kalerkantho


ফেসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ফেসবুক অফলাইন

তিলযন্ত্রণা

মেয়েদের গালে তিল থাকলে—ক্রাশ, কিউট, জোস, লক্ষ্মী-পক্ষী, এটা-ওটা।

ছেলেদের গালে তিল থাকলে—জন্মদাগ, আঁচিল, পক্স, ছোটবেলার খামচির দাগ, গালে শিকের গুঁতা খাইছি—আরো কত কী বলে।

সোহানুর রহমান অনন্ত

 

প্রেমিকার বাবা বললেন, এই নে ৫০০। বল, আর কত টাকা দিলে

আমার মেয়ে শম্পাকে ভুলে যাবি?

প্রেমিক : শম্পা কে, স্যার?

তানভীর আহমেদ হ্যামলেট

 

ভবিষ্যতে

মানুষের কাজগুলো যেভাবে রোবটের মাধ্যমে করানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তাতে আর ৫০ থেকে ১০০ বছর পরের লোকজন বলবে, ‘ওমা! আগে মানুষ গাড়ি চালাত? আগে মানুষ মাঠে কৃষিকাজ করত? আগে মানুষ ক্রিকেট খেলত?! OMG! তাহলে তো বলা যায়, আগেকার মানুষরা মানুষ না, রোবট ছিল...। ’

অনামিকা মন্ডল

 

পরীক্ষার দিন

সময়ের কী পরিবর্তন! ১৯৮০ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। কী টেনশন! ঘুম আসত না চোখে। সকালে খেতে পারতাম না পরীক্ষা দিতে যাওয়ার দিন। আলু খাওয়া যাবে না, ডিম খাওয়া যাবে না, গোল রুটি খাওয়া যাবে না। মা তাই চারকোনা পরোটা বানিয়ে দিতেন। সেটা খেয়ে বারবার ঈশ্বরকে স্মরণ করতে করতে পরীক্ষা দিতে যেতাম। আজকাল ভিন্ন বিষয়।

পরীক্ষার সকালে দেখি রিল্যাক্স করে ৮টা-সাড়ে ৮টায় ঘুম থেকে উঠে ডিম-পরোটা নাশতা করে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। যাওয়ার আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছে Going for SSC Exam, please pray for me. Feeling উত্তেজিত।

চঞ্চল ভৌমিক

 

মশারি

ছেলেটি পোস্ট দিয়েছিল, ‘ঘুমানোর আগে মশারি টানিয়ে দেওয়ার জন্য হলেও একটা বউ দরকার। ’ এখন ছেলেটি রোজ রাতে বউয়ের হুকুমে মশারি টানায়!

হিমেল সরকার

 

দীক্ষা পেলাম

আকাশ আমায় শিক্ষা দিল উদার হতে ভাই পর, উবার চড়ার দীক্ষা আমি ধর্মঘটে পাই রে!

অনুপম হোসেন পুর্ণাম

 

একটি বুদ্ধির কথা

হঠাৎ... কোনো ভদ্রমহিলা যদি আপনার কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলেন, ‘সঙ্গে যা জিনিস আছে, ঘড়ি, টাকা, মানিবাগ, মোবাইল, ল্যাপটপ—সব বের করুন, নয়তো চিৎকার করে সবাইকে ডেকে বলব যে আমাকে একলা পেয়ে আপনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন’—তখন একটু অভিনয় করতে হবে আপনাকে। আপনার পকেট বা ব্যাগ থেকে একটি কলম ও পেপার বের করে লিখে দেবেন—‘আমি বোবা এবং কালা। তাই যা বলার দয়া করে এই কাগজে লিখে দিন। ’ দেখবেন মহিলা যা যা বলেছিলেন, সেগুলো কাগজে লিখে আপনার হাতে দেবে। লেখার পর কাগজটা নিয়ে বেশ যত্নসহকারে পকেটে রাখবেন। তারপর ইস্পাত কঠিন গলায় বলবেন—‘নিন, এইবার যত ইচ্ছা চিৎকার করে ডাকুন সবাইকে। ’ দেখবেন ভদ্রমহিলা সুবিধা করতে পারবেন না। লোকজন ডাকলেও আপনার কোনো ক্ষতি হবে না।

প্রশান্ত অধিকারী

 

কখনো প্রেমিকার বিয়ের দাওয়াত মিস করবেন না কারণ সেই দিনই একমাত্র দিন, যেদিন আপনি কিছু ভালো-মন্দ খেয়ে প্রেমিকার পেছনে খরচকৃত টাকা কিছুটা হলেও পোষাতে পারবেন!

নিয়াজ মোর্শেদ

 

বড়লোক ছেলে

: ছেলে তো বিরাট বড়লোক! তা সে করেটা কী?

—তেমন কিছু না, ধর্মঘটের দিন খালি পার্টটাইম রিকশা চালায়!

সুমন আহমেদ

 

মধ্যবিত্তের জীবন

মধ্যবিত্তের জীবন...এক কিডনি নষ্ট হলে আরেকটা বেইচ্যা নষ্টটা সারাইতে হয়।

নিয়াজ মোর্শেদ

 

 

মেসেজ-যুদ্ধ

আমাদের পাড়ার রাজনের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা তেমন ভালো না। সব সময় ও আমাকে ইনসাল্ট করার চেষ্টা করে। আমিও ছেড়ে কথা বলি না। সেদিন ঘুম থেকে উঠে মোবাইলটা ধরতেই দেখি রাজন মেসেজ পাঠিয়েছে। মেসেজটা পড়েই মেজাজ গরম হয়ে গেল। সে লিখেছে, ‘তোর হাসি আমার খুব ভালো লাগে। কেন জানিস? কারণ আমার প্রিয় রং হলুদ। ’

এমন ইনসাল্টের জবাব না দিয়ে পারা যায় না। সঙ্গে সঙ্গে আমি রিপ্লাই দিলাম, ‘মাঝেমধ্যে আমি তোকে খুব ফিল করি। যখন ফিল করি তখন খুব খারাপ লাগে। যখন খারাপ লাগে তখন তোকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে। কেন জানিস? কারণ আমি কার্টুন পছন্দ করি। ’

মেসেজ পাঠিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে নাশতা করতে বসলাম। এরই মধ্যে রাজনের জবাব চলে এলো। সে লিখেছে, ‘তোমাকে অমন বাজে একটা মেসেজ পাঠানো আমার একদম ঠিক হয়নি। হাজার হোক তুমি একটা ভালো ছেলে। তবে ঘুম থেকে উঠে তোমার উচিত দুটি কাজ করা। প্রথম কাজ হলো প্রভুর কাছে প্রার্থনা করা, যেন তিনি সারা দিন তোমাকে ভালো রাখেন। দ্বিতীয় কাজ হলো সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করা, যেন সারা দিন তোমার আশপাশের লোকেরা ভালো থাকেন। ’

মেসেজ পড়ে আবার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। কী লেখা যায় সেটা ভেবে ভেবে একসময় মোক্ষম মেসেজ পেয়ে গেলাম। লিখলাম, ‘সেই দিনের কথা মনে আছে? যেদিন আমি, আমার কুকুর টমি আর তুই গাড়িতে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। টমি জানালা দিয়ে বাইরে মাথা বের করে রেখেছিল। তুইও পেছনের সিটে বসে বাইরে মাথা বের করে দেখছিলি। রাস্তার লোকেরা সেটা দেখে হাসছিল আর বলছিল, ওই দেখ যমজ, ওই দেখ যমজ!’

তারপর রাজন আমাকে আর কোনো মেসেজ পাঠায়নি। পাঠাবে কিভাবে, এরপর আমি আমার মোবাইলটা বন্ধ করে রেখেছিলাম যে।

জুলফিকার হোসেন

 

জবাব নাই

২৬টি গাড়ির বহর নিয়ে গত পরশু শিক্ষা সফরে গিয়েছিল আমার মেয়ের স্কুল। আমি যখন মেয়েকে গাড়িতে উঠাতে গেলাম, দেখলাম অনেকের সঙ্গেই গার্জেন আছে এবং সবই মহিলা। কোনো পুরুষ দেখলাম না। কেমন জানি একটু খটকা লাগল। খুবই পরিচিত এক শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলাম—ব্যাপারটা কী? ছেলে-মেয়ে সবার সঙ্গে মায়েরা আছেন, কিন্তু বাপেরা নেই কেন? উনি আমাকে একটু আড়ালে নিয়ে বললেন, ‘বছর দুয়েক আগে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী তার বন্ধুকে আব্বা বানিয়ে শিক্ষা সফরে নিয়েছিল। বাপ-বেটির চরম আদর দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ টের পেয়ে যায় এবং তার পর থেকে আব্বাদের নেওয়া নিষেধ। ’

ঘটনাটি শোনার পর আমি ওই স্যারকে বললাম, ‘খালি আব্বাদের দোষ। আপনারা কিভাবে নিশ্চিত হলেন, ছেলেরা তার বান্ধবীকে আম্মা বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে না!’

উনি আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলেন, কিন্তু কোনো জবাব দিলেন না।

শহীদ শেখ

 

রিজাইন

আমার একটা বন্ধু আছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। তার এক কলিগ কিছুদিন আগে চাকরি করবে না বলে রিজাইন লেটার দিল ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে। কী কারণে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চাকরি ছেড়ে দেবে তা জানার জন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে ডেকে পাঠালেন।

বোর্ডে সবাই উপস্থিত,

বস : আপনি কী কারণে এত দ্রুত চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন?

কলিগ : স্যার, এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

বস : আমরা জানতে চাই আপনার সে ব্যক্তিগত কারণটা কী?

কলিগ : স্যার, বলব!

বস : অবশ্যই

কলিগ : স্যার, আমি আমার গার্লফ্রেন্ডকে সময় দিতে পারছি না এখানে চাকরি করার কারণে। তাই সে আমাকে একটা অফার করছে, তার সঙ্গে যদি আমি মাসের ১৫ দিন কাটাই, তাহলে সে আমাকে ২০ হাজার টাকা দেবে, আর এখানে আমি বর্তমানে ১০ হাজার টাকা পাচ্ছি, এখন আপনারাই বলুন আমি কোনটা করব!

[এ কথা শোনার পর সবার মুখ কাঁচুমাচু হয়ে গেল]

বস : ঠিক আছে, আপনার ব্যাপারটি আমরা দেখব। আপনাকে সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, যেন আপনার ভবিষ্যতে সমস্যা না হয়। আর স্যালারি নিয়ে চিন্তা করবেন না, সামনের মাসেই ডাবল করে দেওয়া হবে। কাজে মন দিন।

মোরশেদ


মন্তব্য