kalerkantho

চতুর পাইলট

লেখা : ইমরান, আঁকা : মাসুম

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চতুর পাইলট

টেক্সাস থেকে বেশ কিছু যাত্রী নিয়ে রওনা হওয়া এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট একটি চার্টার প্লেন সিয়াটলের কাছাকাছি এসে ঘন কুয়াশার মধ্যে পড়ে গেল। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো ঠিক এই সময় তার ইঞ্জিনটায়ও সমস্যা দেখা দিল।

পাইলট উপায়ান্তর না দেখে আশপাশে ল্যান্ড করার উপযোগী জায়গার খোঁজ করতে লাগল। কিন্তু রেডিওসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতিও একে একে সাড়া দিতে অস্বীকার করার ফলে প্লেনের অবস্থান জানাটা খুব একটা সহজ হলো না।

এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর পাইলট টের পেল যে প্লেনের জ্বালানিও কমে আসছে। তাই সে প্লেনটাকে যথাসম্ভব নিচে নামিয়ে আনল এবং খালি চোখের ওপর ভরসা করে ল্যান্ড করার মতো জায়গা খুঁজতে লাগল। এমন সময় কুয়াশা একটু কমে আসার কারণে সে একটু দূরেই একটা উঁচু ভবন দেখতে পেল। সেই ভবনের পঞ্চম তলার জানালা দিয়ে এক ভদ্রলোককে নিবিষ্ট মনে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করতে দেখা যাচ্ছিল। পাইলট খুবই আশান্বিত হয়ে প্লেনটাকে বিল্ডিংটার সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার করে লোকটাকে জিজ্ঞেস করল, ‘এই যে ভাই, বলতে পারেন আমি এখন ঠিক কোথায় আছি?’

উত্তরে ভদ্রলোক বললেন, ‘আপনি এই মুহূর্তে একটা ছোট চার্টার প্লেনের ভেতরে আছেন। ’

ভদ্রলোকের এই উত্তর শুনে যাত্রীরা যারপরনাই হতাশ হলেও পাইলট আনন্দে প্রায় লাফিয়ে উঠল। সে সঙ্গে সঙ্গে প্লেনটাকে বিল্ডিংটা থেকে ঠিক ১০০ মিটার সামনে এনে ২৭৫ ডিগ্রি ঘুরিয়ে নিল।

তারপর সোজা ৫.৩ কিলোমিটার গিয়ে আশপাশে কোনো কিছুর দিকে না তাকিয়ে একেবারে আক্ষরিক অর্থেই চোখ বন্ধ করে প্লেনটাকে নিখুঁতভাবে ল্যান্ড করিয়ে ফেলল। আর ঠিক সেই মুহূর্তে প্লেনের জ্বালানি সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেল।

বিস্মিত যাত্রীরা পাইলটকে ঘিরে ধরল এবং জিজ্ঞেস করল যে সে কিভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করল। পাইলট উত্তর দিল, ‘খুবই সহজ। আমি যখন ওই ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম যে আমি কোথায়, তখন সে যে উত্তরটা দিল সেটা ছিল ১০০ পার্সেন্ট সঠিক; কিন্তু সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। কাজেই আমি বুঝে গেলাম যে এটা হচ্ছে মাইক্রোসফট সাপোর্ট সেন্টার অফিস। আর সিয়াটল এয়ারপোর্টটা এমএস সাপোর্ট সেন্টার থেকে কত দূরে সেটা তো আমার জানা ছিলই। ’


মন্তব্য