kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অতিসামাজিক প্রাণী

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অতিসামাজিক প্রাণী

এক শ্রেণির মানুষ নিয়ে খুবই বিব্রতবোধ করি। এদের আমি ‘অতিসামাজিক’ প্রাণী বলি।

কোনো অনুষ্ঠানে পরিচয়। ফেসবুক আইডি বিনিময়। দুই দিনের চ্যাটাচ্যাটির মাথায় জিজ্ঞেস করে বসে—রাতে কোন কালারের লুঙি পরে ঘুমাতে গেছেন? অথবা কতবেলে বিট লবণ খান কি না? দুনিয়ার যাবতীয় অতি ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের নাকগুলো মোমবাতির মতো গলতে থাকে। কেন ভাই? নেহাত ব্যক্তিগত বিষয় জানা ছাড়া কি আপন হওয়া যায় না? আপন হতে হলে লুঙ্গির গিট্টুতে কয় প্যাঁচ দিয়েছি, সেটা জানা জরুরি?

এতক্ষণ যাদের কথা বললাম, তারা মৌলিক অতিসামাজিক প্রাণী। আরেক শ্রেণি আছে। এরা যৌগিক অতিসামাজিক প্রাণী। তারা হলো আমারই পরিচিত। কোনো অনুষ্ঠানে বা আড্ডায় তাদের নিয়ে যাই। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। তারপর তারা সেই নতুন মানুষের সঙ্গে বিক্রিয়া করে নতুন একটি সম্পর্ক তৈরি করে। আমার সঙ্গের পুরনো মৌলিক সম্পর্কের অস্তিত্বই ভুলে যায়। তাদের দুই দিনের পরিচয় দেখে টয়লেটে বসে চাপাস্বরে গেয়ে উঠি—তোমায় দেখলে মনে হয়/হাজার বছর তোমার সাথে ছিল পরিচয়।

এই যৌগিক শ্রেণিকে কোথাও কোনো আড্ডায় নিয়ে যেতে শঙ্কাবোধ করি। কারণ জানি এই প্রাণী দুই দিন বাদেই নতুন সার্কেলের সবার আইডিতে গিয়ে লিখে আসবে—কী রে হালার ভাই, ভুইলা গেছোস। অথবা কত দিন দেখা হয় না মিস ইউ কলিজারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীলতার এই যুগে ‘অতিসামাজিক’ প্রাণীগুলোকে আমি সতর্কতার সঙ্গে দেখি। মাঝেমধ্যে ‘অসামাজিক’ শব্দটাকে প্রশংসার মতো লাগে। অসামাজিকরা অন্তত অতিসামাজিকদের মতো একজনের তথ্য আরেকজনের কাছে বিলিয়ে বেড়ায় না। এরা শরীরের নিরীহ তিলের মতো। চুপচাপ পড়ে থাকে নির্দিষ্ট স্থানে। অপরদিকে, অতিসামাজিকরা হলো চুলকানির মতো। প্রথম প্রথম চুলকাতে খুব ভাল্লাগে। পরে ঘা হয়ে ছড়িয়ে যায় নানা স্থানে। আজই আপনার শিশুকে ‘অতিসামাজিক’ রোগের টিকা দিন। সমাজকে রোগমুক্ত রাখুন।

►আল নাহিয়ান


মন্তব্য