kalerkantho


ফেসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ফেসবুক অফলাইন

গৃহশিক্ষক

মেয়ের তিনজন গৃহশিক্ষকের মধ্যে একজন আমার নামে নাম। গতকাল মেয়েকে নিয়ে বাইরে যাবে বলে সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে বেগম আমাকে বলে, ‘শহীদ, আজ তোমার আসার দরকার নেই।

পরশু দিন এসো। ’

আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে স্ত্রীকে বললাম, ‘ঠিকাছে, আন্টি’।

শহীদ শেখ

 

এই বছর তো হলো না সামনের বছর বইমেলায় বই বের করার কাজ প্রায় শেষ অটোগ্রাফ দেওয়া শিখে ফেলেছি, এখন শুধু বইটা লিখলেই হয়

জান্নাতুল ফেরদৌস

 

সুন্দরীশূন্য

পত্রিকায় শিরোনাম এসেছে,‘সুন্দরীশূন্য হয়ে পড়েছে সুন্দরবন। ’

পত্রিকা পড়ার পর সুন্দরী কাজিন এসে বলল, ‘পড়বেই তো! অনেক দিন হলো পিকনিকে সুন্দরবনে যাওয়া হচ্ছে না যে। ’

অনামিকা মণ্ডল

 

বাচ্চা

অনেক দিন পর ক্রাশের সঙ্গে দেখা : তোমার বাচ্চাটা একদম তোমার মতো হইছে।

: কেমনে বুঝলা?

: এত ডাকি, তাও আমার কোলে উঠতে চায় না!

অনুপম হোসেইন পূর্ণম

 

উপদেশ

একটি উপদেশ : ফেসবুকে কাউকে উপদেশ দিতে যাবেন না!

খায়রুল বাবুই

 

স্বামী

বোকা স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে বাণিজ্য মেলায় যায়।

চালাক স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে বইমেলায় যায়।

শুভ দেব নাথ

 

আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল ঠিক দুই বেঞ্চ পেছন থেকে, আমি ঘুরে তাকালাম একজন মানুষ বিমর্ষ মুখে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, নম্বর উত্তরটা দেখাবি?

আমি কোনো কথা না বলেই মুখ ফিরিয়ে নিলাম

আমি জানি, ওকে সাহায্য করা আমার উচিত ছিল, কিন্তু আফসোস! জানত না, আমিও কারো না কারো দুই বেঞ্চ পেছনের আর্তনাদকারী!

হিমেল সরকার

 

বন্ধু

হাত বাড়ালেই বন্ধু হয় না। হাত তো লোকাল বাসের হেলপারও বাড়ায়!

জান্নাতুল ফেরদৌস

 

শ্বশুর আব্বা

শ্বশুর আব্বা কল দিলেন, বাবা, তুমি নাকি ফেসবুকের কোনো মেয়েকে নিয়ে বিজি থাকো, বউকেও চেনো না!

 : আন্নে কেডা?

তানভীর আহমেদ হ্যামলেট

 

ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম, শরীরটা খুব দুর্বল লাগছিল ডাক্তার স্যালাইন খেতে বলল স্যালাইন খাওয়ার সময় দেখলাম স্যালাইন নিজেই তো দুর্বল, সামান্য একটু পানিতেই গলে গেল

শেখ রাকিব মাহমুদ

 

ভাষার জন্য

ভাষার জন্য রক্ত দিসি।

এহন IELTS-ও দেওয়া লাগে!

জিনাত জোয়ার্দার রিপা

 

আনফিট

একটু না হয় আনফিটই থাকলাম, Fit তো বিস্কুটও হয়!

সুমন আহমেদ

 

পরামর্শ

ঘণ্টাখানেক আগে এক মেয়ে ইনবক্সে লিখেছে—‘Ghum ase na. Ghumanor kono idea dite parben?’

আমি তাকে লিখলাম—‘আপনি শুয়ে পড়ুন। ফেসবুক লগ আউট করে মোবাইলটা অফ করে দিন। এরপর... আপনি যাঁকে ভালোবাসেন তাঁকে মনে মনে ভাবুন ও ধরে নিন, তাঁর গায়ে চেক শার্ট আছে। এবার চোখ বুজে গুনতে থাকুন, তাঁর শার্টে কতগুলো ছক আছে। দেখবেন, ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছেন। ’

মেয়েটি বলল—Thanks bhaiya.

একটু আগে মেয়েটি স্ট্যাটাস দিছে—‘Ek ghadar kach theke ghumanor buddhi niye matha batha suru hoiche. Plz pray 4 me.’

মানুষের উপকার করতে গেলে বদনাম হয়।

হদেব জ্যোতি ভক্ত

 

দেখতে যেমন

—মেয়েটা দেখতে কেমন রে?

—মেয়েটা? মেয়েটা দেখতে কিশোরীর পরা হালকা নীল কালারের ফুল হাতা সোয়েটারের মতো।

—আরে দূর ব্যাটা! ঠিক করে বল না।

—আচ্ছা, শোন। মেয়েটা দেখতে কলেজপড়ুয়া ছেলেটার কেনা নতুন লেদারের জ্যাকেটটার মতো, ছোট্ট কিউট একটা বাবুর এক জোড়া লাল মোজার মতো, বুড়ো বাবার জন্য কিনে আনা কালো রঙের কাশ্মীরি শালের মতো, শীতের গভীর রাতে গায়ে টেনে দেওয়া তুলতুলে লেপের মতো, গোসল সেরে ছাদে বসে মিঠে রোদ পোহানোর মতো, রাতের বেলা নির্জন স্টেশনে হিমহিম বাতাসের মধ্যে একাকী কোনো লোকের একটা সিগারেট ধরানোর মতো।

—দূর হালা! সব দেখি শীতের জিনিসপত্তর নিয়া আছস। ঠিক করে একটা উদাহরণ দে।

—ঠিক করে একটা উদাহরণ? —এক মুহূর্ত থামল ছেলেটা। ‘মেয়েটা দেখতে...’—কী যেন ভাবল সে। ‘ওকে, মেয়েটা দেখতে শীতের বিকেলে গরম চায়ের কাপ, দুই হাতে ধরে থাকার মতো। ’

অন্য ছেলেটা একটা গালি দিয়ে চলে গেল।

শাখাওয়াত হোসেন মুন্না

 

 

নববিবাহিত দম্পতি

নববিবাহিত দম্পতি নতুন বাসা নিয়েছে। পরদিন সকালে তারা যখন নাশতা করছিল, মেয়েটি জানালা দিয়ে পাশের বাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল, কাপড় শুকাতে দিয়েছে ঘরের কর্ত্রী। সে বলে উঠল, ‘কাপড়টা পরিষ্কার হয়নি, ওই বাসার মহিলা ভালো করে কাপড় ধুতে জানে না। তার মনে হয় ভালো কোনো কাপড় কাচার সাবান দরকার। ’

মেয়েটির স্বামী সেদিকে তাকাল, কিন্তু নিশ্চুপ। যতবারই পাশের বাড়ির মহিলাটি কাপড় শুকাতে দিত, ততবারই এই মেয়েটি একই মন্তব্য করত। মাসখানেক পর সেই বাড়িতে সুন্দর পরিষ্কার কাপড় ঝুলতে দেখে মেয়েটি অবাক হয়ে তার স্বামীকে ডেকে বলল, ‘দেখো, অবশেষে উনি শিখেছেন, কী করে ঠিকভাবে কাপড় ধুতে হয়। আমি তো ভাবছি কে তাকে শেখাল!’

তখন ছেলেটি বলে উঠল, ‘শোনো, আজ ভোরে আমি আমাদের জানালার কাচগুলো পরিষ্কার করেছি। ’

এস ইউ রবি

 

 

সমস্যা

বিকেলে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এমন সময় এক জুনিয়র পোলা আইসা হাজির পরামর্শ নেওয়ার জন্য। তার সমস্যা হলো, ‘জিএফকে নিজের মায়ের সঙ্গে পরিচয় করাতে নিয়ে যাবে। তো কোন রেস্টুরেন্টে নিয়া গেলে ভালো হয়। টাকা কোনো সমস্যা না, কারণ বিল মা দেবে! এখন মূল সমস্যা হলো, দেখা করাইতে নিয়া গেলে পোলা কার সঙ্গে বসবে? মা নাকি জিফ?’

তো সমস্যার কথা শুনে আমি একটু বিরক্ত হইলাম যে পোলাপানের আসলে কোনো কাম-কাজ নাই, সারা দিন আকামে সময় নষ্ট। কিন্তু মজা হইল অন্য জায়গায়। এক বন্ধু তখনই পোলার জন্য আরেকটা সমস্যার উদ্ভব কইরা দিল। বন্ধুর কথা হইল, ‘খাওয়াদাওয়া এবং দেখা তো পরের কথা, তোমার তো ঝামেলা আরো অন্য জায়গায় বাকি আছে। রেস্টুরেন্টে তুমি কার সঙ্গে ঢুকবা? জিএফকে নিয়া? তাহলে আন্টি কার সঙ্গে আসবে? আবার আন্টির সঙ্গে ঢুকলে জিএফ কার সঙ্গে আইব? যা-ই হোক, ধরলাম আন্টিরে নিয়াই ঢুকলা; কিন্তু প্যাঁচ তো লাগবে যাওয়ার সময়। আন্টিকে কী বলবা? আম্মু, তুমি যাও আমি জিএফকে দিয়ে আসি! নাকি জিএফকে বলবা আমি আম্মুকে দিয়ে আসি? তার চেয়ে বরং ভাই তুমি ব্রেকআপ করো। দুই ভাই মিলে কাচ্চি বিরিয়ানি মাইরা আসি ব্রেকআপ পার্টি হিসেবে। ’

মাহমুদুর রহমান


মন্তব্য