kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

অঙ্কের মজা

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অঙ্কের মজা

♦   — ০ যখন ৪-কে দেখে তখন কী বলে?

— আরে আরে...তোমার বেল্টটা তো খুব সুন্দর।

 

♦   স্বনামধন্য এক পরিসংখ্যানবিদ মোকলেস, কখনো বিমানে চড়েন না।

কারণ সারা বিশ্বের উড্ডয়ন পরিসংখ্যান ঘেঁটে তিনি দেখেছেন, যে কোনো বিমানে একটি বোমা থাকার সম্ভাব্যতা ১/১০০০০০। সম্ভাব্যতাটি তাঁর কাছে বেশি মনে হয়। ফলে এর ওপর ভিত্তি করে জীবনের ঝুঁকি নিতে তিনি রাজি নন।

একদিন দূরের এক কনফারেন্সে যোগদানের আমন্ত্রণ পান মোকলেস। সেখানে দেখা হয় বান্ধবীর সঙ্গে। ‘হাই মোকলেস, ট্রেন ভ্রমণ কেমন হলো? বন-পাহাড়ের ভেতর দিয়ে নিশ্চয়ই ভালো সময় কেটেছে?’ বান্ধবী জানতে চায়।

‘আমি আসলে এবার প্লেনে করে এসেছি’—মুচকি হেসে জবাব দেয় মোকলেস।

‘আরে, তাই নাকি!’ অবাক হয় বান্ধবী—‘তা তুমি যে সব সময় প্লেনে একটা বোমার কথা বলতে, সেটার কী হলো?’

‘হ্যাঁ, আমি হিসাব করে দেখলাম, কোনো প্লেনে একটি বোমা থাকার সম্ভাবনা যদি ১/১০০০০০ হয়, তাহলে দুটি বোমা থাকার সম্ভাবনা তুমি স্বাধীন সম্ভাব্যতার সূত্রে জানতে পারবে, (১/১০০০০০) দ্ধ (১/১০০০০০) বা ০.০০০০০০০০০১। এটি এত ক্ষুদ্র সম্ভাবনা যে এর ওপর ভিত্তি করে ঝুঁকি নেওয়া যায়। ’

‘কিন্তু দুই বোমার কথা আসছে কেন?’

‘কত না বোকা ছিলাম আমি। এত দিন ব্যাপারটি মাথায় আসেনি। ’ জবাব দেন মোকলেস। তারপর ফিসফিস করে বান্ধবীর কানে কানে বলেন, ‘এবার প্লেনে করে আসার সময় ঝুঁকি কমানোর জন্য আমি সঙ্গে করে একটা বোমা নিয়ে এসেছি। ’

♦   মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্র উচ্চতর ক্যালকুলাসে ফেল করে প্রফেসরের কাছে গিয়ে ক্ষোভ ঝাড়ে, ‘এই ছাতার অঙ্ক করে আমার কী লাভ? আমি কেন ক্যালকুলাস পড়ব? এমন তো না যে আমি ডাক্তার হলে ক্যালকুলাস আমার হাতি-ঘোড়া উপকার করবে। ’

প্রফেসর শান্তভাবে উত্তর দেন, ‘আসলে তুমি যা বলছ তা ঠিক নয়। ক্যালকুলাস মানুষের প্রাণ বাঁচায়।

‘কিভাবে একটু দেখান তো। ’ ছাত্র জানতে চায়।

‘খুব সোজা। ডাক্তার হওয়ার মতো যোগ্যতা যাদের নেই, ক্যালকুলাসের কারণে আগে থেকেই তারা মেডিক্যাল স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। ’

 

♦   কিন্ডারগার্টেনে পড়া ছোট্ট রবিনকে হোমওয়ার্ক হিসেবে কিছু অঙ্ক দিয়েছেন ম্যাডাম। তাই হোমওয়ার্কের সেই খাতাটা বাবার কাছে নিয়ে সে আবদার করে, ‘আমার হোমওয়ার্কের অঙ্কগুলো করে দাও না বাবা। ’

খবরের কাগজ থেকে মুখ তুলে রবিনের বাবা বললেন, ‘অঙ্কগুলো তুমি বরং নিজে করো। কারণ তোমার হোমওয়ার্ক আমি করে দিলে সেটা ঠিক হবে না। ’

বাবার চেয়ারের হাতল ধরে কান নাড়তে নাড়তে রবিন বলে, ‘কিন্তু তুমি তো চেষ্টা করে দেখতে পারো। ’

 

♦   ‘আপনারা বেশি করে নিজ নিজ জন্মদিন উদ্যাপন করুন। কারণ এটি প্রমাণিত যে জন্মদিন উদ্যাপনের সঙ্গে দীর্ঘজীবনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যেসব মানুষ সবচেয়ে বেশি জন্মদিন পালন করেন, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি বছর বেঁচে থাকেন’—পরিসংখ্যান বিষয়ে জনৈক ছাত্রের পিএইচডি গবেষণার ফল।

 

♦   — পরিসংখ্যান কতই না বিস্ময়কর কাজের!

— কিভাবে?

— আচ্ছা, শোনো তাহলে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রতিবছর কুমিররা চার কোটি ২০ লাখ ডিম পাড়ে। এদের মধ্যে কেবল দুই ভাগের এক ভাগ ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এসব বাচ্চার চার ভাগের তিন ভাগই আবার জন্মের প্রথম ৩৬ দিনে শিকারি প্রাণীর হাতে মারা পড়ে। বাকিগুলোর মধ্যে ৫ শতাংশ কেবল এক বছর বেঁচে থাকে। এবার নিশ্চয়ই স্বীকার করবে, পরিসংখ্যান কতই না বিস্ময়কর।

— আরে! এখানে বিস্ময়ের কী আছে?

— দূর, তুমি এখনো ব্যাপারটা ধরতে পারোনি? পরিসংখ্যান না থাকলে বুঝতে কী হতো? তোমার পশ্চােদশটা এখন কুমিরের ওপরই রাখতে হতো।

 

♦   মাটিতে পোঁতা পতাকাদণ্ডের উচ্চতা নির্ধারণ করতে বসেছে একদল শ্রমিক। তাদের কাছে রয়েছে শুধু গজ ফিতা, কিন্তু দণ্ডের আগায় কিভাবে ফিতাটি পৌঁছানো যেতে পারে, তারা বুঝতে পারছে না।

গণিতবিদ এলেন তাদের সাহায্যে, বললেন, ‘জ্যামিতির সূত্র প্রয়োগ করে সহজেই এর উচ্চতা নির্ণয় করা যাবে। ’ দণ্ডের ছায়া দেখে গণিতবিদ যখন সদৃশকোণি ত্রিভুজ গঠন করার চেষ্টা করছিলেন, তখন এলেন ইংরেজির শিক্ষক। সব শুনে মুচকি হেসে দণ্ডটি মাটি থেকে তুলে ভূমির ওপর শুইয়ে দিলেন। তারপর গজ ফিতা দিয়ে মেপে বললেন, ‘পুরোপুরি ১৫ গজ। ’

ভাব নিয়ে চলে যাচ্ছেন ইংরেজির শিক্ষক। পেছন থেকে উষ্মাভরে গণিতবিদ বললেন, ‘ইংরেজির শিক্ষক, হু! আমরা বের করতে চাচ্ছি উচ্চতা, আর উনি বের করলেন দৈর্ঘ্য। ’

 

♦   জীববিজ্ঞানী, পদার্থবিদ ও গণিতবিদ আফ্রিকা গেলেন বেড়াতে। কেনিয়ার তৃণভূমিতে হাঁটতে হাঁটতে মাঠের মধ্যে সাদা এক ছাগল দেখতে পেলেন তাঁরা।

জীববিজ্ঞানী বলে উঠলেন, ‘আরে, কেনিয়ার ছাগলগুলো দেখি সাদা হয়।

পদার্থবিদ বাধা দিয়ে বললেন, ‘আসলে তুমি বোধ হয় বলতে চাচ্ছ, কেনিয়ার কিছু কিছু ছাগল সাদা। ’

গণিতবিদ বললেন, ‘আসলে ছাগলটি দেখে আমরা যা

বুঝতে পারি তা হলো, কেনিয়ায় ন্যূনতম একটি ছাগল রয়েছে এবং সেই ছাগলটির ন্যূনতম একটি পার্শ্ব সাদা। ’

 

♦   তিন জাপানি রেস্টুরেন্টে গেল তাঁদের সাফল্য উদ্যাপন করতে। খুশিতে ঝলমল করছে তাঁদের চেহারা। পান ভোজনের সঙ্গে সঙ্গে খুব হাসাহাসি করছে সবাই। এমন সময় ওয়েটার তার কৌতূহল চেপে না রাখতে পেরে জিজ্ঞেস করল, তাঁরা কী নিয়ে এত মজা করছেন।

এক জাপানি উত্তর দিলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে গণিতের এই পাজলটা সমাধান করলাম আমরা। এটা করতে আমাদের সময় লেগেছে মাত্র এক মাস, অথচ পাজলের শুরুতে লেখা ছিল, ‘ছয় থেকে নয় বছর’।

 

♦   গণিতবিদরা কখনো মরেন না, তাঁরা তাঁদের কিছু ফাংশান (f) হারান মাত্র।

 

♦   পৃথিবীতে ১০ রকমের মানুষ রয়েছে। যারা বাইনারি বোঝে এবং যারা বাইনারি বোঝে না।

 

 

 

 

 

 

বারাক ওবামা আলজেরিয়ায় (Algeria) গেছেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে আলজেরীয়বাসীর সামনে ভাষণ দিলেন, ‘ইংরেজিতে ভাষণ দিতে আমার সত্যিই খারাপ লাগছে। খুব ভালো লাগত আপনাদের মাতৃভাষায় ভাষণটি দিতে পারলে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অ্যালজেব্রা আমি ভালো বুঝি না’।


মন্তব্য