kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হামিদ, মতলুব এবং ডাক্তারের গল্প

মো. ঘাবিব   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



হামিদ, মতলুব এবং ডাক্তারের গল্প

দীর্ঘদিন রোগশয্যায় থাকার পর হামিদ সাহেবের অবস্থা একেবারেই খারাপ হয়ে গেল। ডাক্তার দেখেশুনে মত দিলেন, আর হয়তো বড়জোর কয়েক মাস বাঁচবেন তিনি।

পরিবারের সবার মন ভেঙে গেল। হামিদ সাহেবের স্ত্রী, যিনি এত দিন অক্লান্তভাবে স্বামীর সেবা করে চলেছিলেন, এবার বিনিদ্র রাত্রি কাটাতে লাগলেন স্বামীর শয্যাপাশে। একদিন প্রায় অচেতন অবস্থা থেকে সামান্য চেতনা ফিরে আসার পর স্ত্রীকে হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকলেন। মিসেস হামিদ স্বামীর মুখের কাছে কান নিয়ে বললেন, ‘কিছু বলবে?’

‘আজ বহু দিন রোগশয্যায় আছি আমি’, ফিসফিস করে বললেন হামিদ সাহেব। ‘সব সময় আমার পাশে আছ তুমি। মনে আছে, বছর দশেক আগে যখন আমার চাকরি চলে গেল, তখনো আমার পাশে ছিলে। এরপর আমার ব্যবসা যখন লাটে উঠল তখনো তোমাকে পাশে পেয়েছি। এমনকি আজ থেকে পাঁচ বছর আগে যখন আমার বাড়িটা পুড়ে গেল তখনো একমাত্র তুমিই আমার পাশে ছিলে। এরপর যখন আমার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়তে শুরু করল, তখনো আমার পাশে কে ছিল? তুমি, শুধু তুমিই। আর এ কারণেই, অনেক ভেবেচিন্তে একটা ব্যাপারে মনস্থির করেছি আমি। ’

‘কী মনস্থির করেছ?’ স্বামীর কাতর গলা শুনে চোখভর্তি অশ্রু নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন মিসেস হামিদ।

‘আমি মনস্থির করেছি, তুমি একটা কুফা। ’

 

শহরের সবচেয়ে নামকরা ব্যবসায়ী মতলুব মিয়া। একেবারে ছোট অবস্থা থেকে শুরু করে আজ শহরের সবচেয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একজন। মতলুব মিয়ার বয়স হয়েছে, যেকোনো সময় ওপারের ডাক এসে যাবে। এ জন্য ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চিন্তিত। মতলুব মিয়ার একটা মাত্র ছেলে, তাকে যথেষ্ট পড়াশোনা শিখিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা তিনি বেঁচে থাকতেই ছেলে ব্যবসার হাল ধরবে। কিন্তু মুশকিল হলো, বেশি পড়াশোনা করার কারণে ছেলের মুখে ব্যবসার চেয়ে নীতিনৈতিকতার কথাই বেশি শোনা যায়। একদিন ছেলেকে ব্যবসার কিছু সবক দেওয়ার জন্য ডাকলেন মতলুব মিয়া। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাকে বোঝালেন ব্যবসার নানা বিষয়। তাঁর কথা শেষ হলে ছেলে বলল, ‘বাবা, সবচেয়ে দরকারি ব্যাপারটাই তো বললে না। তা হলো নীতির ব্যাপারটা। ’ মতলুব মিয়া একটু চিন্তা করলেন, তারপর বললেন, ‘হ্যাঁ, নীতিরও দরকার আছে। নীতির ব্যাপারটা আমি একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাচ্ছি। মনে করো, তুমি একটা পার্টনারশিপ ব্যবসা করো। একদিন এক খদ্দের তোমার কাছ থেকে এক হাজার টাকার মাল কিনল এবং মাল বুঝে নিয়ে তার দাম দিয়ে চলে গেল। লোকটা চলে যাওয়ার পর তুমি খেয়াল করলে, সে এক হাজার টাকার একটা নোটের বদলে ভুল করে দুটি নোট দিয়ে চলে গেছে। এখানেই আসবে নীতির ব্যাপারটা। তুমি কি তোমার পার্টনারকে বাড়তি এক হাজার টাকার ব্যাপারটা বলবে নাকি বলবে না, এটাই হলো নীতি। ’

 

 এক ভদ্রলোক গেছেন ডাক্তারের কাছে নানা রকম রোগের উপসর্গ নিয়ে। গ্রাম থেকে এসেছেন, খুবই সহজ-সরল মানুষ। ডাক্তার সাহেবও বেশ আন্তরিক। বেশ খানিকটা সময় নিয়ে রোগীকে পরীক্ষা করলেন তিনি। তারপর বললেন, ‘আপনার রোগটা কী তা মোটামুটি আন্দাজ করতে পেরেছি। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইউরিন টেস্ট করতে হবে। ’

রোগী একটু ভড়কে গিয়ে বললেন, ‘স্যার, খারাপ কোনো রোগ না তো?’

‘আরে না। আপনি এক কাজ করুন। এই যে বোতলটা দিলাম, এর মধ্যে আপনার ইউরিন নিয়ে আগামীকাল সকাল সকাল চলে আসুন। ’

রোগী বোতলটা নিলেন। তারপর ইতস্তত করে বললেন, ‘স্যার, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?’

‘করুন। ’

‘ইউরিন টেস্ট কি আপনি করবেন, নাকি আপনার অ্যাসিস্ট্যান্ট?’

‘আমিই করব। কোনো চিন্তা করবেন না। ’

রোগী আশ্বস্ত হয়ে চলে গেলেন এবং পরদিন সকাল সকাল ফেরত এলেন। এক হাতে ডাক্তারের দেওয়া সেই বোতল আর অন্য হাতে একটা চানাচুরের প্যাকেট। ডাক্তারের হাতে বোতল তুলে দিয়ে বললেন, ‘স্যার, ইউরিন নিয়ে এসেছি। ’

‘ভালো করেছেন। ’ এই বলে রোগীর অন্য হাতের দিকে ইঙ্গিত করে ডাক্তার বললেন, ‘ওই হাতে কী?’

‘স্যার, এক প্যাকেট চানাচুর। ভাবলাম, খালি মুখে ইউরিন টেস্ট করবেন, ব্যাপারটা কেমন দেখায়। ’


মন্তব্য