kalerkantho


শান্তি কাহাকে বলে

‘আপনি কখন সবচেয়ে বেশি শান্তি পেয়েছেন?’ এমন প্রশ্নের কে কী জবাব দিয়েছেন দেখে নিই। লিখেছেন ফারাজানা

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শান্তি কাহাকে বলে

চোর

একবার চুরি করার জন্য ঘরে ঢুকছি। হঠাৎ ঘরের লোকজন জেগে গেল। আমি জানালা দিয়ে দিলাম দৌড়। ওরাও পেছন পেছন দৌড়াল। ধরা পড়তে পড়তে একসময় বেঁচে গেলাম। তারপর মনে এত শান্তি লাগল যে কী বলব।

 

বাবুর্চি

হইছে কী, সুন্নতে খতনার প্রগ্রামে রেজালায় ড্যাগের ওপর কাউয়া বইসা দিছে কাম সাইরা। আমি দেখি নাই, দেখছে আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট। ও আমারে বলতে বলতে সেই জিনিস ঘুটা দিয়া মাখাইয়া ফালাইছি। আমি তো পাইলাম ভয়। কারণ লোকে কী জানি কী কয়! কিন্তু তারা খাইয়া আমার এত প্রশংসা করল যে তখন দিলে বিরাট শান্তি পাইলাম।

সেই থেকে আমি রেজালায় কাউয়ার জিনিস দিই, সবাই আমার রেজালার তারিফও করে।

 

গোয়ালা

গরুর ৫ লিটার দুধরে যখন ১০ লিটার বানাই, তখন চোখে ডাবল টাকার নোট ভাসে। সেই শান্তির কথা বলে বোঝানো সম্ভব না।

 

মাছ বিক্রেতা

অনেক সময় যেই দিনের মাছ সেই দিনে বিক্রি করতে পারি না। আড়তেই মাছ প্যাকেট করে চলে যাই। পরদিন আড়তে এসে যখন দেখি মাছ পচার বদলে আগের দিনের মতোই তরতাজা, তখন যে শান্তি লাগে, তা অসাধারণ। তবে ফরমালিন দিয়ে যদি শান্তিটাও তরতাজা রাখা যেত তাহলে ভালো হতো।

 

সারেং

ওভার যাত্রী লোড করার পরও যখন লঞ্চ ডোবে না তখন একটা শান্তি শান্তি ভাব আসে বটে।

 

পানি বিক্রেতা

সাপ্লাইয়ের মাগনা পানি বোতলে ঢুকিয়ে প্রতি গ্লাস এক টাকা করে বিক্রি করলে সব সময়ই মনে একটা শান্তির আভা বিরাজমান থাকে।

 

স্ত্রী

ও যেদিন বেতনটা নিয়ে বাসায় আসে, সেদিন আমি আগে থেকেই কেমন করে যেন বুঝতে পারি। ঘরে ঢোকার পর পকেট হাতিয়ে যখন সত্যি সত্যি বেতনের টাকা পাই, তখন মার্কেটে যাওয়ার কথা মনে করে বিরাট একটা শান্তির স্পর্শ অনুভব করি ভাইজান।

 

কসাই

ভেড়াকে খাসি এবং মহিষকে গরু বানানোর মধ্যেই অপার শান্তি নিবেদিত। এটা করতে পারলেই আমরা শান্তি পাই।

 

টক শোর নিয়মিত আলোচক

শান্তি খুব সহজ কোনো বিষয় নয়। এটার আগমন কখন ঘটে তা বলার আগে আপনি বলেন যে আমার উত্তরের জবাব দেওয়ার জন্য আরেকজন আলোচক দরকার, তিনি কই?


মন্তব্য