kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

সেই কিশোর

ফখরুল ইসলাম

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সেই কিশোর

আঁকা : বিপ্লব

এক শহরে আসিফ নামের এক কিশোর বাস করত। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে সে।

এক দিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার মাকে স্কুলে ডেকে পাঠালেন। মা গেলে প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘আসিফ ইয়াং এবং ট্যালেন্টেড ছেলে। কিন্তু স্কুলে তাকে শেখানোর মতো কিছুই নেই। আপনি তাকে বাসায় নিয়ে যান। আমরা তাকে টিসি দিয়ে দিচ্ছি। ’

বিগত কয়েক বছর ধরে আসিফের রেজাল্ট খারাপ হচ্ছিল। তাই তার মা বুঝে গিয়েছিলেন যে এমনই একটা কিছু হবে। তবুও ভদ্র মহিলা খুব আকুলভাবে শিক্ষককে বললেন, ‘কিন্তু স্যার, আমি চাই আমার ছেলে পড়াশোনা করে ভালো রেজাল্ট করুক। ডাক্তার হয়ে সমাজের সেবা করুক। ’

শিক্ষক এবার কিছুটা চাঁছাছোলাভাবে বললেন, ‘আপনার ছেলের মাথায় কিছুই নেই। সে এসএসসিই পাস করতে পারবে না। আপনি তাকে অন্য স্কুলে দিয়ে দিন। আমরা ওকে আমাদের স্কুলে রেখে ১০০ শতাংশ পাসের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাই না। ’

অতঃপর মহিলা তাঁর ছেলেকে নিয়ে শহর ছেড়ে চলে গেলেন।

এক দশক পরের ঘটনা। সেই প্রধান শিক্ষকের জটিল একটা রোগ ধরা পড়ল। অপারেশন ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু সেই অপারেশন কেবল একজন ডাক্তারই করতে পারেন। সেই ডাক্তার অন্য আরেকটি শহরে বাস করেন।

শিক্ষক মহোদয় সেই শহরে গেলেন। তাঁর অপারেশন সাকসেসফুল হলো। জ্ঞান ফেরার পর তিনি তাকিয়ে দেখেন এক তরুণ ও সুদর্শন চিকিৎসক তাঁর দিকে তাকিয়ে হাসছেন।

শিক্ষক মহোদয় কিছু একটা বলতে চাচ্ছিলেন; কিন্তু বলতে পারছিলেন না। তাঁর ঠোঁট কেঁপে কেঁপে উঠছিল। কিন্তু আওয়াজ বের হচ্ছিল না। তরুণ ডাক্তার হাসি দিয়ে খুব যত্নসহকারে শিক্ষক মহোদয়ের হাত ধরে বললেন, ‘স্যার কিছু বলবেন?’

শিক্ষক মহোদয় উত্তর দিতে পারছিলেন না। ডাক্তার বললেন, ‘স্যার চিন্তার কিছু নেই। দুর্বলতা কেটে গেলেই আপনি কথা বলতে পারবেন। আপনার অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে। ’

শিক্ষকের চোখ বেয়ে পানি ঝরতে লাগল। একসময় তাঁর গলা দিয়ে স্বরও বের হলো। তিনি বলে উঠলেন, ‘আসিফ! তুই এখানে ক্লিনারের জব নিয়েছিস?’

ডাক্তারসহ অন্যরা তাকিয়ে দেখলেন রুমের কোনায় এক যুবক আবর্জনা সাফ করছে। তার নেইম প্লেটে লেখা, ‘আসিফ। ক্লিনার। ’

 

বিঃ দ্রঃ আপনি যদি গল্পটি পড়ার সময় একবারও ভেবে থাকেন, আসিফই ডাক্তার হয়েছে, তবে বুঝতে হবে ফেসবুক সেলিব্রিটিদের বেশি বেশি মটিভেশনাল পোস্ট আপনার বাস্তব জ্ঞান হরণ করেছে। আপনার এখন থেকেই মটিভেশনাল পোস্ট পড়া বন্ধ করা উচিত। কাজ করুন এবং সে অনুযায়ী ফল আশা করুন।


মন্তব্য