kalerkantho


হালি বিষ টাকা মাত্র

মো. সাখাওয়াত হোসেন

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



হালি বিষ টাকা মাত্র

►  রিয়া ক্লাসে যাচ্ছে। ভার্সিটির ক্লাসে। সে কখনোই দেরি করে না। আজ একটু দেরি হয়েছে। সাজগোজের পর একটা সেলফি তুলতে চেয়েছিল। পারফেক্ট সেলফির জন্য ৩২টি ছবি তুলতে হয়েছে। দেরিটা ওখানেই। রাস্তায় বের হয়ে দেখে ভার্সিটির বাসটা অনেক আগে চলে গেছে। রাস্তায় কোনো সিএনজি নেই। একটা রিকশাও যাচ্ছে না। এমন দিন আসে মাঝেমধ্যে, ভাবল রিয়া।

যখন সকালে এক চাঞ্চে সেলফি ঠিক হয়নি, তখনই বুঝেছে দিনটা ভালো নয়। একটি ছোট সাদা কার আসছিল। ছেলেটাকে চেনে রিয়া। তাদের ভার্সিটিতেই পড়ে। হাত দেখাতেই গাড়িটি থামল। রিয়া আগে গাড়ির নম্বরটা লিখে নিল। বলা তো যায় না, বিপদের হাত-পা নেই। ছেলেটি ভাবল, সে রেড লাইট মানেনি বলে রিয়া গাড়ির নম্বর টুকে নিয়েছে। পাশে বসতেই রিয়াকে বলল ছেলেটি, ‘কোনো প্রমাণ নেই কিন্তু। কোনো শাস্তি পেতে হবে না আমাকে। ’

রিয়া ভাবল, ছেলেটি তার খারাপ কিছু করতে চাইছে। রিয়া তাড়াতাড়ি দরজার হাতল ধরে বের হতে চাইল। কিন্তু সে ভুল হাতল ধরে টানছিল। রিয়া ভাবল, এটা আরেকটা ফাঁদ। সজোরে সে ছেলেটার মুখে ঘুষি মারল।

‘আরে করছেন কী?’ ছেলেটা অবাক হলো! সে বুঝে ফেলল মেয়েটি কোনো কারণে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিতে চাইছে। ছেলেটা রিয়ার পা ধরে ফেলল। রিয়া ধরে নিল শুরু হয়েছে আক্রমণ। সে কনুই দিয়ে ছেলেটির পেট বরাবর আঘাত হাঁকাল। এবার ছেলেটি বুঝে ফেলল মেয়েটি নিশ্চয় কোনো ডাকাত দলের সদস্য। সে তাড়াতাড়ি পকেট থেকে সব টাকা বের করে মেয়েটির দিকে বাড়িয়ে দিল। রিয়া অবাক হয়ে গেল। কী সাহস! তাকে টাকা দিয়ে কিনতে চাইছে...ছিঃ! এদিকে ছেলেটা গাড়ি থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ফেলে দিতে লাগল। যেন পুলিশ পরে চিহ্ন অনুসরণ করে ডাকাত দলকে ধরতে পারে। মেয়েটি ভাবছে, ছেলেটা কোনো আলামত রাখতে চাইছে না। সজোরে অ্যাক্সিলেটর চেপে ধরল রিয়া। থেমে গেল গাড়ি। দুজন দুই দরজা দিয়ে বুলেটের মতো বের হয়ে গেল। সেদিন রাতে ছেলেটার স্ট্যাটাস ছিল, ‘ভাগ্যের ফের, আজ এক ডাকাত দলের হাত থেকে রক্ষা পেলাম। ’

আর মেয়েটার স্ট্যাটাস ছিল, ‘ভাগ্যের ফের, আজ এক জানোয়ারের হাত থেকে রক্ষা পেলাম। ’

 

►  আর বেশি দিন নেই বিয়ের বাকি। বলছে তার বাবা।

‘এভাবে? বোকা, এভাবে কেউ সুঁইয়ে সুতা ঢোকায়? শিখিয়েছে কে তোকে? এদিকে আয় দেখিয়ে দিই। এখনই শিখে রাখ। বিয়ের পর সময় পাবি না। ’

‘লবণ। হ্যাঁ, লবণ ঠিকঠাকমতো হওয়াটাই সুস্বাদু রান্নার প্রথম ধাপ। ’ রান্নার অনুষ্ঠান দেখে শিখছে সে।

এক বান্ধবীর বাসায় গেল একদিন ওয়াশিং মেশিন চালনা শিখতে। এক কাজিন শিখিয়ে দিল ইস্ত্রি করা। সবারই এক কথা, ‘সব শিখে নে ভালো করে। বিয়ের আগেই সব শিখে রাখা দরকার। এই যুগে এগুলো বিয়ের আগে শিখে রাখতে হয়। ’

একদিন ঘরের আরো টুকিটাকি শিখে নিল সে। বাচ্চার লালন-পালনের কোর্সও টুকটাক শিখে ফেলল।

অবশেষে যেদিন বিয়ে করছে, ছেলেটার তত দিন ঘরের অনেক কাজ শেখা হয়ে গেছে। বিয়ের আগেই।

 

►  অনেক দিন থেকেই কিছু একটার অভাব বোধ করছে ইভান। প্রথমে ভাবল শীতকাল। মনে হয় কফির অভাব বোধ করছে সে। পর পর দুই কাপ কফি খেয়ে চাঙ্গা হয়ে গেল। কিন্তু লাভ হলো না। কিছু একটার অভাব রয়েই গেল। এরপর একদিন অনেক দূরে বেড়াতে গেল। পাহাড়ে উঠল, নদীতে নামল। লাভ হলো না, ওই কিছুর অভাবটা রয়েই গেল।

‘ঝগড়া। ঝগড়া করে ফেল বান্ধবীর সঙ্গে। ওইটার অভাবই বোধ করছিস। ’ এক বন্ধু বুদ্ধি দিল।

সেদিন বিকেলেই ঝগড়া করে ফেলল সে বান্ধবীর সঙ্গে। একটু শান্তি ভাব এলো মনে, কিন্তু সেই অভাবটা গেল না।

‘সংসার, বাচ্চা—এসবের অভাবই বোধ করছেন আপনি’-এক মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ বললেন।

বিয়ে হলো, হানিমুন হলো, বাচ্চা হলো। কিন্তু সর্বক্ষণ সেই কিসের অভাবটা গেল না।

ধীরে ধীরে আবিষ্কার করল সে, কিসের অভাব ছিল। তার স্ত্রীই চোখ খুলে দিল তার।

‘বুদ্ধি, বুঝছ? বুদ্ধির অভাব তোমার। এত বে-আক্কেল কেন তুমি?’

 

► রাশিয়ার আর্মিদের এক ক্যাম্পে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার। তাদের কমান্ডগুলো শুনুন।

কোনো সমস্যা নেই। একজন একজনকে মেরে ফেলো, খুন করে ফেলো। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যুদ্ধ যেন না লাগে।

এই যে, তুমি হাসছ কেন? হাসার কমান্ড তোমাকে কে দিয়েছে?

এই ছেলে, কালো করে তুমি। মাথার ক্যাপটা এমন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কেন?

তোমার পকেটে ম্যাচ কেন? সিগারেট খাচ্ছ না? পোড়া সিগারেট থেকে দাবানল লেগে গেলে সামলাবে কে?

দুই দল যাও, মাঠে ফুটবল খেলো। গোল যদি কেউ খেয়েছ, খবর আছে।

ঘুমানোর সময় যে ইচ্ছা করে নাক ডাকবে, নাক ফাটিয়ে দেব আমি।


মন্তব্য