kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্টেটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অফলাইন

 

মহত্ত্ব

স্ত্রী : আমার মহত্ত্ব দেখেছ? আমি তোমাকে না দেখেই বিয়েতে মত দিয়েছিলাম!

স্বামী : এ আর তেমন কী! আমার মহত্ত্ব্ব দেখো, আমি তোমাকে দেখার পরও বিয়েতে কোনো আপত্তি করিনি!

সুজিৎ কর

 

মেয়ে : আমার এক নিঃশ্বাসের জন্য কত্ত ছেলে মরতে পারে।

ছেলে : তাইলে ভালো টুথপেস্ট দিয়া দাঁত মাজলেই পারো।

সন্দীপন বসু

 

বুয়া

ম্যাম সাহেবা : কী ব্যাপার বুয়া, তুমি গতকাল কাজে আসোনি কেন?

বুয়া : না, আসলে দেখলাম, স্যার ফেসবুকে স্টেটাস দিছে—ফিলিং লাভ, আর আপনিও তাতে লাভ ইমো দিছেন।

ম্যাম সাহেবা : তাতে তোমার কী? তুমি আসো নাই কেন?

বুয়া : এমনিতে ছুটির দিন আর তার মাঝে দুজনই ভালোবাসার মুডে আছেন। ভাবলাম ডিস্টার্ব করা ঠিক হবে না, তাই আসিনি।

কানন শূন্য

 

কথা বলা বিড়াল

 

ভদ্রমহিলা : হ্যালো! পুলিশ স্টেশন? আমার আদরের বিড়াল হারিয়ে গেছে, আমায় একটু সাহায্য করতে পারেন?

পুলিশ : দেখুন, এটা পুলিশের কাজের মধ্যে পড়ে না!

ভদ্রমহিলা : আসলে এটা সাধারণ বিড়াল নয়, কথা বলা বিড়াল!

পুলিশ : তাহলে বরং ফোনটা ছেড়ে দিন, লাইনটা ফ্রি রাখুন, আপনার বিড়ালই কল করবে!

কায়েশ খান

 

অবশেষে

কাপড় মনে হচ্ছে ধুইতেই হবে! বডি স্প্রে শেষের দিকে।

মিকসেতু মিঠু

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলা ব্যাকরণ

এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হলো। তিনি আমার পড়ালেখা কেমন চলছে তা জানতে চাইলেন। আমি বললাম যে ভালোই চলছে, খারাপ নয়।

ভাই : বাংলা ব্যাকরণ পারো কেমন?

আমি : ভালোই তো পারি ভাই।

ভাই : পদপ্রকরণ বোঝো ভালো? প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারবা?

আমি : জি, পারব। করুন প্রশ্ন।

ভাই : ডাঙায় বাঘ, জলে কুমির। এখানে ‘বাঘ’ ও ‘কুমির’ কোন পদ?

আমি : বিপদ!

ভাই : বাহ! ভালো। খুব ভালো। বাড়িতে অতিথি এসেছে। এখানে ‘অতিথি’ কোন পদ?

আমি : আপদ!

ভাই : এই অবস্থা? ভালোই তো পড়ালেখার হাল! যা হোক, কারক থেকে প্রশ্ন করি। ‘ছাগলে ধান খেয়েছে’—এখানে ‘ছাগল’ কোন কারক?

আমি : এটা সবাই জানে। ক্ষতিকারক!

কিংকর্তব্য বিমূঢ়

 

পেছন থেকে ডাকলে আমরা অনেকেই নাখোশ হই, অমঙ্গলের গল্প শোনাই কিন্তু দামাদামির একপর্যায়ে আপনার বলা দামে বিক্রেতা যখন পণ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায় আর আপনি ফিরে যাওয়ার উপক্রম হন, তখন  পেছন থেকে ডাকলে সেই আপনিই দিলখোশ হন এটাকে দ্বিমুখী চরিত্র বলে

অফিসের ছেলেটাকে বাইরে পাঠালাম দুই পিস বাটার নান আনতে। আধা ঘণ্টা পর ও একজোড়া বাটার স্যান্ডেল নিয়ে হাজির। বলে—স্যার, বাটার তো নান হয় না, শুধু জুতা হয়।

মাইদুল ইসলাম শাকিল কিউ

 

হাঁটা

পেট কমানোর জন্য সকালে ভাবলাম ১০ মিনিট হাঁটি। তো ১০ মিনিটের রাস্তা হাঁটতে লাগল ৩০ মিনিট। পেটও কমল না, আবার টাইমটাও ফাও গেল।

তানভীর মাহমুদুল হাসান

 

ওয়েট

আসলে যাদের ওয়েট বেশি, তারাই বেশিক্ষণ ওয়েট করতে পারে!

এ জি মাহমুদ

 

দর্শক

ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবল মাঠেও দর্শকরা ঢুকে পড়ে। হরহামেশাই ঢুকে পড়ে। কয়দিন আগেই দেখলাম, মেসির পায়ের সামনে গিয়ে সেজদায় পড়ে গেছে এক ভক্ত।

দর্শক মাঠে ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তা নিয়া হাউকাউ করার কিছু নাই। আমি নিজে বহুবার ভিআইপি গ্যালারিতে খেলা দেখছি, চাইলেই লাফ দিয়া ড্রেসিংরুমের সামনে গিয়া পড়া যায়। এত বছরে আজই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল; এটাই বরং বিস্ময়!!

বাই দ্য ওয়ে, ইংল্যান্ড দলের কাউকে জড়ায়া ধরার মতো পাগল এ দেশে এখনো পয়দা হয় নাই। তারা যেন নিশ্চিন্ত থাকে!

জাহিদুল ইসলাম সজীব

 

নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো হওয়ার কারণ

একমাত্র কানা মামার পকেট থেকেই নিশ্চিন্তে নিজের পেকেটে টাকা ট্রান্সফার করা যায়

সোহানূর রহমান অনন্ত

 

ভয় নেই

ভয় করি না জ্যামকে আর

হইয়া গেছি ড্যামকেয়ার।

পলাশ মাহবুব

ছবি

লাভ হবে না বকবক করে

নীরব হবে কবি,

দেখবে যখন স্মার্ট কার্ডেও

আনস্মার্ট সেই ছবি।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

 

 

 

 

 

 

 

হায় রে ইলিশ

বড়লোকের ইলিশ সস্তা হয়ে গেছে। তার দায়ভার এসে পড়েছে গরিবের ওপর।

বৃহস্পতিবার কলেজে গেলাম সকালে না খেয়ে। পরীক্ষা থাকলে সেদিন সকালে কোনো কিছুই খেতে পারি না। ছেলেবেলা থেকে এই বদ অভ্যাস। দুপুরে খাতা জমা দিয়ে মনে হলো, পেটের মধ্যে আগুন জ্বলতেছে। কলেজের ক্যান্টিনে ঢুকে দেখি, ডিম সিদ্ধ করে পাতলা ঝোলের মধ্যে ভাসিয়ে রেখেছে। এটা খাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিকল্প হিসেবে পাশেই ইলিশ মাছের তরকারি। ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সম্ভবত ক্যান্টিনে তেলাপিয়া, রুইদের পেছনে ফেলে ইলিশ স্থান করে নিয়েছে!

আমি ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খেয়ে বিদায় নিলাম। রাতে বাসায় ফিরে হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসেছি। ভাত-তরকারি বাটি দিয়ে ঢেকে রাখা। বাটি সরিয়ে চক্ষু চড়কগাছে উঠে গেল। একটা পুঁটিমাছ সাইজের ইলিশের মাথা সেখানে জ্বলজ্বল করছে! এটা তো আর বাড়ি নয় যে বাটিতে ইলিশ মাছের তরকারি কেন বলে বাড়ি মাথায় তুলে ফেলব। চুপচাপ খেতে শুরু করলাম।

শুক্রবার দুপুরে ঘুম থেকে উঠলাম দেরিতে। ততক্ষণে নামাজ শুরু হয় হয় অবস্থা। তড়িঘড়ি করে গোসল করে নামাজ পড়ে এলাম। বুয়া তরকারি রান্না করে চলে গেছে। বাটির ঢাকনা সরিয়ে দেখি, গত রাতের মতো আজও সেখানে ইলিশ চোখ রাঙাচ্ছে। আর মেনে নেওয়া যায় না। বাজারে কে গেছে, তাকে যখন খুঁজছি তখনই লিকু জানাল—মাসের শেষদিন বলে টাকা ছিল না বাজারের। তাই সস্তা পেয়ে ইলিশ নিয়া আসছে। রাতে অবশ্য ভালো মেন্যু ছিল। পোলাও, মুরগি, সালাদ-টালাদ না, আরো কী যেন।

পরদিন শনিবার অফিসে আসতে আসতেই দুপুর হয়ে গেল। ২টার পর ক্যান্টিনে গিয়ে দেখি, আছে শুধু ইলিশ। অগত্যা...। রাতে বাসায় ফিরলাম। আবার সেই ইলিশ। আজ রবিবার। কলেজে গেলাম। খাতা জমা দিয়ে ক্যান্টিনে গিয়ে দেখি, সেই ডিমের ঝোল আর ইলিশ। না খেয়ে অফিসের দিকে রওনা দিলাম। ভিন্ন কিছু খাব—এই আশা নিয়ে ধুকধুক বুকে ক্যান্টিনে ঢুকছি। দেখি, সেই ইলিশ!

বড়লোকের এই বোঝা আর কত দিন এই গরিবকে বয়ে বেড়াতে হবে কে জানে?

আতিফ আতাউর

 


মন্তব্য