kalerkantho


ফেসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ফেসবুক অফলাইন

দোকানে পিচ্চি

এক পিচ্চি দোকানে গিয়ে বলল—

আংকেল, আপনার দোকানে সুন্দর হওয়ার কোনো ক্রিম আছে?

দোকানি : হুম বাবু, আছে তো। লাগবে?

পিচ্চি : না, আপনি মাখতে পারেন না? প্রত্যেক দিন স্কুল থেকে আসার সময় আপনেরে দেইখ্যা ডরায় যাইগা!

জারা নূর আয়াত

 

বাসের কন্ডাক্টর

ঢাকা শহরের লোকাল বাসের কন্ডাক্টর-ড্রাইভার-হেল্পার, সুপারভাইজারদের কোনো সময়ই ভালো কাপড় পরতে নেই।

কারণ সে ক্ষেত্রে তাদের অবিকল একদম যাত্রী যাত্রী মনে হয়!

অর্পণ দাশগুপ্ত

 

কদিন ধরে ঘাড়ব্যথায় ঘাড় সোজা করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে!

বিষয় সেটা নয়, বিষয় হচ্ছে যাঁরা সব সময় নিজেদের ঘাড় বাঁকা বলে দাবি করেন, তাঁরা কত কষ্টেই না থাকেন!

অনামিকা মণ্ডল

 

বালক

মানুষ যত বড়ই হোক, আসলে সে বালকই থাকে। তয় বড় হইলে সে হয় সাবালক, এই যা।

জগলুল হায়দার

 

স্বামী-স্ত্রী

বিয়ের প্রথম বছর : এই রাত তোমার আমার

বিয়ের ৫০তম বছর : এই বাত তোমার আমার!

অনুপম হোসেইন পূর্ণম

 

ফেসবুক হস্তান্তর

মৃত্যুর আগে অন্যান্য সম্পত্তির সঙ্গে যেমন ব্যাংকের চেক বই, জমির দলিলের সঙ্গে ফেসবুকের আইডি পাসওয়ার্ড ছেলেমেয়েকে দিয়ে যেতে হবে। মৃত্যুশয্যায় ছেলেকে বলতে হবে, বাবা ফেসবুকটাকে একটু দেখিস। ও তোর ছোট বোনের মতো। কত কষ্ট করে আবোলতাবোল লিখে, মানুষকে কত তেল মেরে লাইক কমেন্টস বাড়িয়ে বাড়িয়ে আজ এই অবস্থায় নিয়ে এসেছি। আমার মরার খবর না দিয়ে তুই এটা চালিয়ে যাস। নিজে তো এত লাইক কমেন্টস পাবি না।

চঞ্চল ভৌমিক

 

মেয়ের বাবা : আমার মেয়ে কিন্তু ঝগড়ার সময় উল্টাপাল্টা কথা বলে ফেলে।

ছেলে কিছু মনে করবে না তো?

ঘটক : আরে দূর, ছেলের মেমোরি একদমই জিরো। এসব মনে থাকে না। এই যেমন সেদিন তার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে রাস্তায় হাঁটার সময় ধাক্কা খেয়ে বলল, স্যরি ম্যাডাম, দেখতে পাইনি কিন্তু আপনার মুখটা চেনা চেনা লাগছে।

সোহানূর রহমান অনন্ত

 

অবসর

অনেক ভেবে দেখলাম, অবসরে আমার প্রিয় কাজ কী কী করা যায় তা নিয়ে ভাবা।

সজল আহমেদ

 

যেটা পারে না

ব্যাচেলররা যে বাড়িতে ইচ্ছা করলেও যেতে পাড়ে না, সেটা তার শ্বশুরবাড়ি!

শুভ দেব নাথ

 

মালিবাগ মোড়ের ঝাঁকুনি খাইতে খাইতে এত দিনে হয়তো আমার ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ব্রেইন সব কিছুর জায়গা অদল-বদল হয়ে গেছে। শরীরের অবস্থাও ক্যারাব্যারা!

সুতরাং লজিক্যালি সব খাপে খাপ—এখন আমার মাথায় গ্যাস্ট্রিক কিংবা পেটে ব্রেইন টিউমার হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র!

অনিক দেবনাথ

 

নারী পুরুষ

পৃথিবীর সব নারী একটি অঙ্কের মতো। আর সব পুরুষ এই অঙ্কে বড্ড কাঁচা।

শাকীর এহসানুল্লাহ

 

জিজ্ঞাসা

পিঁপড়া খেলে যদি সাঁতার শেখা যায়, তবে মশা খেলে কি আমি উড়তে পারব?

হিমেল দেবনাথ

 

সারপ্রাইজ

স্থান :  কাজী অফিস

ছেলে : আসতে পারি?

কাজী : আসুন।

ছেলে : ধন্যবাদ।

কাজী : বসুন এবং বলুন আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি।

ছেলে : জি, মানে একজন ছাত্রের বিয়ে করতে কী কী লাগে?

কাজী : কার জন্য?

ছেলে : আ...আ...আমার জন্য!

কাজী : পাত্রী লাগবে, এসএসসি পরীক্ষার সনদ, দুজন সাক্ষী, ১০০ টাকার স্ট্যাম্পের একটা দলিল। আর বাকি থাকে কাবিননামা। ওইটার ব্যবস্থা আমি করব। বাকিগুলোর ব্যবস্থা আপনি করেন।

ছেলে : সব ব্যবস্থাই করতে পারব। তয় একটা কথা ছিল।

কাজী : কী কথা?

ছেলে : পাত্রীর এইখানে আসাটা কি খুব জরুরি? ওরে না জানায়া কাজটা সারা যায় না? খালি বিয়া বিয়া করে তো! ধরেন ওরে একটা সারপ্রাইজ দিলাম আর কী!

জিনাত জোয়ার্দার রিপা

 

সাহসী

বৌকে কে ভয় পায়, কে পায় না—এই নিয়ে গল্প হচ্ছিল সহকর্মীদের মধ্যে। রাত তখন ৯টার মতো। একজন বলছিল, ভয় পাওয়ার কী আছে? প্রকৃত পুরুষ হলে বৌকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এমন সময় ওই সহকর্মীর মোবাইলে কল এলো। সে ধরেই আমতা আমতা করতে লাগল। এই আছি কলিগদের সঙ্গে। এই শহরের মধ্যেই আছি। এই যে চঞ্চলের সঙ্গেই আছি। বলে আমাকে ফোনটা ধরিয়ে দিয়ে বলল, তোর ভাবি, একটু কথা বল।

আমি ফোনে, ভাবি ভালো আছেন? হ্যাঁ, আমাদের সঙ্গেই আছে। এখনই বাসায় যাবে বলে ফোন দিয়ে দিলাম।

সে হে হে করে বলল, তোর ভাবি খুব ভালোবাসে তো, তাই খোঁজ-খবর নেয়। বললাম, হ্যাঁ, সেটা দেখলাম, কঠোর মনিটরিংয়ে আছ। আমার কণ্ঠস্বর রেকর্ডিং করে নিয়ে যাও। বিপদে পড়লে শুনায় দিয়ো। সব সময় তো আমি পাশে থাকব না।

চঞ্চল ভৌমিক

 

একদিন লিফটে

বারডেমের ইয়া বড় লিফটের ভেতরে একদম পেছের দিকে দাঁড়িয়ে আছি। পাশে এক সাফারি পরা ভদ্রলোক হাতে গ্লুুকোজের প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। লিফটের অনেক মানুষের ধাক্কাধাক্কির কারণে তাঁর কনুই আমার গায়ে লেগে যাওয়ায় তিনি আমার দিকে তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিলেন।

কিছু একটা বলা লাগে দেখে বললাম, ‘কয় তলায় নামবেন আপনি? এক তলা?’

‘কেমনে বুঝলেন?’

আমি মনোবিজ্ঞানী টাইপ একটা মুচকি হাসি দিলাম। তিনি সরু চোখ করে সবাইকে ধাক্কা দিতে দিতে প্রথম তলায় নামলেন। নামার আগেও উঁকি দিয়ে দেখলেন একবার আমাকে। হিসাব মেলাতে পারছেন না তিনি।

... ফ্ল্যাশ ব্যাক :

আমি এই লিফটে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে আছি। একটা কাজে এসেছিলাম হাসপাতালে, বাট কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত লিফটের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। মজা লাগছে অদ্ভুত এই সাইকোলজির ক্লাসে থাকতে পেরে। যে আগে নামবে, সে তাড়াহুড়ো করে লিফটে ঢুকে একদম পেছনে গিয়ে খুশি খুশি দাঁড়িয়ে থাকছে। আর একটু পর, ‘ভাই আমি প্রথম তলায় নাম্মু, সাইড দেন সাইড দেন’ বলতে বলতে ১৩-১৪ জনকে বিরক্তির সঙ্গে ঠেলে লিফট থেকে নামছে।

দোতলায় লিফট থামল, পেছন থেকে আরেকজন হুংকার দিলেন, ‘আশ্চর্য, সাইড দেন না কেন? আশ্চর্য!’

তিনি আশ্চর্য হতে হতে এর/তার পায়ের চিপা দিয়ে বেলুনের বাতাস ছেড়ে দিলে যেমন বেলুন প্রথম কিছুক্ষণ ‘এদিক যাব নাকি ওদিক যাব’ করতে করতে একসময় থেমে যায়, তিনিও তেমনি লিফট থেকে ভদর ভদর করতে করতে বের হয়ে দম ছাড়া বেলুনের মতো ল্যান্ডিং করলেন লিফটের বাইরে।

আমি প্রায় ৩০ মিনিট থেকে লিফটে...একবার উঠছি আর নামছি। এখন মোটামুটি ক্লিয়ারলি বুঝতে পারছি কে কোন তলায় নামবে। ওই যে লিফটের গেট ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সবাইকে বিরক্ত হয়ে সাইড দিচ্ছে যে তিন-চারজন, তারা শিওর টপ ফ্লোরে নামবে। ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাচ্ছে দেখে মজা লাগছে। ভাবলাম আরো কিছুক্ষণ থাকি। মনে মনে একটা লেকচারও রেডি করে ফেললাম।

‘প্রিয় লিফটবাসী

লিফটের যেহেতু দুই দরজা থাকে না, তাই এখানে যে আগে ঢুকবে, সে লজিক্যালি পরে বের হবে। আর যে পরে ঢুকবে, সে বের হবে আগে। এটাকে ম্যানেজমেন্টের ভাষায় বলে ফার্স্ট-ইন-লাস্ট-আউট (FILO)। কিন্তু আপনারা তো লিফটের ভেতরে ঢুকে পারদের মতো ছেদ্রায়ে যাচ্ছেন।

আমরা কে কোন তলায় যাব, এই হিসাব করেই লিফটে ঢুকে নিজ নিজ অবস্থানে দাঁড়ানো উচিত। কিছুটা টেম্পোর মতো...সেই গেটের কাছে বসবে, যে আগে নামবে।

লেকচার মনে মনে গোছাতে গোছাতে লিফট আবার নিচে নেমে এলো, সবাই বের হলো। ভাবলাম আরো দুই-তিন রাউড দিই ওপর নিচে...বুঝি ব্যাপারটা। নিউ রাউন্ড অফ সাইকোলজিক্যাল টেস্ট শুরু হোক। ভাবতে ভাবতেই চেয়ে দেখি সেই গ্লুকোজ হাতে সাফারি পরা ভাই আবার উঠেছেন নিচতলা থেকে। তিনি এবারও একদম পিছে গিয়ে দাঁড়ালেন। আমাকে পাশে দেখেই হাসি দিলেন।

লিফটের দরজা বন্ধ হতেই উনি আমাকে ফিসফিস করে বললেন, ‘এবার বলেন তো ১-৯-এর মধ্যে আমি কুন তলায় যামু?’

আমি বললাম, ‘বড়জোর ১ বা ২ তলা...এর বেশি না...যদি আপনি হারেন আমি কিন্তু আপনার গ্লুকোজের প্যাকেট রেখে দেব... ওকে?’

তিনি ভ্রু কুঁচকে দুই হাতে গ্লুকোজের বক্সটা ধরে ‘গেটটা ধরেন গেটটা ধরেন’ বলতে বলতে সবাইকে ধাক্কা দিতে দিতে লিফটের ২-এ নেমে গেলেন। সিরিয়াস ভয় পেয়েছে বান্দা। পাওয়ারই কথা।

আরিফ আর হোসাইন


মন্তব্য