kalerkantho


বর্তমানের ভালোবাসা

বর্তমান সময়ের ভালোবাসা নিয়ে আমরা জানতে চেয়েছিলাম লাইলী-মজনু, রোমিও-জুলিয়েট, শিরি-ফরহাদ, শাহজাহান-মমতাজের কাছে। তাঁরা কেমন মন্তব্য ব্যক্ত করলেন, চলুন দেখে আসি। লিখেছেন রবিউল ইসলাম সুমন

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বর্তমানের ভালোবাসা

লাইলী : মজনুকে পাওয়ার জন্য কত যে নির্যাতন সহ্য করেছি, তার ইয়ত্তা নেই। অথচ এখনকার প্রেমিকারা নির্যাতন দূরে থাক, গার্ডিয়ানদের দুই-একটা ঝাড়ি শুনলেই তাদের প্রেমিককে ভুলে যায়।

আর একেকজনে এতটা করে প্রেম করে যে প্রেমিকের সংখ্যা গুনতে গেলেও একটা ছোটখাটো কম্পিউটার লাগে!

মজনু : লাইলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য কতই না কষ্ট করা লাগছে আমার। আর এখন ইমো, ভাইবার, ফেসবুকের বদৌলতে কত সহজেই প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করা যায়। আমাদের লাইফটা আসলেই খুব ডিফিকাল্ট ছিল!

দেবদাস : আজকাল দুই দিন শেভ না করলেই একজন আরেকজনকে দেবদাস বলে ডাকে! অথচ আমি দেবদাস পপুলার হয়েছিলাম ভালোবাসার জন্য, শেভ না করে দাড়ি বড় রাখার জন্য নয়!

চণ্ডীদাস : এক রজকিনীর জন্য আমি ১২ বছর বড়শি বেয়ে অপেক্ষা করেছিলাম। অথচ আজকালের প্রেমিক-প্রেমিকারা একজনের জন্য আরেকজন দুই সেকেন্ড অপেক্ষা করলেই বিরক্ত হয়ে ব্রেকআপ করে বসে।

রোমিও : আজকাল মিষ্টি মিষ্টি দুই-একটা কথা বললেই নাকি রোমিও হয়ে যাওয়া যায়! হায় সেলুকাস! আগে জানলে প্রেমের জন্য এত কষ্ট করে ইতিহাসে নাম লেখাতে যেতাম না!

শাহজাহান : মমতাজের জন্য আমি তাজমহল গড়ে গিয়েছি, যা পৃথিবীর সপ্তমাশ্চর্যের একটা। অথচ আজকালকের পোলাপান তাদের প্রেমিকাকে দুই টাকা দামের একটা গোলাপ কিনে দিতে পারলেই নিজেকে বিরাট কিছু ভাবা শুরু করে!

মমতাজ : আমার মৃত্যুর পরে শাহজাহান আমার জন্য তাজমহল বানাইছিল। আফসোস আমি সেটা দেখতে পারি নাই। তবে বর্তমানের প্রেমিকারা নাকি তাদের প্রেমিকের কাছ থেকে নানা উপহার না পেলে তাজমহলের উদাহরণ টেনে প্রেমিকদের খোঁটা দেয়। এইটা কিন্তু একদম ঠিক না!


মন্তব্য