kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

খ্যাতা

কাউসার আলম   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



খ্যাতা

আমার গার্লফ্রেন্ডের নাম মার্গারিট। এটা অবশ্য তার আসল নাম না।

আমি দিয়েছি। ওর আসল নাম ইসাবেলা তারান্তানা সোফিয়া। ফরাসি এই নারীর সঙ্গে আমার যেদিন অনলাইনে প্রথম পরিচয় হয়, সেদিনই আমি তাকে বলেছি, ‘এসব নাম কিন্তু তোমার চলবে না। তোমার নাম হবে মার্গারিট। ’

মার্গারিটের প্রেমে পড়েছি আমি সুনীলের সেই ছবির দেশে কবিতার দেশে পড়ে। তখনই ভেবে রেখেছিলাম, কখনো যদি ফরাসি কোনো নারীর সঙ্গে প্রণয় হয়, তাকেও আমি মার্গারিট বলে ডাকব। অবশেষে সেই সুযোগ এলো। সোফিয়া আমার কথা শুনে হাসির ইমো পাঠিয়ে জানাল যে আমি যদি চাই মার্গারিট হতে তার আপত্তি নেই। সে থেকেই শুরু।

মার্গারিটের সঙ্গে আমার কথাবার্তা চলে ইংরেজিতে। আমি ফ্রেঞ্চ জানি না। মার্গারিট বাংলা জানে না। আপাতত ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির ভাষাই আমাদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটার একমাত্র মাধ্যম। তবে মার্গারিট যখন রেগে যায়, রীতিমতো হাবড়জাবর করে ফ্রেঞ্চ ঝাড়তে থাকে। আমি তার মাথামুণ্ডু কিচ্ছু বুঝি না। আমিও সেই সুযোগে বাংলা ঝাড়তে থাকি। সে-ও তার ধর-পশ্চাৎ কিচ্ছু ঠাহর পায় না।

একদিন হলো কি, মার্গারিটের সঙ্গে আমার সেই রকম লেগে গেল। যাকে বলে একেবারে আদায় কাঁচকলায়। মার্গারিট রীতিমতো ফ্রেঞ্চের ঝড় বইয়ে দিচ্ছে। আর আমি দিচ্ছি বাংলায়। দুজনের সেই রকম চলছে। কেমন চলছে, তার নমুনা দিলেই বুঝবেন—

মার্গারিট বলছে, তু এচ আন মেনতিউর। পুওরকুঁয়ি তু ফাইচ কা পুওর মঁই? লা ফ্রান্স ইস্ট আন বিউ পেইস। সেইস তু ছেলা?

এসব শুনে মেজাজ ঠাণ্ডা থাকে? আমিও রেগেমেগে একেবারে বাংলা তো বাংলা ডাইরেক্ট আমার লোকাল নাটোরি ঝেড়ে দিলাম—ঘোড়ার আণ্ডা! তোমারে ফোরাসিরেক আগে তো ভালো মানুষ বুইলিই জানিচি, একন দেখি খাচ্চরের খাচ্চর। আগাগোড়াই দুই নম্বরি। তোমারে ওই রকম শিল্পসাহিত্য আমরা খ্যাতা-কাপড় বানায় বিছনিত পাইরি শুই। সোটা দিয়া কাইচি চিপি রইদে কত শুকাই। যত্ত সব এন্তুপেন্তুজেন্তু ভাষা কতে লাগিচে!

আমার বাংলার ঝড়ে অবশেষে মার্গারিটের ফ্রেঞ্চ পতন ঘটে। সে ফ্রেঞ্চ বিদায় করে আবার ইংরেজিতে ফেরে—হোয়াত ইউ আর তকিং অ্যাবাউট? আই এম নত আন্দাস্ট্যান্দিং এনি অব দিস। হোয়াট ইজ খ্যাতা?

আমি এইবার ফরাসি রাজ্য জয়ের স্বাদ মুখে নিয়ে বলি—খ্যাতা? খ্যাতা ইজ আ বেডশিট। আই মিন ওয়ার্ম ক্লোথ ওন দ্য বেড। ইউ নো, খ্যাতা ইজ খ্যাতা।

ধেত্তেরিকার! কী বলতে কী বলি। খ্যাতার ইংরেজি বলতে গিয়ে আমার ইংরেজি জ্ঞান একেবারে হাঁটুতে নেমে গেল। সারা দুনিয়া তালাশ করেও খ্যাতার ইংরেজিটা মনে পড়ল না। অবশেষে ওয়ার্ম ক্লোথ বলেটলে কোনো রকমে পার পেলাম। মার্গারিট আমার নাকানিচুবানি দেখে সেদিনের মতো ক্ষান্ত দিল।

অবশ্য সব সময় যে আমাদের ঝগড়াঝাঁটি চলে তা না। সম্পর্কটা বেশ প্রেমময় বলতে হবে। ইদানীং অবশ্য মার্গারিট তার মতো বদলেছে খানিকটা। আমার সঙ্গে আর ফ্রেঞ্চ ঝাড়তে আসে না। উল্টো সেদিন তো বলেই বসল, আই ওয়ান্ত তু লার্ন বেঙ্গলি। ডু য়্যূ হেল্প মি?

আমি ভাবে গদগদ হয়ে বললাম—ইয়াহ, আই ল হেল্প য়্যূ হানি। কোত্থেকে শুরু করব?

মার্গারিট হেসে বলল, ফ্রম দ্যাট ওয়ার্দ, ‘খ্যাতা’!

 

 


মন্তব্য