kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলা সিনেমার ডাক্তার

বাংলা সিনেমার ডাক্তাররা কাকে বাঁচাতে পারেন, কাকে পারেন না, সেই কথা জানাচ্ছেন রফিকুল ইসলাম কামাল এঁকেছেন বিপ্লব

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলা সিনেমার ডাক্তার

নায়কের মা-বাবা

সিনেমায় নায়কের মা কিংবা বাবা অথবা ওনাদের উভয়েরই যদি সামান্য জ্বরও হয়, তবু ডাক্তার তাদের বাঁচাতে পারেন না! বিশেষ করে ছবির শুরুতে দেখা যায়, নায়কের মা-বাবা ভিলেনের আক্রমণে আহত হয়ে মারা যান। ডাক্তার তাদের বাঁচাতে পারেন না।

এর কারণ হচ্ছে, ডাক্তার যদি তাদের বাঁচিয়ে দেন, তবে ছবিই তো মাটি! মা-বাবা থাকলে নায়ক কষ্ট সহ্য করে বড়লোক হয়ে ধনীর দুলালি নায়িকাকে বিয়ে করার চ্যালেঞ্জ নেবেন কী করে!

 

নায়কের ভাইবোন

ডাক্তার যতই অভিজ্ঞ কিংবা বিশেষজ্ঞই হোন না কেন, তিনি নায়কের ভাইবোনকে সামান্য রোগের হাত থেকেও বাঁচাতে পারবেন না! নায়কের ভাইবোন হয়তো উষ্ঠা খেয়ে পড়েছেন। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তারদের শত চেষ্টার পরও তাঁরা মারা যাবেনই! এ ক্ষেত্রে উষ্ঠা খেয়ে মানুষ কী করে মারা যেতে পারে, এসব যুক্তি খোঁজা অর্থহীন!

 

ভিলেন

ডাক্তার কেন, ডাক্তারের চৌদ্দগোষ্ঠী মিলেও সিনেমার ভিলেনকে বাঁচাতে পারবেন না! তবে সিনেমার শেষ দৃশ্য পর্যন্ত ভিলেন বেঁচে থাকবেন। এরপর তিনি নায়কের এক ঘুষিতেই পটল তুলে ফেলবেন! সিনেমার পরিচালক কোনোভাবেই ভিলেনকে বাঁচিয়ে রাখার ঝুঁকি নেবেন না! কারণ ভিলেন বেঁচে থাকলে সিনেমা শেষ হবে না! অতএব, বেচারা ভিলেনকে মার খেয়েই মরতে হবে!

 

নায়ক

নায়ককে ডাক্তার কোনো চিকিৎসা না করেই বাঁচিয়ে দিতে পারেন! কারণ নায়ক না থাকলে ছবিই তো ফ্লপ! ধরুন, নায়কের ক্যান্সার হয়েছে। ডাক্তার তত্ক্ষণাৎ তাঁকে ওটিতে নিয়ে যাবেন। অপারেশন সাকসেসফুল হবে। বেঁচে যাবেন নায়ক সাহেব! স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে সবাই!

 

নায়িকা

নায়কের মতো এই ভদ্রমহিলার কপালও বেশ ভালো! ডাক্তার যদি এমবিবিএস ফেলও হয়, তা-ও নিমেষেই নায়িকাকে জটিল রোগ থেকে সুস্থ করে তুলতে পারেন! অবশ্য ডাক্তার কী চিকিৎসা করলেন সেটি এখানে মুখ্য নয়, মুখ্য হচ্ছে নায়িকাকে বেঁচে থাকতেই হবে! নায়িকা না থাকলে নায়ক খামকা ভিলেনের সঙ্গে ইয়া ঢিসুম-ঢিসুম করবে নাকি!


মন্তব্য