kalerkantho

ফেসবুকার

মো. হাবিব

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ফেসবুকার

৭৬ বছরের এক মহিলা এডিকশন ক্লিনিকে এসে একটি টিকিট নিল। সেখানে ‘ফেসবুক এডিকশন ডিপার্টমেন্ট’ নামে একটি বিভাগ ছিল।

মহিলা সেখানে একটি চেয়ার দখল করল। অলরেডি ১২-১৩ জন লোক সেখানে টিকিট হাতে অপেক্ষা করছিল। একজন মধ্যবয়স্ক লোক টিকিট হাতে চিন্তিত মুখে হাঁটছিল আর বলছিল, ‘গরুর দুধ দোয়াতে হবে, গরুর দুধ দোয়াতে হবে। ’

এক যুবক হতাশায় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিল। তাকে মধ্যবয়স্ক এক মহিলা সান্ত্বনা দিচ্ছিল, ‘চিন্তা করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে। ’

যুবক হতাশ ভঙ্গিতে বলল, ‘আমি বুঝতে পারছি না, আমার স্ট্যাটাসটা বেশ মজাদার কিন্তু পাঁচ মিনিট হয়ে গেল এখন পর্যন্ত আমার কোনো ফ্রেন্ড এটাকে লাইক করল না। ’

অবশেষে মহিলার ডাক পড়ল ডাক্তারের চেম্বারে।

—বসুন। তো আপনি ফেসবুকে কিভাবে আসক্ত হলেন?

—সব আমার নাতির দোষ! ও আমাকে একদিন ফেসবুকের ইনভাইটেশন পাঠিয়েছিল।

—তারপর?

—প্রোফাইল বানাতে দেরি নেই, আমি ফেসবুকে মজে গেলাম। দিনে আট-দশবার রাতে আরো বেশিবার করে চেক করতে লাগলাম। মাঝেমধ্যে রাতে ঘুম ভেঙে গেলে গিয়ে স্ট্যাটাস চেক করতাম, যদি কেউ আপডেট দেয়। আমার স্বামী আমাকে মানা করত।

—ফেসবুক থেকে আপনার প্রাপ্তি কী?

—আমার মনে হয় আমি একটা নতুন জীবন পেয়েছি। বাস্তব জীবনে আমার মাত্র পাঁচ-ছয়জন বন্ধু, কিন্তু ফেসবুকে আমার ৬৫০ জনের বেশি বন্ধু আছে। এমনকি বখতিয়ার উদ্দিন মিজিও আমার বন্ধু।

—কে সে?

—জানি না। তবে ফেসবুকে তার বন্ধুর সংখ্যা পাঁচ হাজার। ফলোয়ার তিন লাখের ওপরে। নিশ্চয়ই কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি হবে।

—তাহলে ফেসবুকের ফলে আপনার ভালো ভালো সম্পর্ক হয়েছে?

—হ্যাঁ। হাই স্কুলের কিছু বান্ধবীর সঙ্গে আবার দেখা হয়েছে। এখন চেক করতে পারি কে রিটায়ার্ড, কে না। তারা কে কোন মুভি দেখল, কোথায় বেড়াতে গেল সব জানতে পারি। এমনকি তাদের সঙ্গে গেমও খেলি।

—ফার্মভিল?

—না, মাফিয়া ওয়ার্স। আমি একজন হিটম্যান। আমার সঙ্গে লাগতে আসার ফল ভালো হয় না।

—বাস্তব জীবনে এসব ফ্রেন্ডের সঙ্গে দেখা করেন না?

—না, ফেসবুকে দেখা করাই ভালো আর সহজ। এ জন্য কোনো সাজুগুজু করতে হয় না। গোসল করে পারফিউম লাগানো বা দাঁত মাজার ঝামেলা নেই। ফেসবুকের সবচেয়ে মজার দিক হলো, আপনি কারো দুর্গন্ধ পাবেন না। এখানে সবাই আকর্ষণীয়। কারণ সবার প্রোফাইল পিকচারই আকর্ষণীয়।

—আপনার প্রোফাইল পিক কী দিয়েছেন?

—আমি পাঁচ ঘণ্টা ধরে ইন্টারনেটে একটা ভালো প্রোফাইল পিক খুঁজেছি। না পেয়ে পরে লোকাল বিউটি পার্লারে যেতে হয়েছে।

—নিজেকে সাজগোজ করে সুন্দর করার জন্য?

—না। ওখানে কাজ করে—এমন এক সুন্দরী মেয়ের ছবি তুলে এনেছি।

—আপনার বন্ধুরা বলেনি যে আপনাকে অন্য রকম দেখাচ্ছে?

—কেউ কেউ বলেছে। আমি তাদের উত্তর দিয়েছি যে আমি ইদানীং যোগব্যায়াম করছি, তাই আমার ত্বক এত দারুণ হয়েছে।

—আপনি কবে বুঝতে পারলেন যে ফেসবুক আপনার জন্য একটা সমস্যা?

—গত রবিবার ফেসবুক চেক করতে গিয়ে দেখি আমার স্বামী ওয়ালে লিখেছে যে ‘পাঁচ দিন আগে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছি। তোমাকে বিষয়টা জানিয়ে রাখলাম। ’

—আপনি কি করলেন?

—কি আর করব। ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে ওকে ডিলিট করে দিয়েছি।


মন্তব্য