kalerkantho


দ্য গিফ্ট অব দ্য ম্যাজাই

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ডেলার মাথায় চুল ছিল খুব, অনেক বড়ো বড়ো,

তালের মতো খোঁপা হতো করলে সে চুল জড়ো।

জিমের একটা ঘড়ি ছিল—চেন ছিল না তাতে,

তাই সে ঘড়ি ফেলে রাখত, দিত না সে হাতে।

জিম সে ঘড়ি পেয়েছিল বংশপরম্পরায়,

ডেলার খুবই কষ্ট হতো সেই ঘড়ি না পরায়।

 

জিম ও ডেলা বাস করত মনিপুরিপাড়া,

গলির মাথায় এক রুমের এক বাসা নিয়ে ভাড়া।

ডেলা খুবই কিপটে ছিল, বড্ড হিসেবি সে,

খোঁজ রাখত কোথায় কখন সেল দিয়েছে কিসে।

ষাট টাকা ভাগ টাটকিনি মাছ—দর করে সে কমায়,

এমনি করে দেড় বছরে দুই শ টাকা জমায়।

ওই দামে কী চেন পাওয়া যায়?—জানত না সে আগে,

সোনার ঘড়ির জন্য নাকি সোনার চেনই লাগে।

চুলের ভেতর হাত বুলায় আর ভাবে এটা-সেটা,

শেষে কিনা মাটি হবে ভ্যালেন্টাইনস ডে-টা।

পার্লারেতে গিয়ে ডেলা বলল সবই খুলে,

বিউটিশিয়ান হাত বুলাল ডেলার রেশম চুলে।

 

ঘরে-ফিরে ডেলা জিমের আশায় আশায় থাকে—

জিম এলে এক কাণ্ড করে ভড়কে দেবে তাকে।

মাঝরাতে জিম ফিরল ঘরে, ঢুকল চুপিচুপি,

দেখল ডেলা সোফায় বসা, মাথায় পরা টুপি।

নেই সে মাথায় চুলের বালাই, ছোট্ট করে ছাঁটা,

পকেট থেকে বের করে জিম হীরার চুলের কাঁটা।

 

বলল ডেলা হড়বড়িয়ে, ‘ভয় পেয়ো না, জিম,

চুল বাড়বে তরতরিয়ে মাখলে হাঁসের ডিম।

কয়েকটা দিন সবুর করো, লক্ষ্মী, পায়ে পড়ি,

চুল বেচে এই চেন কিনেছি—দাও তো দেখি ঘড়ি। ’

বলবে কী জিম পায় না ভেবে, ভড়কে গেল তাতে,

‘ওই ঘড়িটা দিচ্ছে সময় অন্য কারোর হাতে।

যা গিয়েছে যাক চলে যাক, যাও ভুলে যাও তারে,

ঘড়ি কী আর কারোর সময় থামিয়ে দিতে পারে?

তুচ্ছ ওসব জিনিসপত্র, যাও তো সোনা ভুলে। ’

ডেলার মাথা বুকে নিয়ে হাত বুলাল চুলে।

 

 

[ও’হেনরির ছোটগল্প অবলম্বনে]


মন্তব্য