kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বেঁচে যাওয়া গরুর অপ্রকাশিত ডায়েরি

মাসুদ রানা আশিক

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আমি একটা স্মার্ট গরু। সারা বছর আমারে নিয়া কেউ টানাটানি না করলেও গত কোরবানিতে আমারে নিয়া কী হুলুস্থুল কারবার! যেন আমি ভোটে দাঁড়াইছি! কচি ঘাসের মধ্যে কী যেন দিয়া আমারে তাড়াতাড়ি ঘইষা-মাইজা ফুলাইয়া ফালাইল।

তারপর মালিকে আমারে নিয়া গেল গরুর হাটে। সেখানে কত গরু রে ভাই, গরু আর গরু। আমার মনে হইল বাংলাদেশের ব্যাবাক গরু হাটে চইলা আইছে! মানুষ সেই গরুগুলা কিনা নিয়া যাইতেছে। তখনই আমার মনে হইল প্রেয়সী ফুলবানুর কথা। তারে ছাইড়া আমি কোন মুল্লুকে চইলা যামু ঠিক মালুম করতে পারলাম না। কষ্টে আমার বুকটা ফাইট্টা গ্যালো।

মানুষ আমারে নিয়া কত মুলামুলি করল। কিন্তু মালিকের দামের সঙ্গে কারো পড়তা হইল না। যেসব গরু মুলামুলিতে টিইকা কাস্টমারগোর হাতে চইলা গেল, তাগোর গলায় মালা পরাইয়া কি সোহাগেই না নিয়া যাওয়া হইলো। এভাবেই একসময় চইলা আইল কোরবানির দিন। তবুও আমারে কেউ কিনল না। আমি আবার ফেরত আইলাম মালিকের গোয়াল ঘরে। কোরবানির আগে আমারে যেমতে আদর-সোহাগ কইরা খাওয়ানো হইত এখন আর তা হয় না। আমার মালিকে দেখি চান্দিতে হাত দিয়া বইসা কী যেন ভাবে। আফসোস, সে আমারে বিক্রি করতে পারল না। কিন্তু আমি তো বেশ খুশি। অকালে প্রাণটা চইলা যাওয়া থাইকা রেহাই পাইলাম। এখন ভাবি আমার ফুলবানুর সঙ্গে কেমতে সাক্ষাত্ করুম। সে কোন যায়গায় আছে সেইডাও জানি না। নাকি সেও কোরবান হইছে বুঝবার পারতাছি না। ভাবতাছি মালিক যখন আমারে ঘাস খাওয়াইতে নিয়া যাইব তখন আমার প্রিয়তমারে খুঁজমু। ওরে খুঁইজা পাইলে জীবনটা আবার নতুন কইরা শুরু করুম।


মন্তব্য