kalerkantho

এলেবেলে

আদিত্য রহিম

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এলেবেলে

বহু দিন যুদ্ধের ময়দানে কাটিয়ে অবশেষে টম নামে এক সৈনিকের নিজ শহরে ফেরার সময় হয়ে এলো। যথাসময়ে দুই পুত্রকে নিয়ে রেলস্টেশনের দিকে রওনা দিলেন টমের স্ত্রী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একসময় ধীরে ধীরে স্টেশনে এসে থামল সৈন্যবাহী ট্রেন। সারি বেঁধে নেমে এলো সৈন্যের দল। আনন্দের ব্যাপার, সারির একেবারে প্রথম ব্যক্তিই টম! দীর্ঘদিন পর স্ত্রী-সন্তানদের দেখে আবেগে আপ্লুুত হয়ে তাদের জড়িয়ে ধরলেন তিনি। বড় ছেলে হ্যারি আগে বাবাকে দেখেছে, কিন্তু ছোট জিমের জন্ম হয়েছে বাবা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার পর। যা-ই হোক, স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে কিছু সময় কাটানোর পর সবাইকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলেন টম। ছোট জিম প্রথমে একটু আড়ষ্ট থাকলেও পরে ধীরে ধীরে সহজ হয়ে এলো বাবার সঙ্গে।

বিকেলবেলার কথা। বাড়ির বারান্দায় বসে দুই ভাই খেলছিল, এমন সময় ছোট জিম কী এক কারণে বড় ভাই হ্যারির পিঠে দুম দুম করে দুটি কিল বসিয়ে দিল। হ্যারি গিয়ে নালিশ দিল বাবার কাছে। টম তখন জিমকে মৃদু বকুনি দিয়ে দিল। জিম কতক্ষণ চোখ গরম করে বাবার দিকে তাকিয়ে থাকল, তারপর দুপদাপ পা ফেলে মায়ের কাছে গিয়ে বলল, ‘ট্রেন থেকে সবার আগে নেমেছে বলে ওকেই বেছে নিতে হবে? আরেকটু অপেক্ষা করলে তো ভালো কাউকে পেতে!’

এক গ্রামে বাস করতেন এক বৃদ্ধ। তিনি প্রায়ই আবহাওয়া নিয়ে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করতেন, যা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যেত। গ্রামের গণ্ডি ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল তাঁর এ খ্যাতি। এভাবেই একসময় দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে গেল তাঁর সুনাম। বিদেশি এক পত্রিকা তাই একজন সাংবাদিককে পাঠাল বৃদ্ধের সাক্ষাত্কার নেওয়ার জন্য। ভদ্রলোক এসে বৃদ্ধকে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কাল আবহাওয়া কেমন হবে?’

বৃদ্ধ ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে জবাব দিলেন, ‘অনেক বৃষ্টি। অনেক পানি। ’

কী আশ্চর্য, পরদিন ঠিকই প্রচুর বৃষ্টিপাত হলো এবং বৃদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী মোতাবেক পানিতে থই থই করতে লাগল চারদিক।

সাংবাদিক ভদ্রলোক তো খুবই ইমপ্রেসড। তিনি পরদিন আবার বৃদ্ধের কাছে গেলেন। গিয়ে আবার একই প্রশ্ন করলেন, কাল আবহাওয়া কেমন থাকবে?

বৃদ্ধ আগের মতোই ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বললেন, ‘অনেক কুয়াশা। অনেক ঠাণ্ডা। ’

পরদিন দেখা গেল, ঠিক তাই। প্রচণ্ড শীত পড়ল। কুয়াশার চাদরে ঝাপসা হয়ে গেল চারদিক। বিদেশি সাংবাদিক তো রীতিমতো বাকরুদ্ধ। আবার গেলেন তিনি বৃদ্ধের কাছে। জানালেন, বৃদ্ধের নির্ভুল পূর্বাভাসে তিনি খুবই আশ্চর্য হয়েছেন। ‘এবার বলুন’, তিনি বললেন, ‘আগামীকাল আবহাওয়া কেমন যাবে?’

কিন্তু না, এবার আর কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করলেন না বৃদ্ধ। শুধু মাথা নেড়ে বললেন, ‘জানি না। রেডিও ভাঙা। ’

 

সনি ক্লাস টুতে পড়ে। বেশ মনোযোগী ছাত্র, এ জন্য শিক্ষকরা তাকে বেশ পছন্দ করেন। একদিন অঙ্কের ক্লাসে ম্যাডাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘সনি, আমি যদি তোমাকে দুটি খরগোশ দিই, তারপর আরো দুটি এবং তারপর আরো দুটি; তাহলে তোমার কয়টা খরগোশ হবে?’

সনি গুনেটুনে উত্তর দিল, ‘সাতটি। ’

ম্যাডাম অবাক হলেন। কারণ এর চেয়েও কঠিন অঙ্ক এর আগে করেছে সে। তিনি বললেন, ‘মনোযোগ দিয়ে শোনো সনি। তোমাকে আমি দুটি খরগোশ দিলাম, তারপর দিলাম আরো দুটি এবং তারপর আরো দুটি। এবার হিসাব করে উত্তর দাও তোমার কয়টা খরগোশ হলো?’

সনি সতর্কতার সঙ্গে গুনে উত্তর দিল, ‘সাতটি। ’

ম্যাডাম বেশ বিরক্ত হলেও মাথা ঠাণ্ডা রেখে বললেন, ‘এসো, অঙ্কটা আমরা অন্যভাবে করি। তোমার কাছে দুটি বেলুন আছে, আমি তোমাকে আরো দুটি বেলুন দিলাম, তারপর দিলাম আরো দুটি বেলুন। তোমার তাহলে কয়টা বেলুন হলো?

সনি গুনে বলল, ‘ছয়টি। ’

ম্যাডাম খুশি খুশি গলায় বললেন, ‘গুড বয়। এবার বলো, তোমাকে দুটি খরগোশ দিলাম, তারপর আরো দুটি এবং তারপর আরো দুটি। তোমার তাহলে কয়টা খরগোশ হলো?’

সনি আঙুলে গুনে বলল, ‘সাতটি। ’

ম্যাডাম এবার মেজাজ খারাপ করে বললেন, ‘দুটির সঙ্গে দুটি, তারপর আরো দুটি যোগ করলে সাতটি খরগোশ কিভাবে হয়?

সনি বলল, ‘ম্যাডাম আমার যে বাড়িতে আগে থেকেই একটি খরগোশ আছে!’


মন্তব্য