kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বিতর্ক

বিতর্কে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প। জমে উঠেছে প্রতিযোগিতা। আচ্ছা, যদি ওই দুজন বাংলাদেশের কোনো ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হতেন, তাহলে কেমন হতো এই বিতর্ক। ভেবেছেন মো. সাখাওয়াত হোসেন

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিতর্ক

ঘোড়ার ডিম : সুধী দর্শক, আজ আমাদের স্টুডিওতে হাজির হয়েছেন আমাদের পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচনের দুই প্রার্থী। ‘তালা’ মার্কায় হিলারি ক্লিনটন আপা আর ‘গরু’ মার্কায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাইজান।

এই প্রথম তাঁরা মুখোমুখি বিতর্কে হাজির হয়েছেন। আসুন, দেখি তাঁরা কী বলেন। কেমন আছেন আপনারা?

ট্রাম্প : ভালো আছি।

ঘো ডি : হিলারি আপা আপনি?

হিলারি : আর ভালো। আজেবাজে মানুষদের সঙ্গে চলাফেরা করতে হয়। ভালো থাকি ক্যামনে?

ট্রাম্প (বিড়বিড় করে) : শুরু হয়ে গেছে।

ঘো ডি : একটু বলবেন, কেন ভালো নেই?

হিলারি : গরু-ছাগলের সঙ্গে ঝগড়া করে দিন কাটাতে হচ্ছে, বোঝেন না?

ট্রাম্প : এই যে আপনি, সম্মান দিয়ে কথা বলবেন। গরু আমার মার্কা। এটা মনে রাখবেন।

হিলারি : আপনার দলের এই একটা জিনিস আমার পছন্দ হইছে—আপনার মার্কাটা।

ঘো ডি : আমাদের বিতর্ক আমরা অফিশিয়ালি শুরু...

ট্রাম্প : আরে আপনি থামেন মিয়া। আমাদের কথা বলতে দেন। অনেক বেয়াদবি সহ্য করছি এই মহিলার। আজকে এর এসপার-ওসপার হবে।

হিলারি : এই যে ডোনাল্ড ডাক, বেয়াদব কাকে বলতেছেন?

ঘো ডি : একটু ভদ্রভাবে কথা বলেন। আপনারা দুজনই সম্মানী লোক। এইভাবে শুরু করলে লোকে কী বলবে?

হিলারি : লোকে কী বলে আমি সেটা ভাবি না।

ট্রাম্প : এই যে দেখেন, এখনো ভোট হয় নাই, এর মধ্যেই লোকে কী বলে সেইটা ভাবা বন্ধ কইরা দিছে। কোনোভাবে যদি জিতে যায়, চেয়ারম্যানের কী কী দায়িত্ব সেইটা ভাবাই বন্ধ করে দেবে।

হিলারি : না, মানে ইয়ে...আমি ওইটা বলি নাই।

ট্রাম্প : সবাই শুনছে কী বলছেন। আপনার মার্কাটাও ভালো হইছে। তালা মার্কা। মার্কাটা আপনার মুখে লাগিয়ে দিতে পারলে ভালো হইত। এই সব আজেবাজে কথা বন্ধ হইত।

হিলারি : শুনেন, তালা ঘরের নিরাপত্তা রক্ষা করে। আমাকে যদি জনগণ চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে, আমি সবার নিরাপত্তা রক্ষা করব।

ঘো ডি : দারুণ বলেছেন আপা।

হিলারি : আর গ্রামের সব নারী আমার পাশে আছে।

ট্রাম্প : সব নারীর আর কাজ নাই। কেউই আপনার পাশে নাই। ওই কালা বারেক মিয়া ছাড়া।

হিলারি : এই যে আপনি বারেক ভাইজানরে কালা ডাকলেন কেন? কালা ডেকে এখানেই তো আপনি বর্ণবাদীর পরিচয় দিলেন।

ট্রাম্প : কালারে কালা বলব না তো কী বলব? রূপবান জসিম? এহ, বর্ণবাদী! আপনার বারেক ভাই তো অক্ষর-বর্ণই চিনে না। উনি বর্ণবাদী না, অবর্ণবাদী। সারা জীবন শার্টের বোতাম খোলা রেখে মাস্তানি কইরা বেড়াইছে। এখন আপনেরে সাপোর্ট দিতেছে। এসব ফাউল লোকের সাপোর্টে কোনো কাজ হইব না।

ঘো ডি : দয়া করে আপনারা তর্কটা নিজেদের মধ্যে রাখুন। তৃতীয় পক্ষ ডেকে আনবেন না।

হিলারি : তৃতীয় পক্ষ? এই যে কাকে আপনি তৃতীয় পক্ষ বলতেছেন? বারেক ভাইরে? আপনার সাহস তো কম না।

ট্রাম্প : এই দেখেন, আপনি দেখি উনার সঙ্গেও ঝগড়া লাগাই ফেলছেন। আপনার মার্কা তালা না হয়ে এফএম রেডিও হওয়া উচিত ছিল। এ জন্যই বলে, ঘরের বউ দিয়ে রাজনীতি হয় না।

হিলারি : একদম বাজে কথা বলবেন না আপনি? ঘরের বউরা কি নলার ঝোল রাঁধবে আর গরম রুটি বানাবে?

ট্রাম্প : আপনি আঙুল দেখিয়ে কথা বলবেন না। ওই আঙুলে আংটি পরে বাসায় বসে থাকার কথা ছিল।

হিলারি : পুরনো কথা তুলবেন না? শুধু মুখে লম্বা লম্বা কথা। আপনি কী বলেছেন? চেয়ারম্যান হলে অন্য গ্রাম থেকে এসে যারা থাকছে তাদের বের করে দেবেন। কেন, ওরা কি মানুষ না?

ট্রাম্প : আগে নিজে খান, তারপর গরুর বাছুরকে খাওয়ান। গরু মার্কায় ভোট দিন। মার্কা আছে?

আছে...আরে কোন সে মার্কা?

হিলারি : বস্তি বস্তিই থাকবেন। ওপরে আর উঠতে পারবেন না।

ট্রাম্প : বস্তির ওরা কি মানুষ না? বস্তিবাসী জাগো। জনগণের পাশে থাকবেন বলে বলে বস্তির মানুষকে নিচু করতেছেন। আপনার কালা বারেক তো ওই বস্তি থেকে উঠে আসছিল।

হিলারি : বারেক ভাইরে কিছু বলবেন না। উনি আমার পাশে আছেন। উনি পাশে থাকতে কোনো ভয় নাই।

ঘো ডি : আপনারা আপনাদের বক্তব্য শেষ করুন।

হিলারি : সবার কাছে অনুরোধ, আজেবাজে লোককে ভোট দেবেন না। ভোট মূল্যবান সম্পদ। গরু-ছাগলে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন না।

ট্রাম্প : যে গরুকে মানুষ ব্যঙ্গ করছে, সেই গরু আমাদের দুধ দেয়। দুধ দেওয়া গরু লাথি দিলেও ভালো। আমি লাথি দেব না। ভালোবেসে সবাইকে কাছে টেনে নেব। গরু মার্কায় ভোট দেবেন, আর সবাই পূজার ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার সময় বাড়িতে তালা দিয়ে যাবেন। ধন্যবাদ।

ঘো ডি : আপনাদেরও ধন্যবাদ।


মন্তব্য