kalerkantho

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অফলাইন

ভবিষ্যতে
অদূর ভবিষ্যতে ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপনে লেখা হবে, ‘ছেলের দুটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেল আছে এবং এর কোনোটিই উবার/পাঠাও/ইত্যাদিতে রেজিস্ট্রেশন করানো নেই!’
-অনুপম হোসাইন পূর্ণম

ভূমিকা
মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভার যতটা না যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে, তার চেয়ে বেশি অবদান রাখবে জলজট কমাতে। ফ্লাইওভারের কারণে বৃষ্টির পানি রাস্তায় পড়বে না, জলাবদ্ধতাও হবে না।


-অনামিকা মণ্ডল
—এই ছেলে, মাসে তোমার ইনকাম কত?
—জি, দুই হাজার টাকা।
—ফইন্নির বাচ্চা! জানোস তুই, আমার মাইয়ার হাতখরচই পাঁচ হাজার টাকা!
—জি, জানি। সে তো ওইখান থাইকাই আমারে দুই হাজার টাকা দেয়।
-নিয়াজ মোর্শেদ

ভালোবাসি
ছেলে : আমি তোমাকে ভালোবাসি।
মেয়ে : নিজের চেহারা আয়নায় দেখছেন?
ছেলে : হুম, দেখছি তো। দেখে মনে হইলো, এর থেকে বেশি তুমি ডিজার্ভ করো না!
-জান্নাতুল ফেরদৌস

একসঙ্গে
শুনেছি, আমেরিকায় স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে কোনো হোটেলে খেতে গেলে তারা যার যার বিল নিজে দেয়। পাশের দেশ ইন্ডিয়ায় দুই বন্ধু একসঙ্গে কোথাও খেলে আলাদা আলাদা বিল হয়। হায়রে! আমাদের দেশেও এই সিস্টেম চালু হয়ে গেল! দুই কলিগ একসঙ্গে বাসে করে এলাম; কিন্তু আমার বাসভাড়া তিনি দিলেন না।
-ইন্দ্রজিত্ মণ্ডল

শিঙাড়া
কলিজার শিঙাড়ায় কামড় দিয়েই এক লোক খুশিতে চিত্কার করে উঠল। পাশ থেকে আরেকজন জিগাইল, কী ভাই, শিঙাড়ায় কি কলিজা খুঁজে পাইছেন?
ভদ্রলোক আবেগে চোখের জল ফেলে দিয়ে উত্তর দিল, ‘না ভাই, এক টুকর পেঁয়াজ খুঁজে পাইছি!’
-সুমনআহমেদ

সুপারম্যান
moon-কে supermoon হতে ৭০০ বছর লাগে। অথচ man-কে superman হতে লাগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। প্যান্টের ওপর আন্ডারওয়্যার পরলেই হয়।
-পলাশ মাহবুব

একদিন
১. ঘুমটা ভেঙে গেল।
২. ভার্সিটিতে গেলাম।
৩. মেয়েটিকে দেখলাম।
৪. দৌড়ে ওর কাছে গেলাম।
৫. জড়িয়ে ধরে চুমু খেলাম।
ওহ, একটু ভুল হয়েছে। আসলে সিরিয়ালটা ভুল হয়ে গেছে।
সিরিয়ালটা হবে ৩, ৪, ৫, ১, ২।
-মো. তৌহিদ

ডাকাতি
—জানিস গত রাতে আমাদের ঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে।
—কী বলিস! তারা কী করেছে?
—ডাকাতদল ঘরে ঢুকেই আমাদের হাত-পা বেঁধে ফেলল! তারপর তারা আমাদের ঘরের সব পেঁয়াজ আর সবজি লুট করে নিয়ে গেল।
-কাজী সুলতানুল আরেফিন

ব্যবহার
এক কবি পোস্ট দিলেন, ‘ব্যাবহার বংশের পরিচয়। যাঁদের আচার-ব্যাবহার ঠিক নাই তারা পশুর সমান। ’
আরেক কবি কমেন্টস করলেন, ‘ভাই আপনার ব্যবহার ঠিক করুন। ’
প্রথম কবি (ইগো দেখিয়ে) : এই মিয়া, আপনি কী বলতে চান? আপনার ব্যাবহার ঠিক আছে? যত্তসব দুই টাকার কবি! আপনি আমাকে চিনেন? জানেন আমি কে?
দ্বিতীয় কবি অবাক হয়ে বলল, ‘ভাই, আমি তো আপনার ব্যবহার বানানটা ঠিক করতে বললাম!’
-নূর হোসেন

আমেরিকায়
বলদেব সিং একবার আমেরিকায় ট্রেনে ভ্রমণের সময় ঘুমে ঢুলছিলেন। পাশের আমেরিকান যাত্রী তাঁকে বললেন, আর ইউ রিলাক্সিং?
বলদেব সিং সঙ্গে সঙ্গে বললেন—নো নো, আই অ্যাম বলদেব সিং!
-চঞ্চল ভৌমিক

প্যারা
খেয়াল করেছেন কি, প্যারাডাইসেও ‘প্যারা’ আছে!
-সাকিব হাসান সানভি

পরিচয়
ব্যবহারে বংশের পরিচয়, আর পরীক্ষার হলে ফ্রেন্ডের।
-ইনকারেজিবল জিকস

দাওয়াতে
এক দাওয়াতে এক পিচ্চি, যে ঠিকমতো হাঁটাও শেখেনি এখনো, আমার হাত থেকে মোবাইল নিয়ে সোফায় গিয়ে পা উঠিয়ে বসে মোবাইল টিপছে। দাওয়াত থেকে চলে আসার আগে বললাম—‘আংকল, দাও ফোনটা। ’
: দিয়াম না।
: দাও বাবু, আমার এখন যেতে হবে।
: কইসি না দিতারাম না।
...এখন আমি এই বয়সে তো এক নাদানের সঙ্গে মোবাইল টানাটানি করতে পারি না। আমি তার আব্বার দিকে তাকালাম। তার আব্বা বলল—‘আবু, দিয়া দাও। আংকলের দেরি হইয়া যাইব। ’
: কইসি না দিতারাম না। আরেকবার চাইলে মুপাইল ফেইক্কা ফেলায়ে দিমু।
আমি তার আব্বাকে বললাম, ‘আপনার ছেলে কোন দিকে ফেইকে ফেলাবে বলে আপনার ধারণা? আমি বরং সেখানে গিয়েই দাঁড়াই। ’
: কইতারাম না, ভাই। আবুর অনেক জেদ।
কী এক কইতারাম না দিতারাম নার মাঝে এসে আটকে গেলাম! আমি বললাম, ‘তার মা রে ডাকেন। দেখি সে কোনো বুদ্ধি বের করতে পারে নাকি। ’
উনি গলা উঁচিয়ে ডাক দিল, ‘সালমা, এখন আও এই ঘরে। ’
তার মা উত্তর দিল, ‘এহন আইতারাম না। ’
-আরিফ আর হোসাইন

বাংলিশ
ফেসবুকে বাংলিশ ভাষার প্রচলন সেই কবে থেকেই হয়ে আসছে। তবে এখনো কেউ কেউ ভাষাটি ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি। আবার কেউ কেউ ঠিক বুঝিয়েও উঠতে পারেনি। যার নমুনাচিত্র নিম্নরূপ
কী রে, কী করিস?
kcu na
কচু না মানে কী! মন খারাপ?
muniyar bapar ta khb para disse
মুনিয়ার বাপে পারা দিসে? এত বড় সাহস শালার, অর পা ভাইঙ্গা ফালামু। তুই কষ্ট নিস না।
dhr. ami sereas
আপনি সিরাজ মানে? এটা তো রাসেলের আইডি। আপনি কে, ভাই? আলতুফালতু কথা বলতেছেন!
-এস এম নূরনবী সোহাগ

ইস্যু
‘মানুষ একটা ইস্যু পেলে দুই ভাগ হবেই’...কিন্তু ইদানীং একটা স্ট্যাটাস নিয়েও দুই ভাগ হয়ে যায় জাতি। হবেই হবে। প্রতি স্ট্যাটাসের পর আমার বসে বোঝাতে হয় রাগান্বিত পক্ষকে—এই লাইনটা কেন লিখলাম বা এই প্যারাটা কেন লিখলাম। মেটাল ব্যান্ডের মাথা ঝাঁকানি নিয়ে সেদিন পোস্ট দিলাম... আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ডের ছেলেরা আমাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ফেলল। ভয়ে এখন নজরুলসংগীতের অনুষ্ঠানে গিয়েও মাথা ঝাঁকাই। ঈদের আগে গরু মোটাতাজাকরণ নিয়ে পোস্ট দিলাম, দুই দিন পরে শুনি ডিপজলের ডান হাত নাকি বলেছে, আমাকে গাবতলী দেখা গেলে সেখানেই পুঁতে ফেলবে। বুঝলাম না... ডান হাত কিভাবে কথা বলে! আর সবচেয়ে বড় কথা, আমি কি চারাগাছ নাকি যে আমাকে পুঁতে ফেলবে?
উত্তর এলো, ‘ফটর ফটর না কইরে আয় দেখি গাবতলীতে। ’
ইদানীং খুব মেপে মেপে স্ট্যাটাস দিই। স্ট্যাটাস লেখা শেষ হলে নিজে পড়ি। পড়ি আর ভাবি—আচ্ছা, কে খেপতে পারে এই স্ট্যাটাস দেখে?
সেদিন আমার গাড়ির গ্লাস চুরি হয়েছে নীলক্ষেতের সামনে থেকে। এই লাইনটা লেখার পর শুনলাম, নীলক্ষেত বই সমিতি নাকি এটা ভালো চোখে দেখেনি। যে এই ইনফরমেশনটা আমাকে দিল, তাকে বললাম, খারাপ চোখে দেখেছে মানে কী? পুঁতে ফেলার কথা ওঠেনি তো?’
‘না, এখনো না। বাট তারা খেপে আছে। পাশ থেকে লেপ-তোশক সমিতিও হালকা উসেক দিচ্ছে। ’
ইদানীং কেউ খেপবে না টাইপ স্ট্যাটাস নিয়ে সারা দিন ভাবি। ভাবতে ভাবতে দাড়িতেও পাকন ধরেছে। গোপনে বউয়ের চিমটা নিয়ে বাথরুমে গিয়ে টান দিয়ে তুলে ফেলি। বের হয়ে সেটি জায়গামতো রাখতে গিয়ে বউ দেখে ফেলে। চিত্কার দিয়ে ওঠে, ‘এই, এটা নিয়ে বাথরুমে কী করছ?’
উত্তর দিই না। দেখি কত ভুল বুঝতে পারে। যেখানে জাতিই ভুল বুঝে আছে, সেখানে আর একটা চিমটা নিয়ে বেশি ভুল বোঝার কী-ই বা আছে। ভুল বুঝলেও পুঁতে অন্তত ফেলবে না।
চিত্কার দিয়ে ওঠে, ‘হাতে চিমটার সঙ্গে এটা কী? আমার হেয়ার স্প্রে নাকি?’
হ্যাঁ।
(আমার খোঁচা খোঁচা দাড়িতে একটু হেয়ার স্প্রে দিয়ে কিছুক্ষণ রাখলে দাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। তারপর পাকাটা টেনে তুলে ফেলা সহজ। আশপাশের কাঁচা দাড়ি ভুলে উঠে আসে না। ক্যাজুয়ালটি কম। কিন্তু এত ডিটেইলে উত্তর দিতে ইচ্ছা করছে না)।
উত্তর দাও...এগুলো নিয়ে বাথরুমে কেন গেছ?
মশা মারলাম।
এগুলো দিয়ে? কেমনে?
‘হেয়ার স্প্রে দিয়ে উড়ন্ত মশাকে শক্ত করে ফেললাম, তারপর চিমটা দিয়ে তাকে তুলে কমোডে ফ্ল্যাশ করে দিলাম।
বউও অবাক। আমি নিজেও অবাক। অবাক, উপস্থিত বুদ্ধি দেখাতে পেরেছি সে জন্য না। অবাক আজকে মানুষকে গাবতলী থেকে ঘুরিয়ে এনে কাঁটাবন-নীলক্ষেত হয়ে থুঁতনির দাড়িতে নিয়ে এসে ঠিক কোন সাবজেক্টে চেততে হবে, সেটাতে তালগোল লাগিয়ে দিতে পারার জন্য। পোঁতার স্কোপ আজকে কম। আনলেস, এমনি মশাকে আচমকা ফ্রিজ করে কমডে ফ্ল্যাশ করে দেওয়ার আইডিয়ার জন্য এনিম্যাল রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের কেউ হাউকাউ না শুরু করে।
-আরিফ আর হোসাইন


মন্তব্য