kalerkantho


২০৫০ সালের একদিন

মো. সাখাওয়াত হোসেন

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



২০৫০ সালের একদিন

ঠিক দুপুর ২টায় আমার একটা পরীক্ষা আছে। দুপুরবেলা যেখানে মানুষ ভাত খেয়ে ঘুমাতে যাবে, আমাকে যেতে হবে পরীক্ষায়।

এরই নাম জীবন। দিন দিন যেটা তেজপাতার বাগান হয়ে যাচ্ছে। আর আমি জানি আমাকে কী করতে হবে। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগেই কাজটা শেষ করতে হবে।

আমি ঠিক এক ঘণ্টা আগে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। ভার্সিটি বেশি দূরে নয়। হেঁটে গেলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগে। বাসে গেলে আধা ঘণ্টার মতো। কিন্তু আমি অনেক আগেই বের হয়ে গেলাম।

কারণ আমাকে কাজটা শেষ করতে হবে। আর সেটি সহজ কিছু নয়। গলির মোড়ে গিয়ে প্রথমে আদনান ভাইয়ের কাছে গেলাম। আমরা আদনান ভাইয়ের চায়ের দোকানে বসে দিন-রাত উজির-নাজির শিকার করি। ভাবলাম, উনি আমাকে সাহায্য করতে স্বীকার করবেন। কিন্তু না, উনি পারলেন না। দিনার চাচার দোকানে গেলাম। উনি মুরগি বিক্রি করেন। আড়ালে আমরা ওনাকে ‘রানিক্ষেত’ চাচা ডাকি। কিন্তু আজকে ওনাকে ক্ষেত ডাকা যাবে না। ভদ্র আর নম্র ব্যবহার করতে হবে।

সালাম দিয়ে বললাম, ‘চাচা পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। দোয়া করবেন। ’

‘আর পরীক্ষা। পড়ালেখা কইরা লাভ কী বলো বাবা। ওই দিন আমার দোকানে মুরগি জবাই আর ড্রেসিংয়ের জন্য একটা ছেলে খুঁজতেছিলাম। যে আসছে সে অনার্স পাস। বুঝতে পারতেছ পড়ালেখার অবস্থা? ব্যবসা করো বাবা, ব্যবসা। ’

আমি এইবার আমার কাজটার কথা তুললাম। উনি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালেন। যেন বলতেছি, ‘একটা মুরগি দেন চাচা, যেটা আকাশে উড়বে। ’

— হবে না, বাবা।

আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম। একটা বেজে ২০ মিনিট। বিষ খেয়েই না মরতে হয় কে জানে। এরপর একে একে গেলাম রহিম মিয়ার কাছে, সাদেক ভাইয়ার ওষুধের দোকানে, বন্ধু আলমের (হিরো না) কাছে। কারো কাছেই আমার কাজটা হলো না। ঘেমেনেয়ে অবস্থা কেরোসিন। বুঝলাম যে আজকে পরীক্ষার বারোটা বাজবে। যেখানে ঘড়িতে বাজতেছে একটা চল্লিশ। আমি দৌড় লাগালাম ভার্সিটির দিকে।

হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই হাজার টাকার নোটটা। কারো কাছ থেকেই যেটার ভাঙতি করাতে পারি নাই।


মন্তব্য