kalerkantho

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অফলাইন

যখন দুই বান্ধবীর দেখা হয়

নয়া আইফোন
আইফোন সাত কিনতে কিডনি বেচলে চলত। আইফোন এক্সও নাকি লোকে কিডনি বেচে কিনবে।

কিডনির দাম কী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে?
-কাওসার মুজিব অপূর্ব

ইন্টারভিউ চলছে...
প্রশ্নকর্তা : সাঁতার পারেন, এটা সিভিতে উল্লেখ করেছেন কেন?
চাকরিপ্রার্থী : বৃষ্টি হলেও আমি রেগুলার অফিস করতে পারব, তাই।
-জিনাত জোয়ার্দার রিপা

মেজো ছেলে
প্রেমিকা : নিরিবিলিতে কথা বলার কথা বলে তুমি কি না আমাকে লোকাল বাসে তুলে বসে রইলা!
প্রেমিক : আরে বোকা, সামনের জ্যামে যখন সবাই অতিষ্ঠ হয়ে বাস থেকে নেমে হাঁটা শুরু করবে, তখন তো তুমি আর আমি ছাড়া এই বাসে কেউ থাকবে না।
-ইন্দ্রজিত্ মন্ডল

একজন
একজনকে বললাম যে স্টার কাবাবের সামনে আসেন। তাও সে বলছে, কই কই?
বললাম—স্টার কাবাব, স্টার কাবাব। কিন্তু এভাবে কাজ হচ্ছে না। পরে বললাম—ইস্টার কাবাব ইস্টার।
শুনে বলে, আগে কইবেন না? ইস্টার কাবার তো ঠিক মতোই চিনি।
-তানভীর মাহমুদুল হাসান

সময়ানুবর্তিতা
সময়মতো কোথাও পৌঁছানোর অপকারিতা হলো—
আপনার সময়ানুবর্তিতার প্রশংসা করতে সেখানে কেউ থাকবে না।
-আকিফ মাসুমি

অফিস সহকারী
কিছু কিছু অফিসে দরকারি কাজ করতে গেলে, অফিস সহকারীকে টাকা দিতে হয়। এই টাকা দিলে কাজ খুব দ্রুত হয়। সেই টাকাকে আধুনিক ভাষায় বলা হয় ‘ঝঢ়ববফ গড়হবু’, সহজ বাংলায় বলতে গেলে ‘ঘুষ’। কিন্তু দিনের কাজ দিনে শেষ করতে না পারলে হয় আরেক বিপদ। কারণ পরের দিন আবার টাকা না দিলে, ওই অফিস সহকারী এমন ভাব করে যেন আপনাকে আগে কখনো দেখেই নাই!
-কাবিল মাহমুদ

নতুন ভাড়াটিয়া
বাড়িওয়ালা নতুন ভাড়াটেকে বাড়ি দেখিয়ে বললেন, চমত্কার বাড়ি আমার। দোষটা হলো শুধু রেললাইনের পাশে। চিন্তা নেই, প্রথম দু-তিন রাত ঘুমাতে একটু অসুবিধা হবে, তারপর অভ্যাস হয়ে যাবে। ভাড়াটে বলল, সমস্যা নেই। আমরা তাহলে দু-তিন রাত পরেই উঠব।
-তানভীর হাসান অনিম

জ্যাম
আজকাল রাস্তায় এমন জ্যাম লাগে যে পাশাপাশি দুটি বাসে জানালার ধারে বসে দুজন দিব্যি ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করতে করতে গন্তব্যে যেতে পারে।
-অনামিকা মণ্ডল

স্ক্রিনশট
মোবাইলের স্ক্রিনে সুন্দর একটা ছোট প্রজাপতি বসছিল। আমি তাড়াতাড়ি স্ক্রিনশট নিয়া রাখছিলাম। কিন্তু এখন ওই স্ক্রিনশট ওপেন করে দেখি, প্রজাপতিটা নাই।
-শাকীর এহসানুল্লাহ

জেলের ভাত
অনেক দিন পর পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা : তুই অনেক দিন বাঁচবি রে!
—কেন? আমার কথাই ভাবতেছিলি নাকি?
—না।
—তাহলে?
শুনেছি, ভালো মানুষ বেশিদিন বাঁচে না।
-অনুপম হোসাইন পূর্ণম

নাটক
: স্যার, আমাদের ক্রেডিট কার্ড নিলে ব্যাংক আপনাকে ০% ইন্টারেস্টে লোন দেবে।
: মানে কী? লোনের ব্যাপারে আপনাদের যদি কোনো ইন্টারেস্টই না থাকে, তাহলে দিবেন ক্যান?
-সন্দীপন বসু

খুঁজে ফিরি
বাঁধা পড়ে সাত পাকে—
খুঁজে ফিরি হাত-পা কে।
-পলাশ মাহবুব

পাকিস্তানে নারীর ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত মিটিং
ইচ্ছা করে
মাঝেমধ্যে বাচ্চাদের মতো হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করে। ইস্টার্ন প্লাজার ভেতরে কারো হাত পেছন থেকে টেনে বলব—‘আংকল, আমি না হারিয়ে গেছি। ’
ভুইত্তামারা কয় কী?
হ্যাঁ, আমি হারিয়ে গেছি।
গাঁজা খাইসস?
কী বলেন এসব আংকল?
এইবার আংকল একটু সিরিয়াস ভয় পেলেন। ভয় পাওয়ারই কথা। মধ্যবয়সী ফুলহাতা শার্ট পরা এক লোক এসে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলছে, ‘আংকল আংকল আমি হারিয়ে গেছি। ’ মলম পার্টির নতুন টেকনিক নাকি? উনি আশু বিপদ আঁচ করতে পেরে হাঁটা দিলেন। আমিও পিছে পিছে হাঁটছি। উনি ঝটকা দিয়ে ইস্টার্ন প্লাজা থেকে বের হয়ে হাতিরপুলের দিকে হাঁটা দিলেন। আমার বের হওয়া নিষেধ। হারিয়ে গেলে যেখানে হারিয়েছি, সেখানেই থাকতে হয়—আম্মা বলেছিল ছোটবেলায়। হুট করে মনে হলো, আম্মার হাত ধরে খুব হাঁটতে ইচ্ছা করছে। অনেক দিন হাত ধরি না। না ধরি যে তা আবার না। সেদিনিই তো হাত ধরে রাস্তা পার হলাম। ছোটবেলায় উনি আমার হাত ধরতেন রাস্তা পার হওয়ার সময়। এখন আমি ওনার হাত ধরি। পার্থক্য তো আছেই।
সেই অর্থে আসলেই অনেক দিন আম্মার হাত ধরি না। আব্বার সঙ্গে বাদাম ভেঙে ফুঁ দিয়ে খেতে ইচ্ছা করছে। না, খাই যে না, তা আবার না। সেদিন—শুক্রবার বিকেলেই তো একসঙ্গে খেলাম। ছোটবেলায় উনি বাদাম ভেঙে ফুঁ দিয়ে আমাকে খেতে দিতেন। এখন উনি ভেঙে ফুঁ দিয়ে, নিজেই খেয়ে ফেলেন। পার্থক্য তো আছেই।
ছোটবেলায় হারিয়ে গেলে যে ভয়টা পেতাম, সেই ভয়টা কেন জানি খুব মিস করছি। এখন কাউকে হারিয়ে গেছি বললে, উল্টা সে-ই বান্দা ভয় পাচ্ছে। পার্থক্য তো আছেই।
ছোটবেলায় সোফায় শুয়ে পড়তাম। সকালে চোখ খুলে দেখতাম, বিছানায় চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছি। এখন সোফায় শুয়ে পড়ি, সকালে চোখ খুলে দেখি সোফার নিচে চার হাত-পা ছড়ায়ে চেগায়ে পড়ে আছি। পার্থক্য তো আছেই।
ছোটবেলায় ছাদ থেকে আকাশে উড়ে যাওয়া প্লেনকে হাত নাড়িয়ে টাটা দিতাম। সেদিন ছাদে উঠে আশপাশে কেউ নেই দেখে সেভাবেই টাটা দিচ্ছি একটা প্লেনকে। টাটা দেওয়া শেষ করে তাকিয়ে দেখি, পাশের ছাদ থেকে মনসুর সাহেব হাঁ করে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। ভদ্রতার খাতিরে আমি ওনাকেও টাটা দিলাম। উনি হন্তদন্ত হয়ে ছাদ থেকে নেমে গেলেন। পার্থক্য তো আছেই। বয়স বাড়া... আর মনটা বাড়ার মাঝে।
-আরিফ আর হোসাইন

স্টার জলসার শিক্ষা
স্টার জলসা বা জি বাংলার সিরিয়াল দেখা নিয়া পুরুষসমাজ এত উদ্বিগ্ন ক্যান? কোনো একটা পর্ব যদি তারা মনোযোগ দিয়া দেখত, তবে বুঝত কত শিক্ষণীয় বিষয় সিরিয়ালগুলা দেখায়। শিক্ষণীয় বিষয় নিম্নে আলোচনা করা হইলো :
নারীর ধৈর্য : এইটাই নাটকের মূল সুর। শ্বশুরবাড়ির সবাই যত অত্যাচারই করুক, নায়িকা কখনোই সংসার ত্যাগ করে না। মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। বাস্তবে এই নায়িকাদের অনুসরণ করলে সমাজে ডিভোর্স শব্দটার বিলুপ্ত হবে। কী সুখের কথা!
নারীর শক্তি : যেই নায়িকা সারা দিন চোখের জলে নাকানিচুবানি খায়, সে-ই আবার প্রয়োজন পড়লে দেবী দুর্গার মতো অসুর বধ করে। নায়কের কোনো ভূমিকা নাই। নারীই পুলিশ-মন্ত্রী-জজ...।
বাপের বাড়ির চৌদ্দগুষ্টি, শ্বশুরবাড়ির ২৮-গুষ্টি...সবাই মিলে যে এক বাড়িতে থাকা যায়—সেটিও এই নাটকগুলার অন্যতম শিক্ষণীয় বিষয়।
তারপর আছে, কিভাবে মেয়েরা ভারী শাড়ি-গয়না পরেও এত এত লুচি ভাজবে, সেই টিপস। মানে যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে...নারীর অন্যতম গুণ।
আরো অনেক আছে, কিন্তু গুছায় লিখতে পারছি না। সরি!
কুটনামি ষড়যন্ত্র দেখালেও, ভালো দিকও অনেক দেখায়...এই কথাটাই ছিল বলার।
-ঝুমা রহমান

প্রসঙ্গ : বড় ভাই

অথচ ছোট ছেলের স্ট্রাগল নিয়ে কেউ ভাবে না। ভরদুপুরের পৃষ্ঠপোড়া রোদে মুদি দোকানে আধা লিটার তেল আনতে তাকেই যেতে হয়। তেল আনার পর মায়ের মনে পড়েছে, বয়ামে লবণও নেই। লবণও আনতে হয় তাকেই। ফরমায়েশের ক্ষেত্রে ছোট ছেলেই বেস্ট চয়েস। পদে পদে তার দোষ। এলাকার ভিডিও গেমসের দোকানে খেলা অবস্থায় ধরা পড়লে বড় ভাইয়ের হাতে প্রহার। বাসায় টিউটরের হাতে সর্বোচ্চ মার খাওয়ার ব্যাপারে বাবা কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান। শিডিউলের সব কাজ সাইড করে দুপুর পর্যন্ত ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে পায়ে ১০০ জুতার পাড়া খেয়ে গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের বিল দেওয়া। পাশের বেঞ্চে বসে বড় বোন আর তার নাগরের লুতুপুতু কাহিনি দেখা, অতঃপর পাঁচ টাকার বাদামের বিনিময়ে যা দেখেছি সব কিছু মেমোরি থেকে ফরম্যাট দেওয়া। অন্যদিকে বিনা মূল্যের বিনিময়ে বড় ভাইয়ার ধূমপানের দৃশ্যও তত্ক্ষণাত্ হজম করে ফেলা। সাধের প্রেমিকার সঙ্গে আমোদে গল্প করার সময় আচুক্কা বড় ভাই বা বাবা কর্তৃক কর্ণলতিকায় টান অনুভব করা। এলাকার সেলুনে না ঢুকে দূরে কোথাও গিয়ে জীবনের প্রথম ‘শেভ’ হওয়ার স্ট্রাগল। বাসার নষ্ট বাল্ব খুলে নতুন বাল্ব লাগানোর সময় কিছুক্ষণের জন্য জানালার গ্রিলে ঝুলে ঝুলে টারজান বনে যাওয়া। বড় ভাইয়া বা বোন যখন হোম টিউটর হন, তখন তাঁদের প্রহারের প্র্যাকটিস ফিল্ড হওয়া। সিরিয়ালের শেষে পড়ে, সাধ-আহ্লাদের বারোটা বাজিয়ে, জাভেদ ওমর বেলিমের বয়সে গিয়ে বিয়ে করা। এসব স্ট্রাগল কারো চোখে পড়ে না। ‘বাসার আহ্লাদি ছেলে’ ট্যাগটাই দেখে সবাই। অথচ এই ট্যাগের আড়ালে ত্যাগের নজিরগুলো দেখে না কেউ। ছোট ছেলেদের কষ্ট দেখে চোখের পানি ফেলে না কেউ। মুখ টিপে হাসে। উপহাস করে। এমনকি প্রেমিকাও।
-আল নাহিয়ান

—দোস্ত, আমার গার্লফ্রেন্ড আমার সঙ্গে ঝগড়া করে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে!
—কেন, কী করছিলি?
—‘বড় ছেলে’ নাটকটা দেখে আমার কান্না পায় নাই, তাই।
-কাওছার আহমেদ

প্রশ্ন : বড় ছেলে নিয়ে নাটক হয়, বড় মেয়ে নিয়ে নাটক হয় না কেন?
উত্তর : বড় ছেলেরা সারা জীবন বড় ছেলেই থাকে, কিন্তু বড় মেয়েরা কবুল করে ছোট বউ হয়, মেজো বউ হয়, বড় বউ হয়ে যায়!
-জান্নাতুল ফেরদৌস

‘বড় ভাই শাসন করেছে, তাই বলে বড় ভাইয়ের দিকে চোখ রাঙাবি?’
‘ছোট ভাই না বুঝে দুইটা মাইর দিছেই, তাই বলে ছোট ভাইয়ের গায়ে হাত তুলবি?’
# মেজো বা সেজো ছেলে ফ্যাক্ট
-মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

অনামিকা মণ্ডল


মন্তব্য