kalerkantho

ট্যাগ

কাউসার আলম

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ট্যাগ

এক আধুনিক দম্পতির প্রথম সন্তানের বয়স আট মাস। বাচ্চাকে প্রথম ডিম খাওয়াতে চাইলেন মা।

বাচ্চা বলল, ‘বা বা, বা বা’, ‘মা ম্মি, মা ম্মি’। মা তো অবাক, বাচ্চা বাবা বাবা মা মা করছে কেন? অনেক চিন্তা করে বুঝলেন, বাচ্চা কী চাচ্ছে। মা-বাবা দুজনই ডিম থেকে কিছু অংশ খেলেন, এরপর বাচ্চাও খুশি মনে খেলো।

মা-বাবা দারুণ খুশি, বাচ্চা তাঁদের এত ভালোবাসে।

পরদিন খাওয়ার সময় মা-বাবা খাওয়ার পরও বাচ্চা খাচ্ছে না। ‘বু য়া, বু য়া’ বলতে থাকল। এবার ডিম থেকে বুয়াও খেলো। বাচ্চা হাসিমুখে খাওয়া শুরু করল। কয়েক দিন পর বাচ্চার দাদা-দাদি এলেন বাসায়।

একই ঘটনা। মা-বাবা, দাদা-দাদি, বুয়া সবাই তার প্লেট থেকে খেলে তবেই সে খাওয়া শুরু করে।

কিছুদিন পর তার জন্য নতুন জামা আনা হলো, এবার তার বায়না হলো সবাইকে একবার করে তার জামা পরতে হবে। কোনো কিছুতেই তাকে বোঝানো যাচ্ছে না। অবশেষে সে এই শর্তে রাজি হলো, পুরো বাসার (পাঁচ তলা) সবাইকে জামা দেখাতে হবে, তবেই সে পরবে। তাই করা হলো।

মা-বাবা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। বহু ডাক্তার-কবিরাজ দেখালেন। ফেসবুকে বন্ধুদের ট্যাগ করে পোস্ট দিয়েও এর সমাধান পেলেন না।

এদিকে ছোট্ট মেয়েটার উত্পাত বেড়েই চলছে। তার জন্য নতুন বই আনা হলো। পুরো বাসার সবাইকে (৫৬ জন) এক অক্ষর করে পড়তে হলো, না হলে সে নিজে পড়তে বসবে না। পাড়ার সবার বাসা এমনকি সে পাশের দোকানেও বই নিয়ে গেল। সবাইকে এক অক্ষর করে পড়িয়ে তবেই সে বাসায় এলো।

মা-বাবা প্রায় মানসিক রোগী হয়ে পড়লেন। কোনো কিছুতেই বাচ্চার এ অবস্থা দূর হলো না।

মা-বাবা যখন পাগলপ্রায়, তখনই এক দরবেশের আগমন। দরবেশ বললেন, ‘এই রোগের চিকিৎসা হলো, তোরা দুজন টানা তিন দিন কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকবি। ’

মা-বাবা প্রথমে রাজি না হলেও পরে রাজি হলেন। টানা তিন দিন দাঁড়িয়ে থাকার পর দেখলেন, সত্যি সত্যিই বাচ্চার রোগ ভালো হয়ে গেল। তাঁরা খুশিতে চিত্কার করে উঠলেন।

মা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কানে ধরার মোজেজা কী?’

দরবেশ জবাব দিলেন, ‘আরে, কানে ধরার কোনো মোজেজা নেই। কান ধরে থাকার কারনে তোরা দুজন তিন দিন ফেসবুক চালাসনি। তাতেই ও ভালো হয়ে গেছে। আসলে তোদের বাচ্চাটা ট্যাগোলোমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তোদের কাছ থেকেই সে এ রোগটা পেয়েছে। তোরা ফেসবুকে ঢুকলেই মানুষকে ট্যাগ করতি। রেস্টুরেন্টে খাইতে গেলে চেক ইন দিয়ে ২৫ জনকে ট্যাগ করতি, এক লাইনের পোস্টে ৫০ জনকে ট্যাগ করতি আর ছবি আপলোড করলে তো কথাই নেই। ৯৯৯ জনকে ট্যাগ। সেখান থেকে এই রোগটা তোর মেয়ের মধ্যে ঢুকেছিলো। আর কখনো কাউকে ট্যাগ করিস না। তোদের মেয়ে ভালো হয়ে যাবে!’


মন্তব্য