kalerkantho


এক হালি ন্যানো গল্প একটি কম

লেখা : ইমরান আঁকা : মানব   

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



এক হালি ন্যানো গল্প একটি কম

বেচারা প্রফেসর
ম্যাথমেটিক্যাল অপটিমাইজেশন কোর্সের শেষ ক্লাস। প্রফেসর ছাত্রদের শেষ উপদেশ দিচ্ছেন।


প্রফেসর : শোনো বাছারা, এই কোর্সে যা যা শিখলে বাস্তবে তোমার নিজের জীবনে তা কখনো প্রয়োগ করবে না।
ছাত্ররা (অবাক হয়ে) : কেন, কেন?
প্রফেসর : বেশ কয়েক বছর আগে সকালে বউকে দেখছিলাম। একটু লক্ষ করে দেখলাম বউ অনেক সময় নষ্ট করছে নাশতা তৈরিতে। অযথাই বেশ কয়েকবার এখান থেকে ওখানে হাঁটাহাঁটি করে জিনিসপত্র আনা-নেওয়া করতে করতে অনেক সময় অপচয় করছে। তাই দেখে তার চলাচল অপটিমাইজ করলাম অফিসে এসে। ফলে অনেক কম সময়ে নাশতা তৈরি সম্ভব হলো।
ছাত্ররা : দারুণ তো! এখানে সমস্যা কোথায় তাহলে?
প্রফেসর : আগে বউয়ের নাশতা তৈরি করতে আধঘণ্টা লাগত। এখন আমার লাগে ১৫ মিনিট!

ফুটানি
মনিব : এখন থেকে মেহমান এলে তাদের সামনে আমি যদি বলি ব্লেজারটা নিয়ে আয়, তুই তখন জিজ্ঞাস করবি—স্যার কোনটা আনব? জার্মানিরটা, ফ্রান্সেরটা, না আমেরিকানটা?’
কাজের ছেলে : জে, স্যার। বলব।
মনিব : শোন, শুধু ব্লেজারই না, টাই, জুতা, পারফিউম যা-ই বলি, তুই এমন বিদেশি নামগুলো দিয়ে প্রশ্ন করবি। খবরদার ভুলে যাস না যেন! 
কাজের ছেলে : জে স্যার, ভুলব না।  
পরদিন প্রতিবেশী এসে বলল, ‘আপনার বাবা বাসায় আছেন?’
মনিব : আছেন। দাঁড়ান ডেকে দিচ্ছি...রতন, রতন! বাবাকে ডাক!
কাজের ছেলে : স্যার, আপনের কুন বাপরে ডাকুম! আমরিকার, জার্মানির, না ফ্রান্সের।
মনিব : অ্যাঁ! তোর কি মাথা খারাপ হইছে?
কাজের ছেলে : স্যার! আপনেই না কইলেন হেইদিন...।

স্কুলে একদিন
এক সাহিত্যিক ভদ্রলোক একটি স্কুল দেখতে এসেছেন। সেখানে ক্লাস ফাইভের ছেলে-মেয়েরা তাঁকে ধরে বসল, কি করে ছোটগল্প লেখা যায় তা শিখিয়ে দিতে হবে।
সাহিত্যিক ভদ্রলোক রাজি হয়ে বললেন, ‘গল্প লেখা খুব সহজ কাজ। গল্পের প্রথমে একটা আধ্যাত্মিক ভাব থাকবে। তার পরই একটু অভিজাত পরিবারের কথা মেশাতে হবে। এবার কিছুটা সামাজিক, গার্হস্থ্য জীবনের বিবরণ দিয়ে, শেষে একটু রহস্য দিলেই সুন্দর একটা ছোটগল্প তৈরি হয়ে যাবে।
এই বলে সাহিত্যিক ভদ্রলোক স্যারদের সঙ্গে গল্পগুজব শুরু করলেন।
পাঁচ মিনিট পরে একটি মেয়ে উঠে বলল, ‘আমার গল্প তৈরি হয়ে গেছে। ’
সাহিত্যিক ভদ্রলোক আশ্চর্য হলেন, ‘তাই নাকি? পড়ে শোনাও দেখি। ’
মেয়েটি তার গল্প পড়ে শোনাতে লাগল, ‘ও মাই গড! (আধ্যাত্মিক ভাব) সৈয়দ বংশীয়া চেঁচিয়ে উঠলেন (অভিজাত পরিবার), আমার একটি বাচ্চা হয়েছে, (গার্হস্থ্য জীবন) কিন্তু আমি জানি না এর বাবা কে? (রহস্য)।


মন্তব্য