kalerkantho


ঘটনা দুটি কিন্তু মজার

ফখরুল ইসলাম

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঘটনা দুটি কিন্তু মজার

• সেলুনে বসে চুল কাটাচ্ছিল মতিন। হঠাৎ বছর দশেকের একটা ছেলে এসে ঢুকল সেখানে।

নাপিত মতিনের কানে কানে বলল, ‘এই ছেলেটা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বোকা ছেলে। এখনই প্রমাণ করে দিচ্ছি। ’ এই বলে ছেলেটাকে কাছে ডাকল নাপিত। তারপর এক হাতে একটা এক শ টাকার নোট আর অন্য হাতে একটা বিশ টাকার নোট নিয়ে ছেলেটিকে বলল, ‘আমার দুই হাতে দুটি নোট। তুমি কোনটা চাও?’ ছেলেটি বিশ টাকার নোটটা দেখিয়ে দিল। ওকে নোটটা দিয়ে দিল নাপিত, আর ছেলেটাও ভ্যাবলা মার্কা একটা হাসি হেসে বেরিয়ে গেল সেলুন থেকে। নাপিত মতিনের দিকে তাকিয়ে এক গাল হেসে বলল, ‘বলেছিলাম না, এক নম্বরের গাধা? এ পর্যন্ত অনেকবারই ওর সঙ্গে এ কাজ করেছি, তবু এখনো বড় নোটটা চিনল না!’

চুল কাটানো শেষ করে সেলুন থেকে বেরোল মতিন। দেখল, পাশের আইসক্রিমের দোকান থেকে বেরিয়ে আসছে ছেলেটা, হাতে একটা আইসক্রিম।

‘তোমাকে একটা প্রশ্ন করি’, ছেলেটাকে বলল মতিন।

‘তুমি এক শ টাকার নোটটা বাদ দিয়ে বিশ টাকার নোটটা নিলে কেন?’

আইসক্রিমে মোক্ষম একটা কামড় দিল ছেলেটা, তারপর বলল, ‘কারণ যেদিন আমি এক শ টাকার নোটটা নেব সেদিন থেকেই আর গর্দভটা আর এ খেলা খেলবে না। ’

 

• হত্যার অভিযোগে বিচার হচ্ছিল এক লোকের। তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ বেশ শক্ত, তবে একটাই সমস্যা, যাকে খুন করা হয়েছে তার লাশ পাওয়া যায়নি। আসামিপক্ষের উকিল বুঝলেন, সম্ভবত তাঁর মক্কেলের শাস্তি হয়ে যাবে। তাই একটা বুদ্ধি করলেন তিনি। জুরির উদ্দেশে বললেন, ‘জুরি বোর্ডের মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আপনাদের সবাইকে আমি একটি বিস্ময় উপহার দিতে যাচ্ছি। এখন থেকে এক মিনিটের মধ্যে যিনি খুন হয়েছেন বলা হচ্ছে সেই ব্যক্তি দরজা দিয়ে ঢুকবে। ’ এই বলে তিনি আদালতের প্রবেশপথের দিকে তাকালেন। তার দেখাদেখি জুরি বোর্ডের সদস্যসহ সবাই উদগ্রীব হয়ে প্রবেশপথের দিকে তাকাল। এভাবে এক মিনিট পেরিয়ে গেল, কিন্তু কেউ এলো না। এবার উকিল বললেন, ‘আসলে এ কথাটি আমি বানিয়ে বানিয়ে বলেছিলাম, কিন্তু দেখা গেল, আপনারা সবাই উদগ্রীব হয়ে দরজার দিকে তাকিয়েছেন। তার মানে, আসলেই ওই ভদ্রলোক মারা গেছেন কি না তা নিয়ে আপনাদের মনেও সন্দেহ আছে। অতএব, আমি অনুরোধ করছি, আপনারা আমার মক্কেলকে নির্দোষ বলে রায় দিন। ’ এরপর রায় প্রদানের সময় এলে জুরি বোর্ডের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার জন্য পাশের কক্ষে গেলেন এবং মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ফিরে এসে রায় দিলেন : আসামি দোষী।

‘কিন্তু’, প্রতিবাদের সুরে উকিল বললেন, ‘তার অপরাধ নিয়ে আপনাদের মনে নিশ্চয়ই সন্দেহ ছিল, কারণ আমার মতো আপনারাও দরজার দিকে তাকিয়েছিলেন। ’

‘আমরা তাকিয়েছিলাম। ’ জুরি বোর্ডের এক সদস্য বললেন, ‘তবে আপনার মক্কেল একবারও তাকায়নি!’


মন্তব্য