kalerkantho


আক্কাচ ভাইয়ের প্রেম

আদিত্য রহিম

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আক্কাচ ভাইয়ের প্রেম

সকালেই চোখটা চড়কগাছ। একি দেখছি! সূর্য তো ঠিকই আছে। পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, মাটিও উল্টে যায়নি। হাতে বার দুয়েক চিমটি কাটলাম। না, ঠিক আছে...স্বপ্ন নয়। তবে একি সত্যি!

আমাদের চেনাজানা, পাড়ার ‘শুঁটকি’ বলে খ্যাত আক্কাচ ভাই ইয়া বড় বড় দুটি পাথর দড়ি দিয়ে বেঁধে ছাদে দাঁড়িয়ে একবার ওপরে তুলছেন আবার নামাচ্ছেন! তা-ও আবার অবলীলায়!

: একি! আক্কাচ ভাই?

তাকালেন তিনি। তবে ব্যায়াম থামল না।

: বল, কী বলবি?

স্বাভাবিক গলা। ব্যাপারটা কী! খপ করে একটা পাথর ধরে ফেললাম। ধরেই চোখ এবার উঠল ডাবল চড়কগাছে। আরে, এ দেখছি শোলা! শোলাকে উনি পাথরের মতো কেটে রং করে ব্যায়াম করছেন।

: করছিস কী? ছাড়!

ভয় পেয়ে ছেড়ে দিলাম!

: আক্কাচ ভা...।

: বুঝলি না!

কথা শেষ হওয়ার আগেই কথা পাড়লেন তিনি। সঙ্গে একটা চোখ টিপ।

: এত শো...।

: আরে চুপ!

সঙ্গে আরেকটা চোখ টিপ। সেই সঙ্গে পাশের ছাদে ইশারা। এবার বোঝা গেল ব্যাপারটা। পাশের বাসার টুনি আপা দাঁড়িয়ে আছে।

: ও, এই ব্যাপার!

আক্কাচ ভাইয়ের ব্যায়াম ততক্ষণে আবার শুরু হয়ে গেছে।

: বুঝলি রে পল্টু! আমাকে তো আজকাল অনেকেই ‘শুঁটকি’ বাদ দিয়ে ‘ইবনে সিনা’ ডাকছে!

চেঁচিয়ে বলতে লাগলেন যেন আমাকে নয়, ছাদের কোণে দাঁড়ানো টুনি আপাকে শোনাচ্ছে!

: ইবনে সিনা?

: হুম! চিনিসনি তো? চিনবি কী করে! তুইও তো গ্যাদার মার মতো সারাক্ষণ বাংলা ছবি দেখিস। রেসলিং, নাম শুনেছিস! দেখতি যদি, তবেই চিনতে পারতি। ইয়া ইয়া হাত-পা!

: কিন্তু আক্কাচ ভাই, ও তো ‘জন সিনা’! মিনমিন করে বললাম।

: জন সিনা না তোর মাথা! ইবনে সিনা! তুই কি আমার থেকে বেশি জানিস?

তারপর কণ্ঠটা একটু কমে এলো।

: হ্যাঁ রে, সত্যিই জন সিনা নাকি?

: তা-ই তো শুনেছি। আমাদের পাড়ার জিকু, পান্থ...এরা তো সারা দিন রেসলিং দেখে! ওদের কাছে শুনে নিয়েন। আমিও মিনমিনে গলায় বললাম।

: হোক জন সিনা! চেঁচালেন আক্কাচ ভাই।

: তুই না পল্টু! খালি ওই পুঁচকেদের কথা বলিস। আমি বলছি জন সিনার দাদা ইবনে সিনার কথা।

: জন সিনার দাদা ইবনে সিনা! কারো কাছে তো ওই নাম শুনিনি!

আমার কথা শুনেই বাংলা ছবির ভিলেনের মতো হেসে উঠলেন আক্কাচ ভাই। জানিস না-শুনিস না, পুঁচকে জন সিনার সঙ্গে তুলনা করিস! বলেই একটা পাথরে থাবড়া দিয়ে বসলেন।

ওমনি শোলা ভেঙে বাতাসে উড়তে শুরু করল। তা দেখে দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে আমার দিকে তাকালেন আক্কাচ ভাই। ভয়ে আমি পালালাম। কখন না আবার দ্বিতীয় শোলাটা মাথায় ছুড়ে মারেন? মাথা ফাটার ভয়ে নয়, শোলাটা গুঁড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে। কারণ টুনি আপা তখনো ছাদের কোণে ঠায় দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছেন!



মন্তব্য