kalerkantho


আমাদের হাদা ভাই

আমাদের হাদা ভাই একটু সহজ-সরল। তার জীবনের এক হালি ঘটনা (একটি কম) শোনাচ্ছি আপনাদের। লেখা আদিত্য রহিম

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আমাদের হাদা ভাই

বরবাদ হয়ে গেলাম

সক্কাল সক্কাল হেবভি হৈচৈ! হাদা ভাই ফুটপাতে বসে কান্নাকাটি করছে, আর তার সেকেন্ড ইন কমান্ড মানে রফিক ভাই তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেই যাচ্ছে। হাদা ভাই কপাল চাপড়াচ্ছে আর বলছে, ‘কী সর্বনাশ হলো রে! আমার মাথায় তো আকাশ ভেঙে পড়ল রে! কেউ শালা আমার সাইকেলটি চুরি করে নিয়ে গেছে, আর ওর মোটরসাইকেলটি আমার জন্য ছেড়ে গেছে।’

আমিও গেলাম তাকে সান্ত্বনা দিতে। আমাকে জড়িয়ে ধরে হাদা ভাই বলল, ‘আমি তো একদম বরবাদ হয়ে গেলাম গো! এই বাইকটি তো শালা পেট্রলে চলে! আর পেট্রলের যা দাম!’

ফোনালাপ

এক ভদ্রলোক একটি টেলিফোন বুথের সামনে ১০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বুথের ভেতরে হাদা ভাই ফোনটি ধরে কানে লাগিয়ে রেখেছে, কিন্তু কোনো কথাই বলছে না। এদিকে আবার বিলও উঠেই যাচ্ছে। অধৈর্য হয়ে ওই ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত বলেই ফেলল, ‘কী হলো ব্রাদার? এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছেন, কোনো কথাই বলছেন না, বিলও উঠছে, আর আমরাও লাইনে দাঁড়িয়ে বোর হয়ে যাচ্ছি! কেসটা কী?’

হাদা ভাই মাউথপিসের ওপর হাত চাপা দিয়ে বলল, ‘আরে ভাই, আমি আমার বউয়ের সঙ্গে কথা বলছি! বুঝতে হবে ব্যাপারটা’।

বিমানে হাদা ভাই

হাদা ভাই বিমানে চেপে চট্টগ্রাম যাবে। সকাল সকাল উঠে একটা উবার নিয়ে এয়ারপোর্টে গেল। ওমা! একটু পরেই দেখি হাদা ভাই বেজারমুখে বাড়ি এসে উপস্থিত। তাড়াতাড়ি গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী গো হাদা ভাই, ফ্লাইট ক্যানসেল বুঝি? তুমি ফিরে এলে যে?’

হাদা ভাই করুণভাবে বলল, ‘অত ঝামেলা জানলে বিমানে চড়তামই না, ভাই। বিমানে ওঠার পর একজন বিমানবালা আমাদের বোঝাতে লাগল যে বিমান অ্যাকসিডেন্ট হলে কী কী করতে হবে। আমার তো অ্যাকসিডেন্টের নাম শুনেই ভয়ে ১২টা বেজে গেল। সব শেষে বলে কিনা, বিমান যদি কোনো নদী বা সাগরে ক্র্যাশ করে, তাহলে সিটের তলার কুশনটাকে নাকি নৌকোর মতো ব্যবহার করতে পারব।’

হাদা ভাই একটু দম নিয়ে বলল, ‘এটা শুনেই আমার মেজাজটা চড়ে গেল। রেগে আমি জিজ্ঞেস করে বসলাম, ওড়ার বিমানটা যদি উড়তে না পারে, তো বসার সিট যে জলে ভাসবে তার গ্যারান্টি কোথায়? ব্যস, শুরু হয়ে গেল তুমুল কেচাল। তারপর আমাকে বিমান থেকে নামিয়ে দিল। যাবই না ওদের বিমানে। এর চেয়ে রেলগাড়িই ভালো।’



মন্তব্য