টি ব্যাংক!

ডাবল হ্যাপিনেস ইজ : ঋণ নিয়ে বিয়ের পর শোধ না করতে পারলে বউ ফেরত!

সন্দীপন বসু

 

কারণ

প্রশ্ন ফাঁসের মূল কারণ পরীক্ষা।

অনামিকা মণ্ডল

 

গবেষণার তথ্য

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য। প্রতিটি টিউবলাইটের পেছনে টিকটিকি থাকে।

কামার উদ্দিন আরমান

 

একটি দরখাস্ত

বরাবর

সামিউল আজিজ সিয়াম

বিষয় : অনুপস্থিতিজনিত কারণে ছুটির আবেদন।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি হুদাই, অকারণেই, মন চায়, তাই যখন আসার দরকার তখন অনুপস্থিত থাকি। তাই ভাইভা দেখলাম, আর আসারই দরকার কী, একবারে ছুটি নিয়া নিই!

অতএব, আমি তা হলে ছুটি নিয়ে একেবারেই না হয় আসি, ঠিক আছে?

নিবেদক

আপনার একান্ত অবাধ্য

ঘুম

 

সামিউল আজিজ সিয়াম

 

গল্প

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে একটা প্রেমের গল্প লিখব। প্রেমিকা হয়তো সিটি কলেজে পড়ে, নইলে বরিশালের কোনো কলেজে। ছেলে পড়াশোনা ছেড়ে দিছে। প্রেম করতে এসে প্রেমিকাই তাকে পড়ায়। প্রেমিকা চায়, তার প্রেমিক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যাবে, অনেক বড় লেভেলের জ্ঞানী হবে। কিন্তু প্রেমিকের এসবে মন বসে না। যে বলে বসবে—‘তুমি যাওগা, একটা ভালো ছেলে দেখে যাওগা।’

মেয়ে রাগ করবে। ছেলে রাগ ভাঙাতে কিছু করবে না। দাঁড়িয়ে হাত-পা নাড়াবে। মেয়ে আবার রাগ করে বলবে, জ্ঞানী হতে হবে না, অন্তত আমার রাগ ভাঙাও।

ছেলে মেয়েটির কানে ঠোঁট লাগিয়ে বলবে, ‘আমি ভাঙচুর করি না।’

তানভীর মাহমুদুল হাসান

 

নানির বোন

নানির বোন আসছে বেড়াতে আমাদের বাসায়। খাবারের সময় বললাম—মা, নানুরে লালশাক দাও।

সে চেঁচিয়ে উঠে বলল, ‘শাকের নাম ধইরা বইল না।’

আমি কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে ভাবলাম, ‘শাক রে তো খালা-চাচি সম্বোধন করা লাগে, আগে জানতাম না।’

আমি : কেন নানি, কী বলব?

আমার নানি উঠে বললেন, ‘আপার স্বামীর নাম লাল মিয়া। স্বামীর নাম মুখে নেওয়া যায় না বলে আপা লাল রে রাঙ্গা বলে। রাঙ্গাশাক, রাঙ্গা টমেটো—এমন আর কি...।’

আমি : নাম ধরেই যদি ডাকতে না পারা যায়, তাহলে নাম রেখেছে কী জন্য?

নানি : তওবা তওবা, কী কও! স্বামীর নাম ধরে ডাকতে নাই।

মনে মনে বলি, ‘স্বামী তো আপনার, আমি ডাকলে সমস্যা কী! আমি কেন তার জন্য লাল বলা বাদ দেব!’

বললাম, ‘নানি, আপনে তো লালের অপশনাল রাঙ্গা পাইছেন। তাই চালাইয়া দিতে পারতেছেন। আমার স্বামীর নাম যদি সবুজ হয়, তাইলে সবুজ শাড়ি আনতে বললে কী বলতাম?’

নানি উঠে বলে, ‘কইবা হবুজ শাড়ি আইনা দাও।’

শুনে ভাবতে বসলাম, ‘যখন বাচ্চা আমায় জিজ্ঞেস করবে, মা আমাদের দেশের পতাকার রং কী—তখন কী বলব, হবুজের মাঝে টকটকে রাঙ্গা?’

বাঙালি পুরুষ! এমন শ্রদ্ধা কই পাইবা?

উম্মে নিপা



মন্তব্য